ব্রেকিং
নিউইয়র্কের গভর্নর নির্বাচন ঘিরে হোকুল-ব্লেকম্যানের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, ভোটের আগে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপচীনের কড়া হুঁশিয়ারি, দুর্নীতিবাজদের রেহাই নেই পদমর্যাদা কিংবা অতীতের অবদানেওফ্রান্সে পাঁচ লাখের বেশি মানুষের বিক্ষোভ, আগুনে পুড়ল ঐতিহাসিক নগর ভবনইরান সংঘাতের আগুনে টালমাটাল বিশ্ব অর্থনীতি, তেল-জ্বালানির ঊর্ধ্বগতিতে চাপে যুক্তরাষ্ট্রসহ বহু দেশট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র, ‘নো কিংস’ সমাবেশ থেকে আগাম ভোটের ডাক

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখার জোরালো আহ্বান জানাল বাংলাদেশ

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ, বাগদাদে মুসলিম দেশগুলোর সহযোগিতা চেয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখার জোরালো আহ্বান জানাল বাংলাদেশ
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখার জোরালো আহ্বান জানাল বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে মুসলিম দেশগুলোর বৃহত্তম আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থাসহ বিশ্বসম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ইরাকের রাজধানী বাগদাদে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের ৫২তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়ে বক্তব্য দেন তিনি। ১৮ অক্টোবর প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে বৈঠকে বাংলাদেশের অবস্থানের বিস্তারিত উঠে এসেছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে এবং স্থায়ীভাবে ফিরে যাওয়ার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের ওপর কার্যকর চাপ বজায় রাখারও আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশের এই আহ্বান এমন এক সময়ে এসেছে, যখন দীর্ঘদিন ধরে চলা রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও প্রত্যাবাসনের নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো নিশ্চিত হয়নি। ফলে কক্সবাজারের শরণার্থীশিবিরগুলোতে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ১২ লাখ ৬ হাজার ৫২৮ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১১ লাখ ৭৩ হাজার ২৯১ জন কক্সবাজারের বিভিন্ন শিবিরে এবং ৩৩ হাজার ২৩৭ জন নোয়াখালীর ভাসানচরে বসবাস করছিলেন। বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘের যৌথ উপাত্তে এই হিসাব প্রকাশ করা হয়েছে।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা ও নিপীড়নের মুখে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। এরপর প্রায় এক দশক ধরে তাঁদের একটি বড় অংশ কক্সবাজারের ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থীশিবিরে বসবাস করছেন। তাঁদের খাদ্য, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা কাজ করছে।

তবে দীর্ঘমেয়াদি শরণার্থী পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত চাপ তৈরি করেছে। শিবিরগুলোর জনঘনত্ব, সীমিত জীবিকার সুযোগ এবং পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। নতুন করে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত মানুষের আগমনও সংকটের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে গেলে তাঁদের নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের নিশ্চয়তা থাকবে কি না। শুধু শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিলেই সংকটের সমাধান হবে না। তাঁদের স্বেচ্ছায় ফেরার অধিকার, নিরাপত্তা, চলাচলের স্বাধীনতা এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তাহীনতা প্রত্যাবাসনের পথে বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিভিন্ন মূল্যায়নেও বলা হয়েছে, সেখানে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা এখনো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। তাই জোরপূর্বক প্রত্যাবাসনের পরিবর্তে স্বেচ্ছায় ফেরার উপযুক্ত পরিস্থিতি তৈরি করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য সহযোগিতা চেয়েছে। জাতিসংঘ, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারের সঙ্গে আলোচনা ও কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে সংকট নিরসনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ঢাকা। বাংলাদেশের অবস্থান হলো, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে হওয়ায় এর দীর্ঘমেয়াদি সমাধানও সেখানে নিশ্চিত করতে হবে।

বাগদাদের বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মুসলিম দেশগুলোর ঐক্য ও সমন্বিত উদ্যোগের ওপরও গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ বজায় রাখা সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এদিকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখাও বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক তহবিলের ঘাটতি হলে খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা ও সুরক্ষাসেবার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ফলে প্রত্যাবাসনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক সহায়তা নিশ্চিত করাও জরুরি।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান একক কোনো দেশের পক্ষে নিশ্চিত করা কঠিন। মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা, আঞ্চলিক দেশগুলোর সক্রিয় ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ধারাবাহিক কূটনৈতিক চাপ একসঙ্গে প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রত্যাবাসনপ্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গাদের মতামত ও অধিকারকে গুরুত্ব দিতে হবে।

তবে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাগদাদের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে; নতুন কোনো প্রত্যাবাসন শুরুর তারিখ বা চূড়ান্ত সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি। তাই এই কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান হিসেবে দেখা গেলেও এটিকে প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার নিশ্চিত ঘোষণা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

বাংলাদেশের প্রত্যাশা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার হলে মিয়ানমারে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার পরিবেশ তৈরিতে অগ্রগতি সম্ভব হবে। দীর্ঘদিনের এই মানবিক সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য কার্যকর উদ্যোগ, মানবাধিকার রক্ষা এবং ধারাবাহিক কূটনৈতিক তৎপরতাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


ট্যাগ: রোহিঙ্গারোহিঙ্গা_প্রত্যাবাসনবাংলাদেশমিয়ানমারকক্সবাজারআন্তর্জাতিক_সংবাদমানবিক_সংকট

প্রতিবেদক

CSB News USA

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।