ব্রেকিং
ইরান সংঘাতের আগুনে টালমাটাল বিশ্ব অর্থনীতি, তেল-জ্বালানির ঊর্ধ্বগতিতে চাপে যুক্তরাষ্ট্রসহ বহু দেশট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র, ‘নো কিংস’ সমাবেশ থেকে আগাম ভোটের ডাকইলহান ওমরের নাগরিকত্ব নিয়ে তদন্ত, পুরোনো নথি ঘিরে নতুন বিতর্ক যুক্তরাষ্ট্রেট্রাম্পের নতুন শিক্ষাবৃত্তি পরিকল্পনা, ২০২৭ সালে গৃহশিক্ষায় মিলতে পারে আর্থিক সুবিধাউইচিটায় ফুটবল মাঠে গাড়ির তাণ্ডব, নিহত শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক, আহত বহুজন, তদন্তে নতুন প্রশ্ন

মেক্সিকোর উপকূলে নৌকাডুবি, হাঙরের কামড়ে আহত উদ্ধারকৃতরা, নিখোঁজ ১১ জন

মেক্সিকোর বাজা ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে ২৭ আরোহী নিয়ে নৌযানডুবির ঘটনায় ১৬ জন উদ্ধার, নিখোঁজ ১১ জনের সন্ধানে চলছে অভিযান।

মেক্সিকোর উপকূলে নৌকাডুবি, হাঙরের কামড়ে আহত উদ্ধারকৃতরা, নিখোঁজ ১১ জন
মেক্সিকোর উপকূলে নৌকাডুবি, হাঙরের কামড়ে আহত উদ্ধারকৃতরা, নিখোঁজ ১১ জন

মেক্সিকোর বাজা ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে একটি নৌযানডুবির ঘটনায় ১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের সন্ধানে সমুদ্র ও আকাশপথে ব্যাপক তল্লাশি চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর উদ্ধারকারী দল। এ ঘটনায় ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের কয়েকজনের শরীরে হাঙরের কামড়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ গুরুতর ক্ষত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলরক্ষী বাহিনী। তবে নৌযানটি কী কারণে ডুবে গেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

১৮ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ভোরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুসারে, নৌযানটিতে মোট ২৭ জন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৬ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকি ১১ জনের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলরক্ষী বাহিনী, নৌবাহিনী এবং মেক্সিকোর নৌবাহিনী যৌথভাবে নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালায়। অভিযানে একাধিক হেলিকপ্টার, আকাশযান এবং উদ্ধারকারী নৌযান ব্যবহার করা হয়। সাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে নিখোঁজদের সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা করছেন উদ্ধারকর্মীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলরক্ষী বাহিনীর কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত পেরিয়ে ভোররাত প্রায় একটার দিকে ডুবতে থাকা নৌযান থেকে বিপৎসংকেত পাঠানো হয়। নৌযানটি ডুবে যাচ্ছে বলে বার্তা পাওয়ার পর উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়।

উপকূলরক্ষী বাহিনীর কর্মকর্তা সান্তিয়াগো তাম্বুরিনির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিপৎসংকেত পাওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টা পর একটি উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তখন আর নৌযানটি পানির ওপর দেখা যাচ্ছিল না। পানিতে ভাসমান অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধার করতে উদ্ধারকর্মীদের প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় লাগে।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের কেউ কেউ পানিতে ভাসমান ধ্বংসাবশেষ আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছিলেন। কয়েকজনের শরীরে জীবনরক্ষাকারী জ্যাকেটও ছিল। উত্তাল বা প্রতিকূল সমুদ্রে দীর্ঘ সময় পানিতে থাকা মানুষের জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে। ফলে নিখোঁজ ব্যক্তিদের দ্রুত খুঁজে বের করাই উদ্ধারকারীদের প্রধান লক্ষ্য হয়ে ওঠে।

উদ্ধার অভিযানের মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হয়ে উঠেছে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের কয়েকজনের গুরুতর আঘাত। যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলরক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া কয়েকজনের শরীরে হাঙরের কামড়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ক্ষত ছিল। সান ডিয়েগোর দিকে নেওয়ার পথে তাঁদের জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আহতদের কয়েকজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনের শরীরে হাঙরের কামড়ের সন্দেহজনক ক্ষত পাওয়া যাওয়ার কথা আগের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। আরও কয়েকজনকে দীর্ঘ সময় ঠান্ডা পানিতে থাকার কারণে সৃষ্ট শারীরিক সমস্যার চিকিৎসা দেওয়া হয়। অন্তত দুজনের অবস্থা গুরুতর ছিল বলে দুর্ঘটনার প্রাথমিক পর্যায়ে জানানো হয়েছিল।

তবে এ ঘটনায় হাঙরের ভূমিকা নিয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের আঘাতের ধরন হাঙরের কামড়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। কিন্তু হাঙরের আক্রমণেই নৌযানটি ডুবে গেছে, এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। নৌযানডুবির কারণ এবং দুর্ঘটনার আগে কী ঘটেছিল, তা তদন্তের বিষয় ।

দুর্ঘটনাটি ঘটেছে মেক্সিকোর বাজা ক্যালিফোর্নিয়া অঞ্চলের এনসেনাদা উপকূল থেকে প্রায় ২২৫ কিলোমিটার পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগরে। এলাকাটি মাছ ধরার নৌযান ও অবকাশযাপনে ব্যবহৃত নৌযানের চলাচলের জন্য পরিচিত। একই সঙ্গে এই সামুদ্রিক পথ দিয়ে অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার ঘটনাও অতীতে ঘটেছে।

তবে দুর্ঘটনাগ্রস্ত নৌযানটি ঠিক কী উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল, কোথা থেকে এসেছিল কিংবা কোথায় যাচ্ছিল, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত তথ্য দেয়নি। তাই নৌযানটি অভিবাসী পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে চূড়ান্তভাবে দাবি করার সুযোগ নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলরক্ষী বাহিনীর কর্মকর্তা চার্লি ভ্যালর জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের জলসীমার বাইরে ঘটলেও বিপদগ্রস্ত মানুষদের সহায়তায় তারা উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে।

মেক্সিকোর সান ডিয়েগো কনস্যুলেট জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা মেক্সিকোর নাগরিক। তাঁদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে দুর্ঘটনার পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছে।

২৭ জন আরোহীর মধ্যে ১৬ জনকে উদ্ধার করার পরও ১১ জনের নিখোঁজ থাকার বিষয়টি উদ্ধার অভিযানকে আরও জটিল করে তুলেছে। সমুদ্রের বিস্তীর্ণ এলাকায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন। পানির স্রোত, ঢেউ এবং দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার কারণে তাঁদের অবস্থান পরিবর্তিত হয়ে থাকতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলরক্ষী বাহিনী ও নৌবাহিনীর পাশাপাশি মেক্সিকোর নৌবাহিনীও অনুসন্ধানে সহযোগিতা করছে। আকাশপথে হেলিকপ্টার ও অন্যান্য আকাশযান দিয়ে এলাকা পর্যবেক্ষণ এবং সমুদ্রপথে উদ্ধারকারী নৌযানের মাধ্যমে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

এ ধরনের দুর্ঘটনায় প্রথম কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিখোঁজ ব্যক্তিরা পানিতে ভাসমান কোনো বস্তু আঁকড়ে ধরে থাকলে বা জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম ব্যবহার করতে পারলে তাঁদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা থাকতে পারে। এ কারণে উদ্ধারকারী দল নিখোঁজদের খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। 

বাজা ক্যালিফোর্নিয়া ও ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলসংলগ্ন সামুদ্রিক পথে অতীতেও নৌযানডুবির ঘটনায় প্রাণহানির নজির রয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তের উত্তরে একটি নৌযান উল্টে অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছিল। ২০২৩ সালেও সান ডিয়েগো উপকূলের কাছে নৌযানডুবির ঘটনায় আটজন প্রাণ হারান বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব ঘটনা সমুদ্রপথে অনিরাপদ যাত্রার ঝুঁকি আবারও সামনে এনেছে। ছোট নৌযানে অতিরিক্ত যাত্রী বহন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তাসামগ্রীর অভাব, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং প্রতিকূল সামুদ্রিক পরিস্থিতি দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে বর্তমান দুর্ঘটনায় এসবের কোনটি ভূমিকা রেখেছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১১ নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। তাঁদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা এখনো জানা যায়নি। একই সঙ্গে আহতদের চিকিৎসা এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।


ট্যাগ: মেক্সিকোবাজাক্যালিফোর্নিয়ানৌযানডুবিউদ্ধারঅভিযাননিখোঁজপ্রশান্তমহাসাগর

প্রতিবেদক

CSB News USA

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।