আবর্জনা-অপরিচ্ছন্নতায় ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী, আজিমপুর কোয়ার্টার বদলাতে দিলেন দুই সপ্তাহ
আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী আবাসিক এলাকার অপরিচ্ছন্নতা দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, দুই সপ্তাহে উন্নতির নির্দেশ দিয়েছেন।
রাজধানীর আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী আবাসিক এলাকার অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পুরো এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে বসবাসের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুই সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে আবাসিক এলাকার রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা ও পরিবেশগত সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী আবাসিক এলাকায় আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে এসব নির্দেশ দেন তিনি। সরকারি আবাসন এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি ও বাসিন্দাদের বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এবং অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী আবাসিক এলাকার বিভিন্ন অংশ, চলাচলের পথ ও আশপাশের পরিবেশ ঘুরে দেখেন। এ সময় পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি চোখে পড়লে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে এর কারণ জানতে চান তিনি। আবাসিক এলাকার রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আবাসিক এলাকার সার্বিক পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান উন্নতি নিশ্চিত করতে হবে। শুধু সাময়িকভাবে পরিষ্কার করাই নয়, এলাকার পরিবেশ যাতে নিয়মিত পরিচ্ছন্ন ও বসবাসের উপযোগী থাকে, সে জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক এলাকায় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জনস্বাস্থ্য ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আবর্জনা জমে থাকা, অপরিচ্ছন্ন চলাচলের পথ কিংবা পানি নিষ্কাশনের সমস্যা থাকলে বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও অসুস্থ বাসিন্দাদের জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। তবে আজিমপুর আবাসিক এলাকার ঠিক কোন কোন স্থানে কী ধরনের সমস্যা রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত সরকারি তালিকা প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
পরিদর্শনের সময় আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তাঁদের অভিযোগের মধ্যে ছিল এলাকার অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ। বাসিন্দারা আবাসিক এলাকার পরিবেশ উন্নয়ন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানান।
প্রধানমন্ত্রী তাঁদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। বাসিন্দাদের অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় কী কী নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে, সরকারি আবাসনে উপভাড়া দেওয়ার বিষয়টিও পরিদর্শনের সময় আলোচনায় আসে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, সরকারি কোয়ার্টারে অন্য কাউকে উপভাড়া দেওয়া বৈধ কি না এবং এমন ব্যবস্থা কীভাবে চলছে। তবে সংশ্লিষ্ট আবাসনের ক্ষেত্রে উপভাড়া দেওয়ার নিয়ম, অনুমোদন এবং কোনো নির্দিষ্ট অনিয়মের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। তাই বিষয়টিকে প্রমাণিত অনিয়ম হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
আজিমপুরের এই পরিদর্শন রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা ও জনস্বাস্থ্য রক্ষার বৃহত্তর উদ্যোগের সঙ্গেও সম্পর্কিত। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও ডেঙ্গু প্রতিরোধের উদ্যোগ দেখতে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন। এর মধ্যে ধানমন্ডির একটি সরকারি বিদ্যালয়, গ্রিন রোডের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী আবাসিক এলাকা এবং আজিমপুরের আবাসন এলাকা ছিল।
পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখা এবং জমে থাকা পানি অপসারণের মাধ্যমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা, পানি জমতে না দেওয়া এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি বাসিন্দাদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হয়।
আজিমপুরে পরিদর্শনের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী সেখানে বসবাসরত শিশুদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারাও বিভিন্ন স্থানে পরিদর্শন কার্যক্রমে অংশ নেন।
এখন নজর থাকবে নির্ধারিত দুই সপ্তাহের মধ্যে আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী আবাসিক এলাকার পরিচ্ছন্নতা ও বসবাসের পরিবেশে কতটা দৃশ্যমান পরিবর্তন আসে, তার ওপর। আবর্জনা অপসারণ, চলাচলের পথ পরিষ্কার রাখা, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা উন্নত করা, নিরাপত্তাসংক্রান্ত অভিযোগ পর্যালোচনা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা হলে বাসিন্দারা উপকৃত হতে পারেন। তবে এসব কাজের কোনটি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।
প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শন, দুই সপ্তাহের সময়সীমা এবং বাসিন্দাদের অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হয়েছে কি না, সে বিষয়ে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো পরবর্তী অগ্রগতির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে নির্দেশ জারির ঘটনাকে বাস্তবায়ন সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই।





