উইচিটায় ফুটবল মাঠে গাড়ির তাণ্ডব, নিহত শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক, আহত বহুজন, তদন্তে নতুন প্রশ্ন
যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যের উইচিটায় শিশুদের ফুটবল খেলায় গাড়ি ঢুকে প্রাণহানির ঘটনায় পুলিশ তদন্ত করছে; চালক হেফাজতে, দুর্ঘটনার কারণ এখনো অজানা।
যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যের উইচিটা শহরের একটি শিশুদের ফুটবল মাঠে গাড়ি ঢুকে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার ঘটনায় দুইজন নিহত এবং অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছয় বছর বয়সী একটি শিশু ও ৩৫ বছর বয়সী একজন পুরুষ রয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার, ১৭ অক্টোবর, স্ট্রাইকার ক্রীড়া কমপ্লেক্সে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, গাড়িচালক ৩৪ বছর বয়সী এক নারীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি কেন মাঠের ভেতরে গাড়ি নিয়ে প্রবেশ করেছিলেন, সেটি দুর্ঘটনা, শারীরিক অসুস্থতা নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার বিকেল প্রায় ৩টা ২৫ মিনিটে জরুরি সেবাকেন্দ্রে একের পর এক ফোন আসতে শুরু করে। খবর পেয়ে পুলিশ, দমকলকর্মী ও জরুরি চিকিৎসাসেবার কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে একটি শিশুদের ফুটবল খেলা চলছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, একটি কালো পণ্যবাহী গাড়ি মাঠের মধ্যে ঢুকে একাধিক ব্যক্তিকে ধাক্কা দেয়। পরে গাড়িটি মাঠের ভেতরেই থেমে যায়। আহতদের উদ্ধারে উপস্থিত ব্যক্তিরাও এগিয়ে আসেন। কয়েকজনকে জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।
উইচিটা পুলিশের ক্যাপ্টেন অ্যারন মোজেস জানিয়েছেন, এ ঘটনায় একজন শিশু ও একজন প্রাপ্তবয়স্কের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। পরবর্তী হালনাগাদ তথ্যে নিহত শিশুটির বয়স ছয় বছর এবং পুরুষটির বয়স ৩৫ বছর বলে জানানো হয়। তাঁরা দুজনই ম্যাকফারসন এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল না। নিহতদের পরিবারের প্রতি সম্মান জানিয়ে কর্তৃপক্ষ তাঁদের পরিচয় প্রকাশের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করেছে।
পুলিশের পরবর্তী তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় গুরুতর ধরনের আঘাত নিয়ে ১০ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। আহতদের মধ্যে পাঁচ, আট ও নয় বছর বয়সী শিশুও রয়েছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সের প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরাও আহত হয়েছেন। আরও একজন প্রাপ্তবয়স্ককে আঘাতবিহীন শারীরিক সমস্যার কারণে হাসপাতালে নেওয়া হয়। আহতদের সবার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য একসঙ্গে প্রকাশ করা হয়নি। তবে প্রাথমিক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানিয়েছিল, আহতদের আঘাতের মাত্রা হালকা থেকে গুরুতর পর্যায়ের মধ্যে ছিল।
ঘটনাটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও এখনো অমীমাংসিত প্রশ্ন হলো, গাড়িটি কীভাবে ফুটবল মাঠে প্রবেশ করল এবং চালক তখন কী পরিস্থিতির মধ্যে ছিলেন। সাংবাদিকেরা পুলিশকে জিজ্ঞাসা করেন, চালক ঘুমিয়ে পড়েছিলেন কি না, তাঁর কোনো শারীরিক সমস্যা হয়েছিল কি না এবং তিনি তদন্তকারীদের কী বলেছেন। জবাবে ক্যাপ্টেন মোজেস জানান, কী ঘটেছে সে বিষয়ে তদন্তকারীদের একটি ভালো প্রাথমিক ধারণা রয়েছে। কিন্তু ঠিক কীভাবে এবং কেন ঘটনাটি ঘটেছে, তা নির্ধারণের জন্য তদন্ত চলছে। মানুষের এসব প্রশ্নের উত্তর পুলিশও খুঁজছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পুলিশের এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, তদন্তকারীরা ঘটনাপ্রবাহ পুনর্গঠন করার চেষ্টা করছেন। তবে প্রাথমিক ধারণা থাকা আর ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া এক বিষয় নয়। কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত চালকের ঘুমিয়ে পড়া, অসুস্থ হয়ে পড়া কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়ি চালিয়ে মানুষের ওপর উঠে যাওয়ার কোনো কারণকে চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করেনি। ফলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দাবি যাচাই ছাড়া সত্য বলে প্রচার করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিপন্থী হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, গাড়ি চালানোর সময় ওই নারীর সঙ্গে গাড়িতে আরও দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী ছিলেন। তাঁর নিজের একটি সন্তানও ওই ক্রীড়া কমপ্লেক্সে ফুটবল খেলছিল, যদিও দুর্ঘটনাটি যে মাঠে ঘটে, শিশুটি সেখানে খেলছিল না। তদন্তের স্বার্থে চালকের ব্যক্তিগত পরিচয় ও ঘটনার পেছনের কারণ সম্পর্কে সব তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ তাঁকে হেফাজতে রেখেছে। তবে হেফাজতে থাকা মানেই আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়; তদন্তের ফলাফল ও সম্ভাব্য অভিযোগ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্যের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
ঘটনার পর ক্রীড়া কমপ্লেক্সের সব কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাতিল করা হয়। নগর কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে ঘটনাস্থল এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানায়, যাতে উদ্ধারকাজ ও তদন্ত নির্বিঘ্নে পরিচালনা করা যায়। একই সঙ্গে পুলিশ প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে ঘটনার সময় ধারণ করা ছবি, ভিডিও কিংবা অন্য কোনো প্রাসঙ্গিক তথ্য জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তদন্তে ছোট কোনো দৃশ্য বা তথ্যও গাড়িটির গতিপথ এবং দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে সহায়ক হতে পারে।
উইচিটা শহরের মেয়র লিলি উ ঘটনাটিকে গভীর শোকের দিন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। শিশুদের খেলা দেখতে আসা পরিবারগুলোর জন্য এমন পরিস্থিতি অকল্পনীয় ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই ঘটনায় স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গন ও পরিবারগুলোর মধ্যে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
এখন পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য হলো একটি গাড়ি শিশুদের ফুটবল খেলার মাঠে প্রবেশ করে, এতে একটি শিশু ও একজন প্রাপ্তবয়স্ক নিহত হন এবং আরও অনেকে আহত হন। চালক পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন এবং তদন্ত চলছে। কিন্তু গাড়িটি কেন মাঠে ঢুকেছিল, চালকের কোনো শারীরিক সমস্যা হয়েছিল কি না, কিংবা ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত ছিল কি না এসব প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। তাই পুলিশের বক্তব্যকে তথ্য গোপনের প্রমাণ হিসেবে না দেখে তদন্তের অগ্রগতি ও আনুষ্ঠানিক হালনাগাদের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্তে পৌঁছানোই যুক্তিযুক্ত।





