ব্রেকিং
ডিসেম্বরের মায়ামি সম্মেলনে জেলেনস্কি-ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের সম্ভাবনা, এখনো সম্মতি দেয়নি ওয়াশিংটন-মস্কোকুইন্সে পাঁচ বছরের মেয়ের মৃত্যু, হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত মা বিনা জামিনে আটকফরাসি মেয়রকে পিটিয়ে আহত, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি ফ্রান্সেরবাদ পড়া ভোটে পাল্টে গেল হিসাব, মিশিগানে নতুন মেয়র বাংলাদেশি মুহিত মাহমুদযুক্তরাষ্ট্রে ছাঁটাই কমলেও নতুন চাকরি পাওয়া কঠিন হচ্ছে, নিয়োগের ধীরগতিতে কর্মসংস্থান নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

ডিসেম্বরের মায়ামি সম্মেলনে জেলেনস্কি-ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের সম্ভাবনা, এখনো সম্মতি দেয়নি ওয়াশিংটন-মস্কো

ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে ডিসেম্বরের জি-২০ সম্মেলনে তিন নেতার বৈঠকের সম্ভাবনা জানিয়েছেন জেলেনস্কি, তবে এখনো চূড়ান্ত সম্মতি মেলেনি কোনো পক্ষের কাছেই।

ডিসেম্বরের মায়ামি সম্মেলনে জেলেনস্কি-ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের সম্ভাবনা, এখনো সম্মতি দেয়নি ওয়াশিংটন-মস্কো
ডিসেম্বরের মায়ামি সম্মেলনে জেলেনস্কি-ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের সম্ভাবনা, এখনো সম্মতি দেয়নি ওয়াশিংটন-মস্কো

ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে নতুন করে সরাসরি আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। চলমান যুদ্ধের অবসান এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিন দেশের শীর্ষ নেতাদের একসঙ্গে বসানোর উদ্যোগ নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মায়ামিতে আগামী ডিসেম্বরের জি-২০ সম্মেলনকে সম্ভাব্য বৈঠকের স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এই উদ্যোগ এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। বৈঠকের তারিখ, অংশগ্রহণকারী নেতা কিংবা আলোচনার আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি—কোনোটিই চূড়ান্ত হয়নি। রয়টার্স ও ইউক্রেনের সংবাদমাধ্যম ইউক্রেইনস্কা প্রাভদার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ১৭ অক্টোবর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সম্ভাব্য এই বৈঠক নিয়ে কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন ও রাশিয়ার নেতাদের নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা করছে। এ ক্ষেত্রে মায়ামিতে অনুষ্ঠিতব্য জি-২০ সম্মেলন একটি সম্ভাব্য সুযোগ হতে পারে। তবে রাশিয়া কিংবা যুক্তরাষ্ট্র—কোনো দেশই এখনো এই বৈঠকের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সম্মতি দেয়নি বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।

জেলেনস্কি জানান, বৈঠক আয়োজনের জন্য শুধু যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিই বিবেচনায় নেই। মধ্যপ্রাচ্যের সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবেও এমন আলোচনা আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপের কোনো দেশেও বৈঠকটি হতে পারে। ইউরোপীয় দেশগুলোও এ বিষয়ে যোগাযোগ শুরু করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ফলে আলোচনার স্থান নির্ধারণের বিষয়টি এখনো উন্মুক্ত রয়েছে।

এই বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ইউক্রেনের পক্ষ থেকে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করা হলেও অন্য দুই পক্ষের অংশগ্রহণ এখনো নিশ্চিত নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিংবা বিভিন্ন সংবাদ পরিবেশনায় বিষয়টিকে কখনো কখনো আসন্ন বৈঠক হিসেবে তুলে ধরা হতে পারে। কিন্তু এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিন নেতার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবেই—এমন দাবি করার সুযোগ নেই। এটি সম্ভাব্য কূটনৈতিক উদ্যোগ, নিশ্চিত কোনো ঘটনা নয়।

আগামী ১৪ ও ১৫ ডিসেম্বর মায়ামিতে জি-২০ নেতাদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর নেতারা এই সম্মেলনে অংশ নেবেন। অর্থনীতি, বাণিজ্য, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সেখানে আলোচনা হওয়ার কথা। তবে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে সম্ভাব্য ত্রিপক্ষীয় বৈঠক সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে—এমন নিশ্চিত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।

এই সম্মেলনকে ঘিরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চলছে। গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছিলেন, মায়ামিতে অনুষ্ঠেয় সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য পুতিনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্রবিষয়ক মন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি এ কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য ছিল, সম্মেলনে অংশ নিলে পুতিন শুধু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেই নয়, অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গেও আলোচনা করার সুযোগ পাবেন।

তবে আমন্ত্রণ পাওয়া এবং কোনো দেশের প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগতভাবে সম্মেলনে অংশ নেওয়া এক বিষয় নয়। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এর আগে জানিয়েছিলেন, রাশিয়া আমন্ত্রণকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং কূটনৈতিক পথে সিদ্ধান্ত নেবে। পরবর্তী সময়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে সম্মেলনের কার্যক্রমে অংশগ্রহণের আগ্রহের কথা বলা হলেও পুতিন নিজে সেখানে যাবেন কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি। তাই পুতিন মায়ামিতে যাবেন কিংবা জেলেনস্কির সঙ্গে একই টেবিলে বসবেন—এমন সিদ্ধান্ত এখনই ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

জেলেনস্কি এর আগেও পুতিনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। গত ১২ সেপ্টেম্বর জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, পুতিন মায়ামির সম্মেলনে অংশ নিলে তিনি নিজেও সেখানে যেতে প্রস্তুত। সেই বক্তব্যের মাধ্যমে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আলোচনার দরজা খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে তাঁর প্রস্তুতি বা আগ্রহ রাশিয়ার সম্মতির বিকল্প নয়। দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, নিরাপত্তা এবং আলোচনার শর্ত—সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কেন গুরুত্বপূর্ণ, তা বুঝতে হলে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতার দিকে নজর দিতে হবে। ওয়াশিংটন ইউক্রেন ও রাশিয়াকে আলোচনায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। এ প্রচেষ্টায় মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে আলোচনা হয়েছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের নতুন বৈঠকের সম্ভাবনাও সামনে এসেছে। তবে আলোচনার উদ্যোগ চলমান থাকলেও যুদ্ধের অবসান ঘটানোর মতো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে নিশ্চিত তথ্য নেই।
সম্ভাব্য আলোচনায় যুদ্ধবিরতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা বন্ধের প্রশ্নটি সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় এসেছে। শীত মৌসুম সামনে আসায় বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ সচল রাখা ইউক্রেনের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য পরিবহন ও কৃষ্ণসাগর দিয়ে খাদ্যশস্য রপ্তানির নিরাপত্তাও আলোচনার সম্ভাব্য বিষয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে মায়ামির সম্ভাব্য বৈঠকে ঠিক কোন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত হয়নি।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য মনে রাখা প্রয়োজন। যুদ্ধবিরতি, শান্তিচুক্তি এবং রাজনৈতিক সমঝোতা এক বিষয় নয়। যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সাময়িকভাবে সামরিক হামলা বন্ধ করা সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদি শান্তির জন্য ভূখণ্ড, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং যুদ্ধের পরবর্তী ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমঝোতা প্রয়োজন হতে পারে। ইউক্রেন ও রাশিয়ার অবস্থানের মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় শুধু একটি বৈঠক আয়োজন করলেই যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে—এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়।
ইউক্রেনের ভূখণ্ডের ভবিষ্যৎ এবং নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চল নিয়ে দাবি করে আসছে, অন্যদিকে কিয়েভ নিজের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার অবস্থানে রয়েছে। এই মৌলিক মতপার্থক্য দূর না হলে আলোচনায় অগ্রগতি অর্জন কঠিন হতে পারে। একই সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা, বন্দিবিনিময়, বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রত্যাবর্তন এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষার বিষয়গুলোও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে গুরুত্ব পেতে পারে।

ইউরোপীয় দেশগুলোর ভূমিকা নিয়েও নতুন করে আলোচনা হচ্ছে। জেলেনস্কির বক্তব্য অনুযায়ী, ইউরোপের দেশগুলো সম্ভাব্য বৈঠকের বিষয়ে যোগাযোগ শুরু করেছে। ইউক্রেনের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রত্যক্ষ স্বার্থ রয়েছে। যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং শরণার্থী পরিস্থিতিও ইউরোপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগের পাশাপাশি ইউরোপীয় দেশগুলো কীভাবে শান্তি প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে, তা পরবর্তী সময়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন ও রাশিয়ার সম্পর্কের মধ্যে জটিলতাও রয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে জেলেনস্কি রাশিয়ার বিষয়ে মার্কিন নীতির কিছু সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আলোচনার উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে। অর্থাৎ রাজনৈতিক মতবিরোধ এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ একই সময়ে চলতে পারে। এই বাস্তবতায় তিন নেতার সম্ভাব্য বৈঠক আয়োজন করা গেলেও আলোচনার পরিবেশ কতটা অনুকূল হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান ও পারস্পরিক আস্থার ওপর।

মায়ামির সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য বৈঠকটি বাস্তবায়িত হলে তা যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধান খোঁজার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হতে পারে। একই টেবিলে ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার শীর্ষ নেতারা বসলে যুদ্ধবিরতি এবং পরবর্তী আলোচনার জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। কিন্তু এমন বৈঠকের সাফল্য নির্ভর করবে আলোচনার উদ্দেশ্য, আলোচ্যসূচি, নিরাপত্তা-সংক্রান্ত শর্ত এবং পক্ষগুলোর বাস্তবসম্মত সমঝোতার ওপর। শুধু বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়াই শান্তি প্রতিষ্ঠার নিশ্চয়তা দেবে না।


ট্যাগ: ইউক্রেনরাশিয়াযুক্তরাষ্ট্রভলোদিমির জেলেনস্কিডোনাল্ড ট্রাম্পভ্লাদিমির পুতিনমায়ামি সম্মেলনজি-২০ সম্মেলনইউক্রেন যুদ্ধশান্তি আলোচনাযুদ্ধবিরতিআন্তর্জাতিক কূটনীতি

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।