ব্রেকিং
নিউইয়র্কে ৫ বছরের শিশুর মৃত্যু, হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার মামার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইলন মাস্কের ১৫৮ মিলিয়ন ডলার, টেক্সাসের লড়াইয়ে বাড়ছে উত্তাপজর্জিয়ায় ভোটের লড়াইয়ে ট্রাম্পের প্রচার, দশ পয়েন্টে এগিয়ে ওসফের দাবি ঘিরে উত্তাপযুক্তরাষ্ট্রে চাকরির বাজারে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত, নতুন কর্মীদের জন্য কী অর্থ?রকেটের প্রযুক্তিতে আকাশে উড়ল টেসলা! ইলন মাস্কের নতুন প্রদর্শনী ঘিরে বিশ্বজুড়ে আলোচনা

নিউইয়র্কের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, ১৬ হাজার অভিবাসী নিয়ে তীব্র বিতর্ক

অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ও দণ্ডিত অভিবাসীদের আটক নিয়ে নিউইয়র্কের বিরুদ্ধে সরব যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার। পাল্টা বক্তব্য দিয়েছে অঙ্গরাজ্য প্রশাসন, গড়িয়েছে বিরোধ আদালত পর্যন্ত।

নিউইয়র্কের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, ১৬ হাজার অভিবাসী নিয়ে তীব্র বিতর্ক
নিউইয়র্কের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, ১৬ হাজার অভিবাসী নিয়ে তীব্র বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অভিবাসন নীতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ও অঙ্গরাজ্য সরকারের মধ্যে বিরোধ নতুন মাত্রা পেয়েছে। অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত কিংবা দণ্ডিত অনথিভুক্ত অভিবাসীদের আটক করার বিষয়ে কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের অনুরোধ যথাযথভাবে কার্যকর করা হয়নি—এমন অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ। বিভাগটির দাবি, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নিউইয়র্কে ১৬ হাজারের বেশি অভিবাসীকে আটক করার অনুরোধ নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে অঙ্গরাজ্য সরকার এ অভিযোগের সঙ্গে একমত নয়।

স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা, মাদকসংক্রান্ত অপরাধসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধের অভিযোগ ও দণ্ডের তথ্য রয়েছে। বিভাগটির দাবি, এসব ব্যক্তির সঙ্গে মোট ৫২ হাজার ৫০৩টি অপরাধের অভিযোগ বা দণ্ডের তথ্য যুক্ত রয়েছে। তবে এই সংখ্যা দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক ব্যক্তিকে অপরাধে দোষী সাব্যস্ত বলে ধরে নেওয়া যাবে না। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা এবং আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। তাই কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া পরিসংখ্যানকে তাদের দাবি হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি।

নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলের প্রশাসন অবশ্য কেন্দ্রীয় সরকারের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। গভর্নরের দপ্তরের বক্তব্য, অঙ্গরাজ্য অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়ার নীতি অনুসরণ করে না। কারাগারে সাজা ভোগরত অমার্কিন নাগরিকদের বিষয়ে অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে তথ্য দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। তাদের মতে, নিউইয়র্কের অভিবাসন নীতি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য অঙ্গরাজ্যের বাস্তব অবস্থাকে সঠিকভাবে তুলে ধরে না।

এই বিরোধের মূল বিষয়গুলোর একটি হলো, স্থানীয় পুলিশ ও শেরিফের দপ্তরগুলো কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কতটা সহযোগিতা করবে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা, যা আইস নামে পরিচিত, অনথিভুক্ত অভিবাসীদের শনাক্ত করা, আটক করা এবং অভিবাসন আইন কার্যকর করার দায়িত্ব পালন করে। তবে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এসব কাজে কী পরিমাণ সহায়তা করতে হবে, তা নিয়ে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক রয়েছে।

নিউইয়র্কের অঙ্গরাজ্য সরকার স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কেন্দ্রীয় অভিবাসন সংস্থার সহযোগিতার পরিধি সীমিত করার নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে, রেন্সেলার কাউন্টির কর্মকর্তারা এ নীতির বিরোধিতা করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, এ ধরনের বিধিনিষেধ স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ এবং নির্বাচিত শেরিফদের কর্তৃত্বের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁদের আশঙ্কা, অপরাধে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিষয়ে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা সীমিত হলে জননিরাপত্তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

বিরোধটি ইতিমধ্যে আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। রেন্সেলার কাউন্টি অঙ্গরাজ্যের অভিবাসনসংক্রান্ত নীতির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। অন্যদিকে, নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসও অঙ্গরাজ্যের আইন কার্যকর রাখার জন্য আইনি উদ্যোগ নিয়েছেন। ফলে বিষয়টি এখন শুধু অভিবাসন নীতির রাজনৈতিক বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই; স্থানীয় সরকার, অঙ্গরাজ্য প্রশাসন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতার সীমা নির্ধারণের প্রশ্নও সামনে এসেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। বিশেষ করে যাঁদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে বা যাঁরা অপরাধে দণ্ডিত হয়েছেন, তাঁদের শনাক্ত করে আটক ও বহিষ্কারের পক্ষে কেন্দ্রীয় সরকার জোরালো অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে, নিউইয়র্কের মতো অঙ্গরাজ্যগুলো অভিবাসন আইন প্রয়োগে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা, বিদ্যমান আইন এবং ব্যক্তির অধিকার নিয়ে ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরছে।

এই পরিস্থিতিতে ১৬ হাজারের বেশি অভিবাসীকে নিয়ে ওঠা অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসননীতি নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে। তবে মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রকৃত অপরাধের রেকর্ড এবং কেন্দ্রীয় ও অঙ্গরাজ্য সরকারের নীতির আইনি ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে। অভিযোগের সংখ্যা যত বড়ই হোক, প্রতিটি ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ ও দণ্ডের পার্থক্য বিবেচনা করা জরুরি।

নিউইয়র্ক ও ট্রাম্প প্রশাসনের এই বিরোধের পরবর্তী অগ্রগতি নির্ভর করবে আদালতের সিদ্ধান্ত এবং দুই পক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধের অভিযোগের যথাযথ তদন্ত এবং অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোন কর্তৃপক্ষ কতটা ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারবে—এসব প্রশ্নের উত্তরই শেষ পর্যন্ত এই বিরোধের গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে।

ট্যাগ: নিউইয়র্কডোনাল্ডট্রাম্পযুক্তরাষ্ট্রঅভিবাসননীতিমার্কিনরাজনীতিঅভিবাসী

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।