ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের বলরুমে ৩৩ কোটি ডলার, প্রকাশ্যে এল বড় দাতাদের তালিকা
ট্রাম্পের নতুন বলরুম নির্মাণে ৩৩ কোটি ৩০ লাখ ডলারের অনুদানের তথ্য প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট। তালিকায় রয়েছে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও ধনকুবেরদের নাম।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে নতুন বলরুম নির্মাণের জন্য অর্থ দেওয়া বড় দাতা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা প্রকাশ্যে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রকল্পের জন্য বেসরকারি দাতাদের কাছ থেকে প্রায় ৩৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার অনুদানের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। তালিকায় রয়েছে বিশ্বের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, ধনকুবের, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম।
এনভিডিয়া ও অ্যাপল—দুটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানই এই প্রকল্পে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই পরিমাণ অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ধনকুবের চার্লস এরগেন এবং অ্যাডেলসন পরিবার। এ ছাড়া মাইক্রোসফট, অ্যামাজন, কমকাস্ট ও পালান্টিরসহ আরও কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের অনুদানের তথ্য প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এই তালিকা প্রকাশের পর দাতাদের সঙ্গে মার্কিন সরকারের ব্যবসায়িক ও নীতিগত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের অনুসন্ধান অনুযায়ী, অনুদান দেওয়া কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বা তাদের সংশ্লিষ্ট ব্যবসা ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে সরকারি চুক্তি, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্ত কিংবা অন্যান্য সরকারি পদক্ষেপের মাধ্যমে সুবিধা পেয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে অনুদানের প্রতিশ্রুতি এবং সরকারি সিদ্ধান্তের সময়ের মধ্যে মিলও পাওয়া গেছে।
তবে অনুদানের বিনিময়ে সরকারি সুবিধা দেওয়া হয়েছে—এমন সরাসরি যোগসূত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনটি নিশ্চিত করেনি। কোনো প্রতিষ্ঠান সরকারি সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি অনুদান দিয়েছে, শুধু এই তথ্যের ভিত্তিতে অনুদান ও সরকারি সিদ্ধান্তের মধ্যে বিনিময় হয়েছিল বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছতা ও সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন উঠলেও অভিযোগ এবং প্রমাণিত তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রাখা জরুরি।
প্রকল্পটির জন্য সংগৃহীত অর্থের অন্তত ৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার এমন দাতাদের কাছ থেকে এসেছে, যারা নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে চেয়েছিলেন। অনুদান সংগ্রহের দায়িত্বে রয়েছে ট্রাস্ট ফর দ্য ন্যাশনাল মল নামের একটি অলাভজনক সংস্থা। সংস্থাটি আইন যতটা অনুমতি দেয়, ততটা পর্যন্ত দাতাদের পরিচয় গোপন রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে অর্থের উৎস এবং অনুদানের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে, হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে দাতাদের বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা হয়নি। মুখপাত্র ডেভিস ইংল অনুদানদাতাদের বিভিন্ন মার্কিন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির সমন্বয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি অর্থসংক্রান্ত তথ্য ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন। প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, বলরুম নির্মাণের অর্থ বেসরকারি অনুদান থেকে আসছে; তবে অর্থায়নের পদ্ধতি নিয়ে সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।
প্রকল্পটির ব্যয় নিয়েও আলোচনা চলছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী নির্মাণ ব্যয় প্রায় ৬০ কোটি ডলারে পৌঁছানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে দাতাদের কাছ থেকে ৩৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পাওয়া এবং প্রকল্পের মোট ব্যয় এক বিষয় নয়। একইভাবে, প্রতিশ্রুত অর্থের পুরোটা ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো যায় না।
ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের নতুন বলরুম নির্মাণে বড় অঙ্কের বেসরকারি অনুদানের তথ্য প্রকাশের পর অর্থের উৎস, দাতাদের পরিচয় এবং সরকারি সিদ্ধান্তের সঙ্গে তাঁদের ব্যবসায়িক স্বার্থের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে অনুদানের বিনিময়ে সরকারি সুবিধা দেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রয়োজন।





