ব্রেকিং
৬৬ বছরের পুরোনো শিশু হত্যার রহস্যে নতুন মোড়, ডিএনএ সূত্রে সাবেক গোয়েন্দার নাম সামনেট্রাম্পকে অভিশংসনে সমর্থন দেবেন না শেরড ব্রাউন, ওহাইওর নির্বাচনে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কওয়াশিংটন ডিসিতে ভয়াবহ বাড়ির আগুনে একজনের মৃত্যু, আহত ছয়জনজার্মানিতে নুরেমবার্গ বিমানবন্দর সাময়িক বন্ধ, গ্রিসফেরত যাত্রীবাহী বিমানকে পাহারা দিল দুটি যুদ্ধবিমানযুক্তরাষ্ট্রে এআই খাতে বিনিয়োগ কমলে অর্থনীতিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা

শেরে বাংলাকে ঘিরে ৫০ টাকার নকশা এঁকে নজর কাড়লেন শিল্পী

শেরে বাংলার প্রতিকৃতি, নান্দনিক অলংকরণ ও পাখির নকশায় সাজানো কাল্পনিক ৫০ টাকার নোটের ভাবনা শিল্পপ্রেমীদের আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে সামাজিক মাধ্যমে।

শেরে বাংলাকে ঘিরে ৫০ টাকার নকশা এঁকে নজর কাড়লেন শিল্পী
শেরে বাংলাকে ঘিরে ৫০ টাকার নকশা এঁকে নজর কাড়লেন শিল্পী

মুহাম্মদ সাদ আহমেদের আঁকা ব্যাংকনোটের নকশা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আগ্রহ তৈরি হলেও, নোটটি বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে প্রকাশিত কোনো সরকারি মুদ্রা কি না, তা নিয়ে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, শেরে বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হকের প্রতিকৃতি-সংবলিত একটি কাল্পনিক ব্যাংকনোটের নকশা নিয়ে ২০২৫ সালের এপ্রিলের শেষ দিকে বাংলাদেশে আলোচনা হয়েছিল। তবে সেই নকশাটি ৫০ টাকার নয়, ১০০ টাকার নমুনা নোট হিসেবে পরিচিত। তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার শিল্পীর বক্তব্য ও সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট পর্যালোচনা করে জানিয়েছিল, নকশাটি ছিল তাঁর তৈরি শিল্পকর্ম, সরকারি নোট নয়।

এ কারণে ৫০ টাকার নোট নিয়ে প্রচারিত বর্তমান বর্ণনাটিকে যাচাই ছাড়া নিশ্চিত সংবাদ হিসেবে প্রকাশ করা ঠিক হবে না। শিল্পীর আঁকা ৫০ টাকার নকশার মূল পোস্টের নির্ভরযোগ্য প্রমাণও এই অনুসন্ধানে পাওয়া যায়নি। তবে শেরে বাংলাকে কেন্দ্র করে শিল্পীর নকশা তৈরির বিষয়টি যে আলোচনায় এসেছে, তার পেছনে বাস্তব ঘটনা রয়েছে। সেই সঙ্গে নকশা ও সরকারি মুদ্রার পার্থক্যটি পাঠকদের সামনে তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের ইতিহাসে শেরে বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। কৃষক, সাধারণ মানুষ ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা তাঁকে বিশেষ পরিচিতি দিয়েছে। তাঁর জীবন, রাজনৈতিক সংগ্রাম ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড আজও ইতিহাসচর্চার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে তাঁর প্রতিকৃতি দিয়ে স্মারক নোটের মতো একটি শিল্পকর্ম তৈরি হলে তা মানুষের আগ্রহ তৈরি করতে পারে। তবে কোনো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে নিয়ে নকশা তৈরি হওয়া আর সেই নকশা সরকারি স্বীকৃতি পাওয়া এক বিষয় নয়।
শিল্পীর নকশা তৈরির ভাবনায় সাধারণত ইতিহাস, স্থাপত্য, প্রকৃতি ও ব্যক্তিত্বের পরিচয় একসঙ্গে তুলে ধরার সুযোগ থাকে। একটি ব্যাংকনোটের আকারে তৈরি চিত্রকর্মে প্রতিকৃতির পাশাপাশি ফুল, পাখি, স্থাপত্যের নকশা, অলংকরণ ও মূল্যমানের প্রতীক ব্যবহার করা হতে পারে। এ ধরনের উপাদান নকশাটিকে দৃষ্টিনন্দন করে তোলে। তবে নির্দিষ্ট শিল্পকর্মের মূল ছবি ও শিল্পীর বক্তব্য যাচাই না করে তার প্রতিটি উপাদান সম্পর্কে নিশ্চিত দাবি করা উচিত নয়।

শেরে বাংলার প্রতিকৃতি-সংবলিত নকশা নিয়ে আগেও বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিল। রিউমর স্ক্যানারের ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিক মাধ্যমে শেরে বাংলার ছবি-সংবলিত একটি নতুন ১০০ টাকার নোটের ছবি ছড়িয়ে পড়েছিল। অনেকেই সেটিকে বাংলাদেশের নতুন সরকারি নোট হিসেবে ধরে নিয়েছিলেন। পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, সেটি ছিল শিল্পীর তৈরি নমুনা নকশা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুহাম্মদ সাদ আহমেদ নিজেই জানান, এটি কেবল শিল্পকর্ম হিসেবে তৈরি করেছিলেন; সরকারি নোট হিসেবে বাজারে আসার বিষয় ছিল না।

এই ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ব্যাংকনোটের মতো দেখতে কোনো ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সেটি সহজেই ভুল তথ্যের কারণ হতে পারে। নকশায় মূল্যমান লেখা থাকলেই সেটি বৈধ মুদ্রা হয়ে যায় না। সরকারি নোট প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, নির্ধারিত নকশা, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রয়োজন। ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরি কোনো নকশা এসব শর্ত পূরণ না করলে সেটিকে সরকারি মুদ্রা বলা যায় না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্যেও বিষয়টি স্পষ্ট। ব্যাংকটির সরকারি ওয়েবসাইটে প্রচলিত ৫০ টাকার নোটের নকশা ও স্মারক নোটের তালিকা রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত স্মারক নোটের মূল্যমান, নকশার বিষয়বস্তু এবং প্রকাশের তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৩ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল উদ্বোধন উপলক্ষে ৫০ টাকার স্মারক নোট প্রকাশ করা হয়েছিল। এ ছাড়া স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং সংবিধান ও সুপ্রিম কোর্টের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষেও ৫০ টাকার স্মারক নোট প্রকাশের তথ্য রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রচলিত ৫০ টাকার নোটের তথ্যেও নকশার বিবরণ দেওয়া আছে। ব্যাংকটির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জুন ইস্যু করা নোটের এক পাশে ঢাকার আহসান মঞ্জিল এবং অন্য পাশে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ‘সংগ্রাম’ চিত্রকর্ম রয়েছে। ফলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নতুন কোনো নকশাকে সরকারি নোট হিসেবে বিবেচনা করার আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষণার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা দরকার।
স্মারক নোটের উদ্দেশ্য সাধারণত কোনো ঐতিহাসিক ঘটনা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, জাতীয় অর্জন বা বিশেষ ব্যক্তিত্বের স্মৃতি সংরক্ষণ করা। এসব নোটের নকশায় ইতিহাসের পাশাপাশি জাতীয় পরিচয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়। এ কারণে শিল্পীদের কাছে ব্যাংকনোটের নকশা একটি আকর্ষণীয় সৃজনশীল ক্ষেত্র। ব্যক্তিগতভাবে তৈরি নমুনা নকশার মাধ্যমে তাঁরা দেখাতে পারেন, একটি দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে কীভাবে মুদ্রার ছোট পরিসরে তুলে ধরা সম্ভব।
শেরে বাংলার মতো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে ঘিরে শিল্পকর্ম তৈরির আরেকটি তাৎপর্য রয়েছে। তাঁর রাজনৈতিক জীবন বাংলার কৃষকসমাজ, শিক্ষা, প্রশাসন ও উপমহাদেশের রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর জন্ম নেওয়া ফজলুল হক অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কলকাতার মেয়র এবং পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদেও ছিলেন। ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর প্রতিকৃতি নিয়ে শিল্পকর্ম তৈরি হলে সেটি ইতিহাসের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে শিল্পীর স্বাধীন সৃজনশীলতা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের মধ্যে পার্থক্য বোঝাও জরুরি। কোনো শিল্পী নিজের কল্পনা থেকে স্মারক নোটের আদলে নকশা তৈরি করতে পারেন। কিন্তু সেই নকশাকে সরকারি ঘোষণা ছাড়া বাংলাদেশের নতুন মুদ্রা হিসেবে প্রচার করলে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

সামাজিক মাধ্যমে এমন ছবি দেখলে কয়েকটি বিষয় যাচাই করা দরকার। প্রথমত, নকশাটি কে তৈরি করেছেন এবং শিল্পী নিজে সেটিকে কী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান নোটটি প্রকাশের কোনো ঘোষণা দিয়েছে কি না। তৃতীয়ত, ছবিটি মূল পোস্ট থেকে নেওয়া হয়েছে, নাকি পুরোনো কোনো ছবি নতুন দাবি যুক্ত করে ছড়ানো হয়েছে। এসব যাচাই করলে শিল্পকর্মের প্রকৃত পরিচয় অক্ষুণ্ন রাখা যায় এবং ভুল তথ্য ছড়ানোর ঝুঁকি কমে।


ট্যাগ: শেরে বাংলাআবুল কাশেম ফজলুল হকমুহাম্মদ সাদ আহমেদব্যাংকনোটের নকশাস্মারক নোটবাংলাদেশের মুদ্রাশিল্পকর্ম

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।