হামের সংক্রমণে যুক্তরাষ্ট্রে ষষ্ঠ মৃত্যু, পেনসিলভানিয়ায় হাজার ছাড়াল আক্রান্তের সংখ্যা
পেনসিলভানিয়ায় হামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ষষ্ঠ মৃত্যুর খবর, এক হাজারের বেশি আক্রান্ত, শিশুদের টিকা ও সংক্রমণ প্রতিরোধে সতর্ক থাকার আহ্বান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে হামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ষষ্ঠ মৃত্যুর খবর জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। রাজ্যটিতে রোগটির সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে নতুন এই ঘটনা জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
সোমবার, ১২ অক্টোবর, ফ্র্যাঙ্কলিন কাউন্টির করোনার জানান, ৩৯ বছর বয়সী এক নারী হামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জটিলতায় মারা গেছেন। তাঁর আগে থেকেই কয়েকটি স্বাস্থ্যগত সমস্যা ছিল এবং এর আগে তাঁর হামে আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাসও ছিল।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেনসিলভানিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগ মৃত্যুর খবর সম্পর্কে অবগত রয়েছে এবং ঘটনাটি পর্যালোচনা করছে। রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে, এর আগে হামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছিল।
অক্টোবরের শুরুতে পেনসিলভানিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ছাড়ায়। ৮ অক্টোবর প্রকাশিত এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে রাজ্যজুড়ে ১ হাজার ৭৮টি সংক্রমণের কথা বলা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যুর হিসাব পরিবর্তিত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তথ্যেও বলা হয়েছে, হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা হালনাগাদ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিসংখ্যান পরিবর্তিত হতে পারে। রাজ্য ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের মৃত্যুর হিসাবের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে; তাই দুই ধরনের হিসাবকে একই সরকারি সংখ্যা হিসেবে দেখানো ঠিক হবে না।
হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি, হাঁচি ও শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে ছড়ানো ভাইরাস থেকে অন্যরা সংক্রমিত হতে পারেন। জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া এবং পরে শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া এর সাধারণ লক্ষণ।
কিছু ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কের প্রদাহসহ গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে। শিশু, টিকা না নেওয়া ব্যক্তি এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম এমন মানুষের ঝুঁকি বেশি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, হাম, মাম্পস ও রুবেলা প্রতিরোধী এমএমআর টিকার দুই ডোজ হামের বিরুদ্ধে প্রায় ৯৭ শতাংশ কার্যকর। শিশুদের নির্ধারিত সময়ে টিকা দেওয়া এবং টিকার অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা গুরুত্বপূর্ণ।
কোনো শিশুর জ্বরের সঙ্গে ফুসকুড়ি দেখা দিলে বা হামে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার সন্দেহ থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। হাসপাতালে যাওয়ার আগে ফোন করে জানানো ভালো, যাতে অন্য রোগীদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি কমানো যায়।
অভিভাবকদের উচিত শিশুদের টিকার নথি যাচাই করা এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা অনুসরণ করা। টিকা না নেওয়া ব্যক্তি বা পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন হতে পারে।





