যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলে অভিভাবকের অধিকার জোরদার, রাজ্যগুলোকে নতুন নির্দেশনা দিল ট্রাম্প প্রশাসন

শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত তথ্য ও শিক্ষা বিষয়ে অভিভাবকের জানার অধিকার নিশ্চিত করতে নতুন নির্দেশনা, স্কুলগুলোর ওপর বাড়ছে ফেডারেল নজরদারি।

যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলে অভিভাবকের অধিকার জোরদার, রাজ্যগুলোকে নতুন নির্দেশনা দিল ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলে অভিভাবকের অধিকার জোরদার, রাজ্যগুলোকে নতুন নির্দেশনা দিল ট্রাম্প প্রশাসন


যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থায় অভিভাবকদের অধিকার ও শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ ও বিচার বিভাগ ৫ অক্টোবর সব অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলকে যৌথভাবে একটি চিঠি পাঠিয়ে জানিয়েছে, বাবা-মায়ের নিজেদের সন্তানের শিক্ষা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য সম্পর্কে জানার অধিকার রয়েছে। বিষয়টি এখন আমেরিকার স্কুল, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় আলোচনায় পরিণত হয়েছে।

শিক্ষা বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষা বিভাগ ও বিচার বিভাগ যৌথভাবে অভিভাবকদের অধিকার রক্ষার বিষয়ে অঙ্গরাজ্যগুলোর আইন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। প্রশাসনের বক্তব্য হলো, ফেডারেল আইনের অধীনে বাবা-মায়ের সন্তানের শিক্ষা-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানার এবং সন্তানের শিক্ষার বিষয়ে নির্দেশ দেওয়ার অধিকার রয়েছে।

এই উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ফেডারেল আইন। এর একটি হলো পারিবারিক শিক্ষা অধিকার ও গোপনীয়তা আইন বা ফেরপা। অন্যটি হলো শিক্ষার্থীদের অধিকার সুরক্ষা সংশোধনী বা পিপিআরএ। এসব আইন শিক্ষার্থীদের শিক্ষা-সংক্রান্ত তথ্যের গোপনীয়তা এবং অভিভাবকদের নির্দিষ্ট অধিকার নিশ্চিত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

ফেরপা অনুযায়ী, সাধারণভাবে অভিভাবকদের তাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের শিক্ষা-রেকর্ড দেখার অধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে রেকর্ডে সংশোধনের অনুরোধ করা এবং ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে প্রকাশ করা হবে সে বিষয়ে নিয়ন্ত্রণের অধিকারও রয়েছে। তবে আইনে কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন এখন বলছে, কোনো স্কুল বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অভিভাবকদের কাছ থেকে গোপন রাখে, তাহলে সেটি ফেডারেল আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। শিক্ষা বিভাগ এর আগে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও স্কুল জেলার নীতিমালা নিয়েও তদন্ত শুরু করেছে।

এই বিতর্কের একটি বড় অংশ শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত পরিচয় ও স্কুলে ব্যবহৃত তথ্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের অভিযোগ, কিছু স্কুল নীতিমালার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিষয়ে এমন তথ্য অভিভাবকদের কাছ থেকে গোপন রাখছে, যা বাবা-মায়ের জানা উচিত। অন্যদিকে কিছু স্কুল জেলা ও অধিকার সংগঠন বলছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়টিও একই সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে।

অর্থাৎ বিষয়টি এখন শুধু স্কুলের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি অভিভাবকের অধিকার, শিক্ষার্থীর গোপনীয়তা, স্কুলের দায়িত্ব এবং ফেডারেল সরকারের ক্ষমতার প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।

শিক্ষা বিভাগ এরই মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়া ও ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের শিক্ষা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও স্কুলে অভিভাবকদের কাছে শিক্ষার্থীদের রেকর্ড প্রকাশ-সংক্রান্ত নীতিমালা সম্পর্কে ব্যাখ্যা চেয়েছে। জুলাইয়ে শিক্ষা বিভাগ জানায়, তারা দেখতে চায় সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলো সাম্প্রতিক আদালতের সিদ্ধান্তের আলোকে নিজেদের নীতিমালা কীভাবে পরিবর্তন করছে।

ক্যালিফোর্নিয়া ও ওয়াশিংটনের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে শিক্ষার্থীদের তথাকথিত লিঙ্গ পরিচয়-সংক্রান্ত তথ্য অভিভাবকদের সঙ্গে কীভাবে ভাগ করা হবে, সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে। শিক্ষা বিভাগের বক্তব্য হলো, কিছু নীতিমালা বাবা-মায়ের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করার সুযোগ তৈরি করেছে।

এই অবস্থানের পক্ষে প্রশাসন ২০২৬ সালের কয়েকটি আদালতের সিদ্ধান্তের কথাও তুলে ধরেছে। শিক্ষা বিভাগের জুলাইয়ের ঘোষণায় বলা হয়েছে, মার্চে সুপ্রিম কোর্টের একটি সিদ্ধান্তে শিশুদের লালন-পালন ও শিক্ষার বিষয়ে বাবা-মায়ের প্রাথমিক কর্তৃত্বের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। একইভাবে জুনে নবম সার্কিট আদালতের একটি সিদ্ধান্তও অভিভাবকদের অধিকার নিয়ে নতুন আইনি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তবে এই নীতির বিরোধীরাও সক্রিয়। তাদের বক্তব্য হলো, স্কুলে থাকা শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো শিক্ষার্থী যদি স্কুলে এমন কোনো ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করে, যা সে পরিবারের সঙ্গে ভাগ করতে ভয় পায়, তখন স্কুলের দায়িত্ব কী হবে—এই প্রশ্নও উঠছে।

এখানেই যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি জটিল ভারসাম্যের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। একদিকে অভিভাবকদের সন্তানের শিক্ষা ও ব্যক্তিগত তথ্য সম্পর্কে জানার অধিকার রয়েছে। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের নিজস্ব নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ফেডারেল সরকার, রাজ্য সরকার এবং স্থানীয় স্কুল জেলা—তিন পক্ষের ক্ষমতা ও দায়িত্বের সীমা নিয়ে তাই বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের শিক্ষা নীতির বৃহত্তর পরিবর্তনের সঙ্গেও এই পদক্ষেপের সম্পর্ক রয়েছে। শিক্ষা বিভাগ বলছে, প্রশাসন ফেডারেল সরকারের পরিবর্তে রাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষা ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার দিকে এগোচ্ছে। একই সঙ্গে স্কুলে অভিভাবকদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার কথাও বলা হচ্ছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর