নিউইয়র্কে হাম নিয়ে জরুরি অবস্থা, পেনসিলভানিয়ায় ছাড়াল এক হাজার সংক্রমণ
যুক্তরাষ্ট্রে হাম প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, নিউইয়র্কে জরুরি অবস্থা, পেনসিলভানিয়ায় এক হাজারের বেশি আক্রান্ত, বাড়ছে জাতীয় উদ্বেগ।
নিউইয়র্কে হাম নিয়ে জরুরি অবস্থা, পেনসিলভানিয়ায় ছাড়াল এক হাজার সংক্রমণ
যুক্তরাষ্ট্রে হাম বা মিজলসের সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে থাকায় জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে পেনসিলভানিয়ায় চলতি বছরে হাম আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। একই সময়ে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যেও সংক্রমণ বাড়ায় গভর্নর ক্যাথি হোকুল সোমবার, ৫ অক্টোবর, রাজ্যজুড়ে দুর্যোগ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।
পেনসিলভানিয়া স্বাস্থ্য বিভাগের ৫ অক্টোবরের তথ্য অনুযায়ী, অঙ্গরাজ্যটিতে এ বছর এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪টি হাম আক্রান্তের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে অন্তত ১৯৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে এবং হাম-সম্পর্কিত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ৩৯টি কাউন্টিতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এই সংখ্যা পেনসিলভানিয়ার বর্তমান প্রাদুর্ভাবকে তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে অঙ্গরাজ্যটির সবচেয়ে বড় হাম প্রাদুর্ভাবে পরিণত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রজুড়েও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তথ্য উদ্ধৃত করে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ২০২৬ সালে দেশটিতে প্রায় ৩ হাজার ৯০০ হাম আক্রান্তের ঘটনা রিপোর্ট হয়েছে। এটি ১৯৯১ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রে হাম সংক্রমণের সবচেয়ে খারাপ বছর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পেনসিলভানিয়ার বর্তমান প্রাদুর্ভাব এপ্রিল মাসে ফিলাডেলফিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে শুরু হয় বলে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এরপর সংক্রমণ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত এলাকার কয়েকটিতে টিকাদানের হার তুলনামূলক কম হওয়ায় জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন।
হামের সংক্রমণ অত্যন্ত দ্রুত ছড়াতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি, হাঁচি বা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়াতে পারেন। এ কারণে কোনো এলাকায় টিকাদানের হার কমে গেলে একজন আক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে দ্রুত অনেক মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
পেনসিলভানিয়ার পাঁচটি মৃত্যুর ঘটনাও পরিস্থিতির গুরুত্ব বাড়িয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে টিকা না নেওয়া প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ছিলেন। আবার এমন শিশুও মারা গেছে যারা বয়সের কারণে হাম, মাম্পস ও রুবেলা বা এমএমআর টিকা নেওয়ার উপযুক্ত বয়সে পৌঁছায়নি।
এদিকে পেনসিলভানিয়ার পাশের নিউইয়র্কেও নতুন করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নিউইয়র্কে চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১০৮টি হাম আক্রান্তের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৯২টি ঘটনা জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ের পর শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের বড় অংশ এমন গ্রামীণ এলাকায় যেখানে টিকাদানের হার তুলনামূলক কম বলে নিউইয়র্কের গভর্নরের কার্যালয় জানিয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল ৫ অক্টোবর রাজ্যে দুর্যোগ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব হেলথও একই দিন বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশ করেছে।
নতুন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে হাম প্রতিরোধে টিকা দেওয়ার সক্ষমতা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর্মীকে টিকা দেওয়ার সুযোগ বাড়ানো হয়েছে এবং নার্সদের হাম শনাক্ত করার পরীক্ষার জন্য নির্দেশ দেওয়ার ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আক্রান্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত পরীক্ষা এবং টিকাদান বাড়ানোই এই পদক্ষেপের অন্যতম লক্ষ্য।
নিউইয়র্কের স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগগুলো ইতোমধ্যে আক্রান্ত গ্রামীণ এলাকাগুলোতে এক হাজারের বেশি এমএমআর টিকার ডোজ দিয়েছে। নতুন জরুরি ব্যবস্থায় টিকাদানের তথ্য দ্রুত রাজ্য ও নিউইয়র্ক সিটির টিকাদান নিবন্ধন ব্যবস্থায় রিপোর্ট করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
জরুরি অবস্থাটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে এবং বর্তমানে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা রয়েছে। এর মাধ্যমে রাজ্য সরকার আক্রান্ত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা ও টিকাদান কার্যক্রম দ্রুত সম্প্রসারণ করতে পারবে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের জন্য উদ্বেগের আরেকটি কারণ হলো, হাম শুধু একটি বা দুটি অঙ্গরাজ্যে সীমাবদ্ধ নেই। পেনসিলভানিয়া ও নিউইয়র্কের পাশাপাশি টেক্সাস, ইউটা, সাউথ ক্যারোলাইনা এবং ওহাইওসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যেও বড় ধরনের সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। সাউথ ক্যারোলাইনায় এর আগে প্রায় এক হাজার আক্রান্তের ঘটনা রিপোর্ট হয়েছিল।