আমেরিকার রাস্তায় হাজার হাজার নজরদারি ক্যামেরা, তথ্য নিয়ে এবার প্রশ্ন তুললেন শুমার
শুমার ফ্লক সেফটির হাজার হাজার ক্যামেরার তথ্য ব্যবহারে স্বচ্ছতা চান, ব্যক্তিগত তথ্য মুছে ফেলা ও সরকারি প্রবেশাধিকার প্রকাশের দাবি এখন।
আমেরিকার রাস্তায় হাজার হাজার নজরদারি ক্যামেরা, তথ্য নিয়ে এবার প্রশ্ন তুললেন শুমার
আমেরিকার বিভিন্ন শহর ও মহাসড়কে স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকারী ক্যামেরার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এখন এসব ক্যামেরায় সংগৃহীত তথ্য কে দেখছে, কতদিন রাখা হচ্ছে এবং সরকারি সংস্থাগুলো কীভাবে ব্যবহার করছে, তা নিয়ে নতুন করে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
নিউইয়র্কের সিনেটর ও সিনেট ডেমোক্রেটিক নেতা চাক শুমার ফ্লক সেফটি নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নজরদারি ক্যামেরা নেটওয়ার্ক নিয়ে সরাসরি জবাব চেয়েছেন। তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী গ্যারেট ল্যাংলিকে চিঠি দিয়ে ক্যামেরায় সংগৃহীত তথ্যের ব্যবহার, সংরক্ষণ ও সরকারি সংস্থার প্রবেশাধিকার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন। শুমার ১৬ অক্টোবরের মধ্যে জবাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ফ্লক সেফটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, তাদের নেটওয়ার্কে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৯টি অঙ্গরাজ্যে ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি ক্যামেরা রয়েছে। এসব ক্যামেরা গাড়ির নম্বরপ্লেট, গাড়ির ধরন, সময় এবং ক্যামেরার অবস্থানের মতো তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো চুরি যাওয়া গাড়ি, নিখোঁজ ব্যক্তি কিংবা অপরাধের সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে।
তবে সমালোচকদের মূল উদ্বেগ হলো, একটি গাড়ি কোথায় কখন দেখা গেছে—এ ধরনের তথ্য একত্রিত হলে একজন মানুষের চলাচলের একটি বিস্তারিত চিত্র তৈরি হতে পারে। শুমারের দাবি, এই তথ্য শুধু স্থানীয় পুলিশ নয়, বিভিন্ন এলাকার আইনশৃঙ্খলা সংস্থার কাছেও অনুসন্ধানের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তিনি বিশেষভাবে জানতে চেয়েছেন, কোনো ফেডারেল সংস্থা এই তথ্য সরাসরি বা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা সংস্থার মাধ্যমে ব্যবহার করেছে কি না।
শুমার আরও দাবি করেছেন, অপরাধের সঙ্গে সম্পর্ক নেই এমন ব্যক্তিগত তথ্যও ফ্লক সেফটির সার্ভার থেকে মুছে ফেলা উচিত। তিনি কোম্পানির তথাকথিত জাতীয় অনুসন্ধান ব্যবস্থার বিষয়েও ব্যাখ্যা চেয়েছেন। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি এলাকার সংস্থা অন্য এলাকার ক্যামেরা থেকে সংগৃহীত তথ্য অনুসন্ধান করতে পারে বলে শুমারের চিঠিতে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
বিতর্কের আরেকটি কারণ হলো তথ্যের নিরাপত্তা। শুমারের কার্যালয় জানিয়েছে, গত মাসে একজন হ্যাকার একটি ফ্লক ক্যামেরা দখলে নিয়ে সেখান থেকে একটি এনক্রিপশন কী উদ্ধার করেছিল। এর মাধ্যমে ১৬ লাখের বেশি ছবি এবং প্রায় ২৭ হাজার ভিডিও ক্লিপে প্রবেশ করা হয়েছিল বলে শুমারের দপ্তর জানিয়েছে।
ফ্লক সেফটি অবশ্য বলছে, তাদের ব্যবস্থায় তথ্যের নিরাপত্তা ও প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রয়েছে। কোম্পানির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সংস্থাগুলো ঠিক করে দেয় কারা তথ্য দেখতে পারবে। প্রতিটি অনুসন্ধান রেকর্ড করা হয় এবং সাধারণত সংগৃহীত তথ্য সাত দিনের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যায়, যদিও স্থানীয় আইন বা চুক্তি অনুযায়ী সময় ভিন্ন হতে পারে। কোম্পানিটি আরও বলছে, তাদের নম্বরপ্লেট শনাক্তকারী ব্যবস্থা মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে না।
তবে সমালোচনা শুধু নিউইয়র্কে সীমাবদ্ধ নেই। ফ্লক ক্যামেরা নিয়ে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে স্থানীয় সরকার ও আইনশৃঙ্খলা সংস্থার মধ্যেও প্রশ্ন উঠছে। ফ্লোরিডার সেন্ট লুসি কাউন্টিতে কর্মকর্তারা ক্যামেরা সরানোর প্রস্তুতি নেওয়ার সময় এমন ১৪টি ক্যামেরা খুঁজে পান, যেগুলোর অনুমোদিত মালিকানা বা দায়িত্ব কার—তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার ছিল না। পরে তিনটি ক্যামেরার দায়িত্ব স্থানীয় শেরিফের কার্যালয় স্বীকার করলেও আরও কয়েকটির বিষয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।
নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডেও বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। সাফোক কাউন্টিতে গত এক বছরে কাউন্টি পরিচালিত ফ্লক ক্যামেরার সংখ্যা প্রায় ২৫ থেকে বেড়ে প্রায় ৬০ হয়েছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। একই সময়ে স্থানীয় পর্যায়ে আরও অনেক ক্যামেরা বিভিন্ন চুক্তির মাধ্যমে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে নজরদারি নেটওয়ার্ক কতটা বড় হচ্ছে, তা নিয়ে নাগরিক অধিকারকর্মীদের উদ্বেগ বাড়ছে।
কংগ্রেসেও বিষয়টি নিয়ে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স, সিনেটর জেফ মার্কলি এবং প্রতিনিধি আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ ফ্লকসহ এ ধরনের ক্যামেরার ব্যবহার সীমিত করার একটি বিল এনেছেন। প্রস্তাবটিতে ফেডারেল সরকারের এ ধরনের ক্যামেরার তথ্য ব্যবহার বা প্রবেশাধিকারে কঠোর সীমা আরোপের কথা বলা হয়েছে।