রুশ ড্রোন মোকাবিলায় নেদারল্যান্ডসের সহায়তা চাইলেন জেলেনস্কি
রুশ ড্রোন হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করতে নেদারল্যান্ডসের সহায়তা চেয়েছেন জেলেনস্কি। আলোচনায় উঠে এসেছে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ও সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা।
রাশিয়ার ড্রোন হামলা মোকাবিলা এবং ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে নেদারল্যান্ডসের সহায়তা চেয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী রব জেটেনের সঙ্গে বৈঠকে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা, এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের কার্যক্রম, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষা এবং যুদ্ধের অবসানে সম্ভাব্য কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকের পর জেলেনস্কি জানান, রাশিয়ার ব্যবহৃত জেটচালিত ‘শাহেদ’ ড্রোন মোকাবিলায় নেদারল্যান্ডসের সরবরাহ করা এফ-১৬ যুদ্ধবিমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাঁর দাবি, এসব যুদ্ধবিমান ইউক্রেনের আকাশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রুশ ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হচ্ছে। ফলে এফ-১৬ যুদ্ধবিমানগুলো কার্যকর রাখতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তা ও অন্যান্য সহযোগিতার বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে।
নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী রব জেটেনও ইউক্রেনের এফ-১৬ বহরের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন। এর মধ্যে যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং গোলাবারুদের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম রয়েছে। ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ধরে রাখতে এসব সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে দেশটি।
বৈঠকে বেসামরিক মানুষের জীবন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। রুশ হামলার কারণে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নিয়মিত ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এসব স্থাপনা রক্ষায় আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি অন্যান্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়েও দুই নেতা আলোচনা করেন।
ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা মিত্রদের কাছে আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, গোলাবারুদ এবং সামরিক সরঞ্জাম চেয়ে আসছে। বিশেষ করে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইউক্রেনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে। নেদারল্যান্ডসের কাছ থেকে পাওয়া এফ-১৬ যুদ্ধবিমানও এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এদিকে বৈঠকে যুদ্ধের সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধান নিয়েও আলোচনা হয়েছে। জেলেনস্কি জানান, তিনি রব জেটেনকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক যোগাযোগ এবং ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সম্ভাব্য ত্রিপক্ষীয় বৈঠক সম্পর্কে অবহিত করেছেন।
জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য আলোচনার প্রাথমিক পর্যায় কারিগরি পর্যায়ে হতে পারে। যুদ্ধ বন্ধের দিকে এগিয়ে যেতে পারে—এমন বাস্তবসম্মত প্রস্তাব ও উদ্যোগকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সম্ভাব্য ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের জন্য এখনো নির্দিষ্ট তারিখ, স্থান বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।
জেলেনস্কি একই সঙ্গে রাশিয়াকে আলোচনাকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার জন্য রাশিয়ার নতুন কোনো অজুহাত তৈরি করা উচিত নয়। তবে এসব বক্তব্য ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের নিজস্ব অবস্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং রাশিয়ার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আলাদা প্রতিক্রিয়া থাকলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যুক্ত হতে পারে।
নেদারল্যান্ডস এরই মধ্যে ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এফ-১৬ যুদ্ধবিমান সরবরাহের পাশাপাশি দেশটি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতেও সহযোগিতা করছে। দুই দেশের মধ্যে ড্রোন উৎপাদন ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়েও বিভিন্ন উদ্যোগ রয়েছে।
সাম্প্রতিক বৈঠকের মধ্য দিয়ে ইউক্রেনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার আবারও সামনে এসেছে। প্রথমত, রুশ ড্রোন ও অন্যান্য আকাশ হামলা মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও বাড়ানো এবং দ্বিতীয়ত, যুদ্ধের অবসানের জন্য সম্ভাব্য কূটনৈতিক পথ খুঁজে বের করা। নেদারল্যান্ডসের পক্ষ থেকে এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রাংশ ও গোলাবারুদ সরবরাহের সহযোগিতা ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে যুদ্ধের পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার বিষয়ে এখনো অনেক কিছু অনিশ্চিত। সম্ভাব্য ত্রিপক্ষীয় বৈঠক আদৌ কবে অনুষ্ঠিত হবে বা তা কোনো রাজনৈতিক সমঝোতার দিকে এগোবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা আসেনি।




