ইরান ইস্যুতে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করলেন জয়শঙ্কর, বললেন—ভারত ও ইরানের পরিস্থিতি এক নয়

ইরান ও ভারতের পারমাণবিক অবস্থানের পার্থক্য তুলে ধরে এনপিটি চুক্তি নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর।

ইরান ইস্যুতে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করলেন জয়শঙ্কর, বললেন—ভারত ও ইরানের পরিস্থিতি এক নয়

ইরান ইস্যুতে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করলেন জয়শঙ্কর, বললেন—ভারত ও ইরানের পরিস্থিতি এক নয়


ইরান ইস্যুতে ভারতের অবস্থান ও ইরানের অবস্থানের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর। সম্প্রতি এক আলোচনায় তিনি দুই দেশের পারমাণবিক নীতি ও আন্তর্জাতিক চুক্তির অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, ইরান ও ভারতকে একই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার সুযোগ নেই।

জয়শঙ্কর বলেন, ইরান প্রসঙ্গে আলোচনার শুরুতেই ভারত ও ইরানের মধ্যে একটি স্পষ্ট পার্থক্য করা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত কখনো পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি)-তে স্বাক্ষর করেনি এবং এ বিষয়ে নিজেদের অধিকার সংরক্ষণ করেছে। অন্যদিকে ইরান এনপিটি-তে স্বাক্ষরকারী দেশ। তাই দুই দেশের পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের মূল বিষয় হলো—এনপিটি-তে ভারত ও ইরানের অবস্থান এক নয়। ইরান চুক্তিটির সদস্য হওয়ায় চুক্তির অধীনে দেশটির ওপর নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অন্যদিকে ভারত এনপিটি-র সদস্য না হওয়ায় তার পারমাণবিক নীতি ভিন্ন একটি কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হয়।

ইরান ১৯৭০ সালে এনপিটি-তে যোগ দেয়। চুক্তির অধীনে ইরান নিজেকে পারমাণবিক অস্ত্রবিহীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নজরদারি ও সুরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক ও উদ্বেগ রয়েছে।

অন্যদিকে ভারত এনপিটি-তে স্বাক্ষর না করলেও পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ ও বৈশ্বিক পারমাণবিক নিরাপত্তার বিভিন্ন উদ্যোগকে সমর্থন করে আসছে। ভারতের অবস্থান হলো, এনপিটি-র বর্তমান কাঠামো সব দেশের জন্য সমান ও ন্যায্য নয়। এ কারণে ভারত চুক্তিটির সদস্য হয়নি।

জয়শঙ্করের বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে তেহরানের দীর্ঘদিনের মতবিরোধ রয়েছে। একই সঙ্গে আইএইএর সঙ্গে ইরানের সহযোগিতা ও পরমাণু কার্যক্রমের পর্যবেক্ষণ নিয়েও বিভিন্ন সময়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তবে ভারতের জন্য ইরান ইস্যুটি শুধু পারমাণবিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ইরানের সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক, জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক ভারতীয় নাগরিকের নিরাপত্তার বিষয়ও ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ইরানকে ঘিরে যেকোনো বড় ধরনের আঞ্চলিক সংকট ভারতের অর্থনীতি ও কৌশলগত স্বার্থের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

জয়শঙ্করের মন্তব্যের মাধ্যমে ভারত মূলত ইরান ও ভারতের পারমাণবিক অবস্থানের পার্থক্যটি স্পষ্ট করেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত এনপিটি-তে স্বাক্ষর না করায় এবং ইরান চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করায় দুই দেশের আন্তর্জাতিক অবস্থান ও দায়বদ্ধতা একইভাবে মূল্যায়ন করা উচিত নয়।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর