গাজায় নজরদারি ও সামরিক কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, বাড়ছে উদ্বেগ
গাজা যুদ্ধে নজরদারি, তথ্য বিশ্লেষণ ও সম্ভাব্য লক্ষ্য শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গাজায় নজরদারি ও সামরিক কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, বাড়ছে উদ্বেগ
আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। গাজা যুদ্ধেও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী নজরদারি, বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ এবং সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্য শনাক্ত করতে বিভিন্ন ডিজিটাল প্রযুক্তি ও মেশিন লার্নিং ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে বলে বিভিন্ন অনুসন্ধান ও মানবাধিকার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত কিছু ডিজিটাল ব্যবস্থা মানুষের পরিচয়, অবস্থান ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণে সহায়তা করেছে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
‘ল্যাভেন্ডার’ নামের একটি মেশিন লার্নিং ব্যবস্থার কথাও উঠে এসেছে। বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে গাজার ব্যক্তিদের কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত থাকার সম্ভাবনা নির্ধারণে এটি ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে ‘দ্য গসপেল’ নামে আরেকটি প্রযুক্তি সম্ভাব্য সামরিক স্থাপনা বা লক্ষ্য শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব প্রযুক্তি নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে তথ্যের নির্ভুলতা এবং মানবিক যাচাই নিয়ে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, অ্যালগরিদমের দেওয়া তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ হলে এবং পর্যাপ্ত মানবিক যাচাই ছাড়া তা সামরিক সিদ্ধান্তে ব্যবহার করা হলে বেসামরিক মানুষের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।
গাজায় ফেস শনাক্তকরণসহ বিভিন্ন নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টিও আগের বিভিন্ন মানবাধিকার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণের অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের ফলে সামরিক বাহিনী দ্রুত বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারলেও এর ব্যবহার নিয়ে নৈতিক ও আইনি প্রশ্নও তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কোনো ব্যক্তিকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে অ্যালগরিদমের ভূমিকা কতটা হওয়া উচিত এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে মানুষের নিয়ন্ত্রণ কতটা থাকা প্রয়োজন—এগুলো এখন আন্তর্জাতিক বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
গাজায় ব্যবহৃত প্রতিটি এআই ব্যবস্থার সুনির্দিষ্ট কার্যপ্রণালী বা প্রতিটি সামরিক সিদ্ধান্তে এর ভূমিকা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই বিষয়টিকে এআইয়ের মাধ্যমে নজরদারি, তথ্য বিশ্লেষণ ও লক্ষ্য শনাক্তকরণে প্রযুক্তির ব্যবহারের তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করাই বেশি নির্ভুল।