ব্রঙ্কসে ছিনতাইয়ের সময় অফ-ডিউটি এনওয়াইপিডি গোয়েন্দাকে সাতবার ছুরিকাঘাত, দুইজনকে খুঁজছে পুলিশ
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ছিনতাইয়ের সময় অফ-ডিউটি গোয়েন্দাকে সাতবার ছুরিকাঘাত করে সোনার চেইন নিয়ে পালিয়েছে দুই সন্দেহভাজন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ছিনতাইয়ের সময় এক অফ-ডিউটি নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের গোয়েন্দাকে সাতবার ছুরিকাঘাত করে তার গলার চেইন নিয়ে পালিয়েছে দুই সন্দেহভাজন। ঘটনার পর থেকে তাদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর প্রায় ১টা ৪৫ মিনিটে ব্রঙ্কসের নরউড এলাকায় ইস্ট ২০৬তম স্ট্রিট ও রোশামবো অ্যাভিনিউয়ের কাছে। ৩৩ বছর বয়সী ওই গোয়েন্দা তখন নিজের গাড়ির কাছে ছিলেন। এ সময় মোটরচালিত বৈদ্যুতিক বাইকে থাকা দুই ব্যক্তি তার কাছে আসে।
তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজনরা গোয়েন্দার গলার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তি শুরু হলে গোয়েন্দাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাতবার ছুরিকাঘাত ও কেটে জখম করা হয়। তার শরীরের ধড় ও পায়ে আঘাত লাগে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে সন্দেহভাজনরা তার গলা থেকে চেইন নিয়ে মোটরচালিত বাইকে করে দক্ষিণ দিকে পালিয়ে যায়।
আহত গোয়েন্দাকে দ্রুত জ্যাকোবি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী তিনি স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন এবং চিকিৎসা চলছে। কিছু প্রতিবেদনে তার হাতে গুরুতর আঘাতের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ দুই সন্দেহভাজনের সন্ধানে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করে। শনিবার পুলিশ তাদের ছবি ও নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও প্রকাশ করে। ভিডিওতে দুই ব্যক্তিকে মোটরচালিত বাইকে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে দেখা যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজনদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি এবং তাদের কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তাদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দিতে সাধারণ মানুষকে পুলিশের ক্রাইম স্টপার্সে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এবং পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ আহত গোয়েন্দাকে হাসপাতালে দেখতে যান। এ ঘটনার কারণে শুক্রবারের নির্ধারিত অপরাধ পরিসংখ্যানবিষয়ক একটি সংবাদ সম্মেলনও বাতিল করা হয়েছিল।
গোয়েন্দাদের সংগঠন ডিটেকটিভস’ এনডাওমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনও আহত কর্মকর্তার পাশে থাকার কথা জানিয়েছে এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে তদন্তকারীদের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেছে। এদিকে পুলিশ বলছে, হামলার সঙ্গে জড়িত দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।





