কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, দুই বছর পর আবার শুরু স্বাধীন তদন্ত
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, দুই বছর পর ফের তদন্ত শুরু, এবার স্বাধীন তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা।
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, দুই বছর পর আবার শুরু স্বাধীন তদন্ত
নিউইয়র্কের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৪ সালের একটি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগটি প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগকারী সাবেক এক ছাত্রী, যিনি আদালতের নথিতে ‘জেন ডো’ নামে পরিচিত, দাবি করেছেন ২০২৪ সালের অক্টোবরে কর্নেলের চি ফাই ভ্রাতৃসংঘের একটি অনুষ্ঠানে তাকে মাদক প্রয়োগ করে একাধিক ব্যক্তি যৌন নিপীড়ন করেন। সে সময় তার বয়স ছিল ২০ বছর। তিনি পরে সাতজন সাবেক ভ্রাতৃসংঘ সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি পক্ষের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করেন।
অভিযোগের পর কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব তদন্ত চালায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্ত শেষে কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বহিষ্কার ও সাময়িক বরখাস্তসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। চি ফাইয়ের ওই শাখাও ক্যাম্পাস থেকে নিষিদ্ধ করা হয়।
তবে স্থানীয় প্রসিকিউটররা ২০২৪ সালে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনেননি। নতুন করে মামলা ও নথি প্রকাশের পর টম্পকিন্স কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি ম্যাথিউ ভ্যান হাউটেন তদন্ত পুনরায় খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং নতুন প্রমাণ গ্র্যান্ড জুরির সামনে উপস্থাপনের কথা জানিয়েছেন।
তদন্তে নতুন করে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। অভিযোগকারীর আইনজীবী বলেছেন, ২০২৪ সালে পুলিশকে দেওয়া বিস্তারিত সাক্ষাৎকারে ওই নারী নিজেকে ধর্ষণের শিকার বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন। জেলা অ্যাটর্নি বলেছেন, তিনি আগে ওই পূর্ণ সাক্ষাৎকারের তথ্য পাননি এবং বিষয়টি যাচাই করছেন।
এদিকে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হকুল কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ব্যবস্থাপনার বাইরে একটি স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানান। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় বাইরের আইনজীবী নিয়োগ করে স্বাধীনভাবে বিষয়টি পর্যালোচনায় সম্মত হয়েছে।
অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা অন্যায় করার কথা অস্বীকার করেছেন। কর্নেলও বলেছে, তারা বিষয়টি তদন্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। ফলে বর্তমানে মূল প্রশ্ন হচ্ছে, ২০২৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয় ও আইনশৃঙ্খলা কর্তৃপক্ষ অভিযোগটি যথাযথভাবে তদন্ত ও পরিচালনা করেছিল কি না। স্বাধীন তদন্ত ও পুনরায় খোলা ফৌজদারি তদন্তের ফলেই এ বিষয়ে আরও তথ্য পরিষ্কার হতে পারে।