তিন সন্তানের মায়ের মৃত্যুর বিচার চেয়ে মামলা, কান্নায় ভেঙে পড়ল পরিবার
তিন সন্তানের মায়ের মৃত্যুর বিচার চেয়ে মামলা করল পরিবার, আইসিইর গুলিতে নিহত রেনি গুডের ঘটনায় মিনেসোটায় নতুন করে উত্তেজনা।
তিন সন্তানের মায়ের মৃত্যুর বিচার চেয়ে মামলা, কান্নায় ভেঙে পড়ল পরিবার
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে আইসিইর গুলিতে নিহত ৩৭ বছর বয়সী রেনি গুডের পরিবার মার্কিন সরকার, অভিবাসন কর্মকর্তা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুটি দেওয়ানি মামলা করেছে।
বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মিনেসোটার ফেডারেল আদালতে মামলাগুলো করা হয়। রেনি গুডের সঙ্গী বেকা গুড এবং তাঁর ভাই ব্রেন্ট গ্যাঙ্গার পরিবারের পক্ষ থেকে মামলাগুলো করেছেন।
রেনি গুড তিন সন্তানের মা ছিলেন। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি মিনিয়াপোলিসে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ ও আইসিই অভিযান চলাকালে নিজের গাড়ির ভেতরে থাকা অবস্থায় আইসিই কর্মকর্তা জোনাথন রসের গুলিতে তিনি নিহত হন।
ঘটনাটি ঘটে ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ নামে পরিচিত অভিবাসন enforcement অভিযানের সময়। গুডের পরিবার ও তাঁদের আইনজীবীদের অভিযোগ, তাঁর ওপর অপ্রয়োজনীয় ও বেআইনি প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছিল। তাঁরা ক্ষতিপূরণ এবং জবাবদিহি দাবি করেছেন।
মামলার একটি অংশে মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে ভুলভাবে মৃত্যু ঘটানো, অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ, হামলা, বেআইনি আটক, অবহেলা এবং মানসিক ক্ষতির মতো অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্য মামলায় ফেডারেল কর্মকর্তা ও প্রশাসনের কয়েকজন শীর্ষ ব্যক্তির বিরুদ্ধে নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলায় আইসিই কর্মকর্তা জোনাথন রসের পাশাপাশি স্টিফেন মিলার, সাবেক স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা সচিব ক্রিস্টি নোয়েম, সাবেক সীমান্ত টহল কর্মকর্তা গ্রেগরি বোভিনো এবং আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
ঘটনার সময় রেনি গুডের গাড়িতে তাঁর সঙ্গী বেকা গুডও ছিলেন। প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, রেনি গাড়ি চালকের আসনে ছিলেন এবং আইসিই কর্মকর্তারা তাঁকে গাড়ি থেকে বের হওয়ার নির্দেশ দিচ্ছিলেন। পরে গাড়িটি পেছনে সরে ঘুরতে শুরু করলে কর্মকর্তা গুলি চালান। ভিডিও বিশ্লেষণে গাড়িটি কর্মকর্তার কাছ থেকে সরে যাওয়ার সময় গুলির ঘটনা দেখা যায়।
অন্যদিকে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ছিল, রেনি গুড গাড়ি দিয়ে কর্মকর্তাদের ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এবং আইসিই কর্মকর্তা আত্মরক্ষার জন্য গুলি চালিয়েছিলেন। সে সময় কর্তৃপক্ষ তাঁর কর্মকাণ্ডকে আরও কঠোর ভাষায় বর্ণনা করেছিল। তবে পরিবারের আইনজীবীরা এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নন এবং ভিডিও প্রমাণের ভিত্তিতে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ঘটনাস্থলে রেনি গুডকে যথাযথ চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়নি। পরিবার দাবি করেছে, সেখানে উপস্থিত একজন চিকিৎসক সাহায্য করতে চাইলেও তাঁকে বাধা দেওয়া হয়েছিল। এই অভিযোগও এখন আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার অংশ।
রেনি গুডের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবার ও সমর্থকেরা ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাঁর মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ পর মিনিয়াপোলিসে আরেক মার্কিন নাগরিক অ্যালেক্স প্রেট্টিও ফেডারেল কর্মকর্তাদের গুলিতে নিহত হন। দুটি ঘটনাই যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন অভিযান ও ফেডারেল কর্মকর্তাদের শক্তি ব্যবহারের বিষয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করে।
মামলা ঘোষণার সময় বেকা গুড আবেগাপ্লুত হয়ে রেনিকে স্মরণ করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রেনির মৃত্যু তাঁদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি তৈরি করেছে এবং তাঁরা তাঁর সন্তানদের পক্ষ থেকেও ক্ষতিপূরণ ও বিচার চাইছেন।
এখন আদালতের প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর সত্যতা, কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড এবং প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের বৈধতা নিয়ে পরবর্তী আইনি লড়াই হবে। মামলায় পরিবারের দাবি রয়েছে, তবে আদালত এখনো এসব অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি।