দুই সপ্তাহ আইসিই হেফাজতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, মুক্তির পর ফিরলেন ক্যাম্পাসে
দুই সপ্তাহ আইসিই হেফাজতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, মুক্তির পর আবার ক্যাম্পাসে ফিরলেন ডেং ডেং, স্বস্তি পেল পরিবার ও সহপাঠীরা।
দুই সপ্তাহ আইসিই হেফাজতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, মুক্তির পর ফিরলেন ক্যাম্পাসে
যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের সাউদার্ন কানেকটিকাট স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ডেং ডেং প্রায় দুই সপ্তাহ অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিইর হেফাজতে থাকার পর মুক্তি পেয়েছেন।
দক্ষিণ সুদানের নাগরিক ১৯ বছর বয়সী ডেং ডেং বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী এবং বাস্কেটবল দলের সদস্য। ৪ সেপ্টেম্বর নিউ হ্যাভেনের টুইড বিমানবন্দর থেকে একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে যাওয়ার প্রস্তুতির সময় আইসিই তাকে আটক করে। ১৬ সেপ্টেম্বর তিনি মুক্তি পান।
মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের বক্তব্য ছিল, ডেং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে প্রবেশ করলেও ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করছিলেন। অন্যদিকে তাঁর আইনজীবীরা আদালতে বলেন, তাঁর আশ্রয়ের আবেদন ও সাময়িক সুরক্ষার আবেদন চলমান ছিল এবং তিনি সম্প্রতি কাজের অনুমতিও পেয়েছিলেন।
আটকের পর ডেংয়ের আইনজীবীরা আদালতে জরুরি আবেদন করেন। আদালত তাকে কানেকটিকাট থেকে ১৫০ মাইলের বেশি দূরে কোনো আইসিই আটক কেন্দ্রে স্থানান্তর না করার নির্দেশ দিয়েছিল। এর মধ্যেই তাকে ম্যাসাচুসেটস হয়ে পরে রোড আইল্যান্ডের একটি আটক কেন্দ্রে নেওয়া হয়।
দুই সপ্তাহ পর মুক্তি পেয়ে ডেং আবার কানেকটিকাটে ফিরে আসেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা ও বাস্কেটবল চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান। তিনি যারা কঠিন সময়ে তাকে সহযোগিতা করেছেন, তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ করেছেন।
ঘটনাটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ডেংসহ সম্প্রতি আইসিইর হাতে আটক কয়েকজন তরুণের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এবং তাদের প্রত্যেকের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বিষয়ে কোনো না কোনো আইনি ভিত্তি রয়েছে। তিনি আইসিইর আঞ্চলিক কার্যালয়ের কার্যক্রম তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
নিউ হ্যাভেনের মেয়র জাস্টিন এলিকারও ডেংয়ের মুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, স্থানীয় আইনজীবী, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন ব্যক্তির সম্মিলিত প্রচেষ্টার পর ডেং আবার ক্যাম্পাসে ফিরেছেন।
ডেংয়ের ঘটনা কানেকটিকাটের বিমানবন্দরগুলোতে সাম্প্রতিক আইসিই তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। একই সময়ে আরও কয়েকজন অভিবাসীকে বিমানবন্দর থেকে আটক করার ঘটনা সামনে এসেছে।
তবে ডেংয়ের আটক আইনসঙ্গত ছিল কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য ভিন্ন। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ তাঁর ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছে, আর তাঁর আইনজীবীরা আটক প্রক্রিয়া ও তাঁর চলমান অভিবাসন আবেদনের বিষয়টি সামনে এনেছেন। বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দাবি থাকলেও চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।