তিন মাস পর দুই শিশুকে কোলে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন আইসিই আটক মা

তিন মাস পর দুই শিশুকে কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন আইসিই আটক মা, আবেগঘন মুহূর্তে চোখে পানি সবার।

তিন মাস পর দুই শিশুকে কোলে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন আইসিই আটক মা

তিন মাস পর দুই শিশুকে কোলে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন আইসিই আটক মা


যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ন্যাশভিলের এক অভিবাসী মা প্রায় তিন মাস পর তাঁর দুই ছোট মেয়ের কাছে ফিরে এসেছেন। অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে আটক হওয়ার পর শিশু দুটির কাছ থেকে দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন ছিলেন তিনি।


গুয়াতেমালা থেকে আসা ওই নারী যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন। গত ১৯ মে সকালে দুই মেয়েকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তাঁর বাড়িতে অভিবাসন কর্মকর্তারা আসেন। পরে তাঁকে আটক করে লুইজিয়ানার একটি অভিবাসন আটক কেন্দ্রে নেওয়া হয়।

তাঁর দুই মেয়ের একজনের বয়স ২ বছর, অন্যজনের বয়স মাত্র ১ বছর। বড় মেয়েটি ডাউন সিনড্রোমসহ দীর্ঘমেয়াদি কিছু শারীরিক সমস্যায় ভুগছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


প্রায় তিন মাস পর আগস্টে ওই নারী মুক্তি পান। এরপর প্রতিবেশীর বাড়িতে দুই মেয়ের সঙ্গে তাঁর পুনর্মিলন হয়।


মায়ের বর্ণনা অনুযায়ী, দুই বছরের মেয়েটি প্রথমে তাঁর ওপর অভিমান করেছিল। শিশুটি মনে করেছিল, মা তাকে ছেড়ে চলে গেছেন। অন্যদিকে এক বছরের শিশুটিকে কোলে নেওয়ার পর মা আবেগ ধরে রাখতে পারেননি।

তিনি জানান, সন্তানদের কোলে নিয়ে জড়িয়ে ধরা, চুমু দেওয়া ও কান্নার সেই মুহূর্ত তাঁর কাছে বাস্তব মনে হচ্ছিল না। প্রায় তিন মাস ধরে সন্তানদের দেখতে না পাওয়ার পর তাদের ফিরে পাওয়া যেন স্বপ্নের মতো মনে হয়েছিল।

আটকের সময় ওই মা তাঁর ছোট মেয়েকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছিলেন। আটক থাকার সময়ে তাঁর বুকের দুধ শুকিয়ে যায় এবং মুক্তির পর তিনি আর শিশুটিকে আগের মতো বুকের দুধ খাওয়াতে পারেননি।


মানবাধিকার সংগঠনগুলোর একটি জোট তাঁর আটকের বিষয়ে মার্কিন স্বরাষ্ট্র বিভাগের মহাপরিদর্শকের কার্যালয়ে অভিযোগ করে। তাদের অভিযোগ, গর্ভবতী, সন্তান প্রসবের পরবর্তী সময়ে থাকা এবং বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েদের আটক করার বিষয়ে আইসিইর নিজস্ব নীতিমালা রয়েছে। বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া এ ধরনের মায়েদের আটক না করার কথা নীতিতে উল্লেখ আছে।


অভিযোগকারী সংগঠনগুলোর দাবি, ওই নারীকে আটক করার ক্ষেত্রে এমন কোনো বিশেষ পরিস্থিতি ছিল কি না, তা কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট করা উচিত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই নারীর কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই।

অন্যদিকে মার্কিন স্বরাষ্ট্র বিভাগের একজন মুখপাত্র জানান, আইসিই হেফাজতে গর্ভবতী ও বুকের দুধ খাওয়ানো নারীর সংখ্যা খুবই কম। তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি সহায়তা এবং জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয় বলে বিভাগের বক্তব্য।


মুক্তির পরও ওই পরিবারের সংকট পুরোপুরি কাটেনি। ওই নারীর সঙ্গী এখনো ওকলাহোমার একটি অভিবাসন আটক কেন্দ্রে রয়েছেন। সন্তানদের দেখাশোনা করতে গিয়ে তিনি আর্থিক ও দৈনন্দিন নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।


তিনি জানান, তাঁর দুই বছরের মেয়ের চিকিৎসা ও থেরাপির কিছু অ্যাপয়েন্টমেন্টও মিস হয়েছে। কারণ তিনি গাড়ি চালান না এবং বর্তমানে একজন বন্ধুর সহায়তার ওপর নির্ভর করছেন।

সন্তানদের ফিরে পেলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি ওই মায়ের। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন সন্তানদের জন্য ভালো জীবন তৈরি করার আশায়। এখন সন্তানদের কাছে ফিরে পেলেও পরিবারের স্থিতিশীলতা নিয়ে তাঁর অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।


ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আটক ব্যবস্থা এবং ছোট শিশুদের সঙ্গে মা-বাবার বিচ্ছিন্নতার বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। তবে ওই নারীর আটকের ক্ষেত্রে আইসিইর নীতিমালা লঙ্ঘন হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর