নিউইয়র্কে প্রবীণদের লক্ষ্য করে প্রতারণা বাড়ছে, নতুন উদ্যোগে সতর্ক করবে কর্তৃপক্ষ
নিউইয়র্কে প্রবীণদের লক্ষ্য করে প্রতারণা বাড়ছে, এক বছরে ক্ষতি ৫০ লাখ ডলার, প্রতিরোধে নতুন সচেতনতা উদ্যোগ চালু।
নিউইয়র্কে প্রবীণদের লক্ষ্য করে প্রতারণা বাড়ছে, নতুন উদ্যোগে সতর্ক করবে কর্তৃপক্ষ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের স্টেটেন আইল্যান্ডে প্রবীণদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণা বেড়ে যাওয়ায় নতুন সচেতনতামূলক উদ্যোগ চালু করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। বুধবার জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয়, স্টেটেন আইল্যান্ড বরো প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ও নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ যৌথভাবে ‘স্ক্যামবাসাডর’ নামে এই উদ্যোগ ঘোষণা করে।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে স্টেটেন আইল্যান্ডে প্রবীণদের লক্ষ্য করে পরিচালিত প্রতারণায় প্রায় ৫০ লাখ ডলারের ক্ষতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু গত সপ্তাহেই এ ধরনের প্রতারণায় প্রায় ৪ লাখ ডলারের ক্ষতির খবর এসেছে। কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে, কারণ প্রতারণার শিকার অনেকেই বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন না।
নতুন উদ্যোগের আওতায় স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের ‘স্ক্যামবাসাডর’ হিসেবে যুক্ত করা হবে। তারা ব্যাংক, রেস্তোরাঁ, প্রবীণদের কেন্দ্র, বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানসহ জনসমাগমের জায়গায় প্রতারণার নতুন কৌশল সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করবেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সচেতনতামূলক প্রচারের অংশ হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতামূলক পোস্টার ও লিফলেট দেওয়া হবে। লক্ষ্য হলো প্রতারণার শিকার হওয়ার আগেই মানুষকে সতর্ক করা এবং সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে উৎসাহিত করা।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রবীণদের লক্ষ্য করে যে প্রতারণাগুলো বেশি দেখা যাচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে গয়না বদলে দেওয়ার প্রতারণা এবং সঞ্চয়ের টাকা সোনার বার কেনার নামে হাতিয়ে নেওয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাব দখল করেও পরিচিতজনদের কাছে প্রতারণামূলক বার্তা পাঠানোর ঘটনা ঘটছে।
সোনার বারের প্রতারণা নিয়ে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস আগস্টে আলাদা সতর্কতা জারি করেছিলেন। তাঁর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক পুলিশ গত দুই বছরে সোনার বার-সংক্রান্ত ১০০টির বেশি প্রতারণার মামলা তদন্ত করেছে। এসব ঘটনায় মোট ক্ষতির পরিমাণ ১০ কোটি ডলারের বেশি।
এই প্রতারণার একটি প্রচলিত কৌশল হলো প্রথমে কম্পিউটারে ভুয়া সতর্কবার্তা দেখানো। এরপর প্রতারকরা দাবি করে, ভুক্তভোগীর কম্পিউটার বা ব্যাংক হিসাব আক্রান্ত হয়েছে। তারা দূর থেকে কম্পিউটারে প্রবেশের অনুমতি নেয় এবং পরে ভুক্তভোগীকে বোঝায় যে অর্থ নিরাপদ রাখতে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে সোনার বার কিনতে হবে।
এরপর নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা বা সরকারি তদন্তকারী পরিচয় দিয়ে প্রতারকরা সেই সোনা সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীকে বিষয়টি পরিবারের সদস্য বা ব্যাংকের কর্মীদের না জানাতেও বলা হয়।
নিউইয়র্কের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতারকরা সাধারণত ভয় ও তাড়াহুড়ার পরিবেশ তৈরি করে। ভুক্তভোগীকে বলা হয়, এখনই ব্যবস্থা না নিলে তাঁর ব্যাংক হিসাব বা সঞ্চয় হারিয়ে যেতে পারে। এই মানসিক চাপ তৈরি করাই প্রতারণার অন্যতম প্রধান কৌশল।
কর্তৃপক্ষের পরামর্শ হলো, কোনো অচেনা ব্যক্তি ফোন বা বার্তায় টাকা স্থানান্তরের কথা বললে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা না নেওয়া। কম্পিউটারে ভুয়া সতর্কবার্তা দেখালে সেখানে দেওয়া ফোন নম্বরে যোগাযোগ না করে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানের সরকারি নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
অপরিচিত কাউকে কম্পিউটারে দূর থেকে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়া এবং ফোন, বার্তা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য না দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
নিউইয়র্ক সিটির প্রবীণদের জন্য অপরাধ ও আর্থিক প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের সহায়তায় আলাদা সেবাও রয়েছে। শহরের ‘সিপাস’ কর্মসূচির মাধ্যমে অভিযোগ জানানো, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ এবং আইনি সহায়তার পথ খুঁজে পেতে সহযোগিতা করা হয়।
এদিকে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলে প্রবীণদের আর্থিক সচেতনতা বাড়াতে একটি প্রস্তাবও উত্থাপিত হয়েছে। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে প্রবীণদের কেন্দ্রগুলোতে আর্থিক সচেতনতা, কর, আইনি বিষয় এবং প্রতারণা এড়ানোর বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার জন্য আর্থিক সচেতনতা উপদেষ্টা রাখার ব্যবস্থা করা হবে। প্রস্তাবটি বর্তমানে কমিটির পর্যায়ে রয়েছে।
কর্তৃপক্ষের মতে, প্রতারণা ঠেকাতে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। পরিবার, ব্যাংক, প্রবীণদের কেন্দ্র এবং স্থানীয় সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে একসঙ্গে কাজ করে মানুষকে সচেতন করতে হবে। নতুন ‘স্ক্যামবাসাডর’ উদ্যোগের মূল লক্ষ্যও সেটিই।