বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ড্রোন ইতিহাস, প্রথম অংশগ্রহণেই চতুর্থ ইউআইইউ

ফেসবুক বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ড্রোন ইতিহাস, প্রথম অংশগ্রহণেই যুক্তরাষ্ট্রের এসইউএএস প্রতিযোগিতায় বিশ্বে চতুর্থ হয়ে চমক দেখাল ইউআইইউর এরিয়াল রোবোটিক্স টিম।

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ড্রোন ইতিহাস, প্রথম অংশগ্রহণেই চতুর্থ ইউআইইউ

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ড্রোন ইতিহাস, প্রথম অংশগ্রহণেই চতুর্থ ইউআইইউ


বাংলাদেশের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের অগ্রযাত্রায় নতুন ইতিহাস গড়েছে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) এরিয়াল রোবোটিক্স টিম (ইউএআরটি)। যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক স্টুডেন্ট আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেমস (এসইউএএস) ২০২৬ প্রতিযোগিতায় বিশ্বে চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে দলটি।

আন্তর্জাতিক এ প্রতিযোগিতায় প্রথমবার অংশ নিয়েই এমন সাফল্য বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব ১৪ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যের টালসায় অবস্থিত স্কাইওয়ে রেঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়। চার দিনব্যাপী এ আয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দল অংশ নেয়।

প্রতিকূল আবহাওয়া, তীব্র বাতাস ও উচ্চ তাপমাত্রার মতো কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ইউআইইউ’র ইউএআরটি তাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা, নকশা সক্ষমতা ও দ্রুত কৌশল পরিবর্তনের মাধ্যমে সফলভাবে মিশন সম্পন্ন করে। আয়োজকদের প্রতিযোগিতা কাঠামো অনুযায়ী, এবারের প্রাথমিক পর্বে ৮১টি দল অংশ নেয়। এর মধ্যে ৬৭টি দল ফ্লাইং পর্বে নির্বাচিত হয়, ৬৪টি দল ফ্লাইট রেডিনেস অনুমোদন পায় এবং শেষ পর্যন্ত ৫৮টি দল ফ্লাইট পরিচালনা করে।

প্রতিযোগিতার সময় প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বেশ কয়েকটি দল দুর্ঘটনার মুখে পড়ে। ইউআইইউ জানায়, ফ্লাইট পরিচালনাকারী দলগুলোর মধ্যে ২১টি দল ক্র্যাশ করলেও তাদের ইউএআরটি দল তাৎক্ষণিক প্রযুক্তিগত সমন্বয় ও কৌশলগত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করে।

এবারের প্রতিযোগিতায় কর্নেল ইউনিভার্সিটি, মোনাশ ইউনিভার্সিটি, দ্য ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড এবং ওয়ারশ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির মতো আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত প্রতিষ্ঠানের দল অংশ নেয়। এসব দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ইউআইইউ’র দল চতুর্থ স্থান অর্জন করে।

ইউআইইউ’র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইউএআরটি সেফটি ইন্সপেকশন ও র‌্যাপিড রেসপন্স বিভাগে পূর্ণ নম্বর অর্জন করেছে। একই সঙ্গে দলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিশন সম্পন্ন করার কৃতিত্বও দেখিয়েছে।

দলটির তৈরি স্বয়ংক্রিয় আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকেলে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় নেভিগেশন, আকাশপথের মানচিত্র তৈরি, বস্তু শনাক্তকরণ, পে-লোড সরবরাহ, বাধা শনাক্ত ও এড়িয়ে চলা এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দীর্ঘদিনের গবেষণা, নকশা, নির্মাণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ধারাবাহিক উন্নয়নের ফলেই এ সক্ষমতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

ইউআইইউ কর্তৃপক্ষ মনে করছে, এ অর্জন বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, রোবোটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে তরুণদের আরও আগ্রহী করবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা তুলে ধরার ক্ষেত্রেও এটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর