বেসেন্টের সমালোচনায় মার্কিন মিডিয়া, হোয়াইট হাউসে নতুন উত্তাপ

সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর প্রবেশাধিকার বাতিলের মধ্যেই সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। বিষয়টি ঘিরে প্রেস স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।

বেসেন্টের সমালোচনায় মার্কিন মিডিয়া, হোয়াইট হাউসে নতুন উত্তাপ

বেসেন্টের সমালোচনায় মার্কিন মিডিয়া, হোয়াইট হাউসে নতুন উত্তাপ


হোয়াইট হাউসে সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কয়েকটি বড় মার্কিন সংবাদমাধ্যমের বিরোধের মধ্যেই সাংবাদিকদের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বা অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তাঁর মন্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, সরকারি স্থাপনায় সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার এবং প্রশাসনের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।

বেসেন্ট অভিযোগ করেছেন, হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা ডিনারের মতো অনুষ্ঠানে কিছু সাংবাদিক সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও গুরুত্বকে বেশি সামনে তুলে ধরেছেন। এমনকি প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনা সংবাদ সংগ্রহের সময়ও কিছু সাংবাদিক নিজেদের ঝুঁকির বিষয়টিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপন করেছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বেসেন্টের এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকোর হোয়াইট হাউসের সংবাদ সংগ্রহের অনুমতি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন। ১৮ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই তিন সংবাদমাধ্যমকে ‘ভুয়া সংবাদ’ প্রচারের অভিযোগ করেন এবং হোয়াইট হাউসে তাদের প্রবেশাধিকার বন্ধের কথা জানান। পরে তিনি বলেন, কোনো একটি নির্দিষ্ট প্রতিবেদনের কারণে নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে এসব সংবাদমাধ্যমের সামগ্রিক সংবাদ পরিবেশনের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

১৯ সেপ্টেম্বর ওই তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকেরা হোয়াইট হাউসে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের প্রেস পরিচয়পত্র নিষ্ক্রিয় বা জব্দ করা হয়। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যকার বিরোধ আরও প্রকাশ্যে আসে।

এরপর সিএনএন, এমএস নাও এবং পলিটিকো প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেয়। ২১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠান তিনটি জানায়, তারা ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে এবং মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে সুরক্ষিত সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার অধিকার রক্ষার চেষ্টা করছে। তাদের দাবি, সাংবাদিকদের প্রকাশিত প্রতিবেদন বা সংবাদ পরিবেশনের ওপর অসন্তুষ্ট হয়ে সরকার হোয়াইট হাউসে তাদের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।

হোয়াইট হাউসে প্রবেশের ক্ষেত্রে যেসব সাংবাদিক বাধার মুখে পড়েছেন, তাদের মধ্যে সিএনএনের বেটসি ক্লেইন, এমএস নাওয়ের আকায়লা গার্ডনার এবং পলিটিকোর শেয়েন হাসলেট রয়েছেন বলে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তাদের সংবাদ সংগ্রহের অনুমতি বাতিল বা প্রেস পরিচয়পত্র জব্দ করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন এই পদক্ষেপকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ হিসেবে দেখছে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা এবং হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার ব্যবস্থাপনা নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, সরকারি ভবনে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত করার মাধ্যমে স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বিতর্কটি এখন শুধু তিনটি সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার নিয়ে সীমাবদ্ধ নেই। সরকারি স্থাপনায় সাংবাদিকদের প্রবেশের অধিকার, প্রশাসনের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের সম্পর্ক এবং মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে সুরক্ষিত সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিধি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা সমিতিও সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বাতিলের সমালোচনা করেছে।

স্কট বেসেন্টের সংবাদমাধ্যম নিয়ে করা মন্তব্য এবং সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর বিরুদ্ধে প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপ—দুটি ঘটনাই যুক্তরাষ্ট্রে সরকার ও সংবাদমাধ্যমের মধ্যকার চলমান টানাপোড়েনকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। এখন এই বিরোধের আইনি পরিণতি এবং হোয়াইট হাউসের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর