বিদেশগামী কর্মীদের নিরাপত্তা থেকে প্রবাসীদের অধিকার, কাজের সুযোগ সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের

প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার ও কল্যাণ, নিরাপদ অভিবাসন এবং বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সংসদীয় পর্যায়ে কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের সামনে। জাতীয় সংসদে গঠিত ‘Parliamentary Caucus on Migration, Rights and Development’-এর সদস্য হিসেবে তিনি এখন অভিবাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় সংসদীয় আলোচনায় তুলে ধরার সুযোগ পাবেন।

বিদেশগামী কর্মীদের নিরাপত্তা থেকে প্রবাসীদের অধিকার, কাজের সুযোগ সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের

বিদেশগামী কর্মীদের নিরাপত্তা থেকে প্রবাসীদের অধিকার, কাজের সুযোগ সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের



নিরাপদ অভিবাসন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার ও কল্যাণ এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সঙ্গে দেশের উন্নয়নকে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে গঠিত হয়েছে ‘Parliamentary Caucus on Migration, Rights and Development’। এই ককাসের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম।

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহে প্রবাসীদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়োগ, কর্মপরিবেশ, বেতন-ভাতা, আইনি সুরক্ষা এবং দেশে ফেরার পর পুনর্বাসনের মতো বিষয়গুলোও অভিবাসন ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নতুন এই সংসদীয় ককাসের মাধ্যমে এসব বিষয় জাতীয় সংসদে আরও সংগঠিতভাবে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের বর্তমান সদস্য তালিকায় সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সংসদ সদস্য এবং দিনাজপুর-৩ আসনের প্রতিনিধি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। 

প্রবাসীদের বিষয় সংসদে তুলে ধরার সুযোগ

ককাসটির ঘোষিত উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল, নিয়মিত ও অধিকারভিত্তিক অভিবাসনকে উৎসাহিত করা এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত নীতি ও বিধিবিধানের বাস্তবায়ন ও তদারকিতে সংসদের ভূমিকা জোরদার করা।

এই কাঠামোর মধ্যে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম সদস্য হিসেবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশা সংসদীয় আলোচনায় তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে বিদেশগামী কর্মীদের নিরাপদ অভিবাসন, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, প্রতারণা ও মানবপাচার প্রতিরোধ, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের অধিকার এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার মতো বিষয়গুলো আলোচনায় আনার সুযোগ রয়েছে।

তবে এসব ক্ষেত্রে ককাসের ভূমিকা মূলত আলোচনা, সমন্বয়, নীতিগত সুপারিশ ও সংসদীয় পর্যায়ে বিষয়গুলো তুলে ধরার মধ্যে থাকবে। সরাসরি কোনো বিদেশি সরকারের ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা এই ককাসের নেই।

দিনাজপুরের সঙ্গে প্রবাসী বাস্তবতার সংযোগ

দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের জন্য নিজ এলাকার প্রবাসী পরিবার ও বিদেশগামী কর্মীদের অভিজ্ঞতাও অভিবাসন-সংক্রান্ত আলোচনায় স্থানীয় বাস্তবতা তুলে ধরার একটি ক্ষেত্র হতে পারে।

বিদেশে কর্মরত ব্যক্তিদের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা, বিদেশ যাওয়ার আগে সঠিক তথ্য পাওয়া, দক্ষতা উন্নয়ন, বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানো এবং দেশে ফিরে কর্মসংস্থান বা পুনর্বাসনের মতো বিষয়গুলো স্থানীয় পর্যায় থেকে জাতীয় নীতির আলোচনায় আসতে পারে।

সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম এর আগে দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দিনাজপুর-৩ আসন থেকে নির্বাচিত হন; বাংলাদেশ সংসদের বর্তমান সদস্য তালিকাতেও তার নাম রয়েছে। 

প্রবাসী কল্যাণে কী ধরনের ভূমিকা রাখতে পারেন

নতুন দায়িত্বের মাধ্যমে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের সামনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে—

  • বিদেশগামী কর্মীদের নিরাপদ ও নিয়মতান্ত্রিক অভিবাসন নিয়ে সংসদীয় আলোচনায় অংশ নেওয়া;
  • অভিবাসন ব্যয় ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নীতিগত আলোচনা করা;
  • প্রবাসী কর্মীদের অধিকার ও আইনি সুরক্ষার বিষয়গুলো তুলে ধরা;
  • মানবপাচার ও প্রতারণা প্রতিরোধে নীতিগত সুপারিশে অংশ নেওয়া;
  • প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও অন্যান্য অংশীজনের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে কাজ করা;
  • বিদেশফেরত কর্মীদের পুনর্বাসন ও তাদের দক্ষতাকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোর বিষয়ে মতামত দেওয়া।

সব মিলিয়ে, ‘Parliamentary Caucus on Migration, Rights and Development’-এর সদস্য হিসেবে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক হতে পারে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বাস্তব সমস্যা ও প্রত্যাশাকে সংসদীয় আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করা। ককাসের কার্যক্রম কতটা সক্রিয় হয় এবং সদস্যরা কতটা কার্যকর নীতিগত সুপারিশ দিতে পারেন, তার ওপরই এই উদ্যোগের বাস্তব প্রভাব অনেকাংশে নির্ভর করবে।

দিনাজপুর-৩-এর সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম এখন এই বৃহত্তর সংসদীয় উদ্যোগের অংশ। প্রবাসীদের অধিকার, নিরাপদ অভিবাসন ও অভিবাসন ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে তার ভূমিকা তাই সামনে আসছে জাতীয় পর্যায়ের একটি নতুন দায়িত্ব হিসেবে।


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর