অভিবাসন খাতে নতুন সংসদীয় ককাস, চেয়ারম্যান এ বি এম মোশাররফ হোসাইন

দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানের গুরুত্ব বিবেচনায় অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে জাতীয় সংসদে গঠন করা হয়েছে ‘Parliamentary Caucus on Migration, Rights and Development’। এই ককাসের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসাইন। নিরাপদ ও নিয়মতান্ত্রিক অভিবাসন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার সুরক্ষা এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত নীতি বাস্তবায়নে সংসদের ভূমিকা জোরদার করাই ককাসটির অন্যতম লক্ষ্য।

অভিবাসন খাতে নতুন সংসদীয় ককাস, চেয়ারম্যান এ বি এম মোশাররফ হোসাইন

অভিবাসন খাতে নতুন সংসদীয় ককাস, চেয়ারম্যান এ বি এম মোশাররফ হোসাইন


নিরাপদ অভিবাসন, প্রবাসীদের অধিকার সুরক্ষা ও রেমিট্যান্স প্রবাহকে আরও কার্যকরভাবে দেশের উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ। এ লক্ষ্যে গঠন করা হয়েছে ‘Parliamentary Caucus on Migration, Rights and Development’। এই গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় ককাসের চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত হয়েছেন পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসাইন।

বাংলাদেশের অর্থনীতি, শ্রমবাজার ও বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ অভিবাসন। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে যান। একই সঙ্গে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তবে অভিবাসন ব্যয়, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, প্রতারণা, দালালচক্র, কর্মীদের অধিকার লঙ্ঘন এবং বিদেশে গিয়ে বিভিন্ন সমস্যায় পড়ার মতো বিষয়গুলো দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে।

ককাসের চেয়ারম্যান

এ বি এম মোশাররফ হোসাইন এমপি — পটুয়াখালী-৪

সদস্যরা হলেন—

১. মো. হাসান রাজীব প্রধান এমপি — লালমনিরহাট-১

২. নয়াব ইউসুফ আহমেদ এমপি — ফরিদপুর-৩

৩. সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম এমপি — দিনাজপুর-৩

৪. মো. মো. সাদিক রেজা এমপি — দিনাজপুর-২

৫. মো. মোশিউর রহমান খান এমপি — বাগেরহাট-১

৬. মাহমুদা হাবিবা এমপি — সংরক্ষিত নারী আসন-১৩ (আসন নম্বর ৩১৩)

৭. ফাহিমা নাসরিন এমপি — সংরক্ষিত নারী আসন-২৯ (আসন নম্বর ৩২৯)

৮. বিলকিস ইসলাম এমপি — সংরক্ষিত নারী আসন-৭ (আসন নম্বর ৩০৭)

৯. নাদিয়া পাঠান পাপন এমপি — সংরক্ষিত নারী আসন-৩২ (আসন নম্বর ৩৩২)

জাতীয় সংসদের বর্তমান সদস্য তালিকাতেও হাসান রাজীব প্রধানকে লালমনিরহাট-১, নয়াব ইউসুফ আহমেদকে ফরিদপুর-৩, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমকে দিনাজপুর-৩ এবং সাদিক রেজাকে দিনাজপুর-২ আসনের এমপি হিসেবে দেখানো হয়েছে। 

এই বাস্তবতায় জাতীয় সংসদের আওতায় অভিবাসন, অধিকার ও উন্নয়নকে একসঙ্গে বিবেচনা করে সংসদীয় ককাস গঠনকে একটি নীতিগত সমন্বয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংসদীয় ককাসটির ঘোষিত লক্ষ্য হলো নিরাপদ, সুশৃঙ্খল, নিয়মিত ও অধিকারভিত্তিক অভিবাসনকে উৎসাহিত করা এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত নীতি ও বিধিবিধানের বাস্তবায়ন ও তদারকিতে সংসদের ভূমিকা জোরদার করা। 

চেয়ারম্যান এ বি এম মোশাররফ হোসাইনের দায়িত্ব কী?

এই ককাসের চেয়ারম্যান হিসেবে এ বি এম মোশাররফ হোসাইনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হবে সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে অভিবাসন-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে আলোচনায় আনা এবং সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তা উপস্থাপনের জন্য একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা।

ককাসের কার্যক্রমের মাধ্যমে অভিবাসন খাতের সমস্যা, প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার, বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং অভিবাসন ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দুর্বলতা নিয়ে সংসদীয় পর্যায়ে আলোচনা ও নীতিগত সুপারিশ তৈরির সুযোগ তৈরি হবে।

একই সঙ্গে সরকারি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, উন্নয়ন সহযোগী, নাগরিক সমাজ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং অভিবাসন খাতের অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও ককাসটি ভূমিকা রাখতে পারে। সংসদীয় পর্যায়ে এ ধরনের ককাস নীতি আলোচনা, তথ্যভিত্তিক সুপারিশ এবং সরকারের নীতির ওপর নজরদারির একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করতে পারে। 

দেশের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় কী প্রভাব ফেলতে পারে

নবগঠিত ককাসটির কাজ শুধু বিদেশে কর্মী পাঠানোর বিষয়েই সীমাবদ্ধ নয়। নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে হলে বিদেশ যাওয়ার আগের প্রস্তুতি থেকে শুরু করে নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, চুক্তি, বিদেশে কর্মপরিবেশ, আইনি সহায়তা এবং দেশে ফেরার পর পুনর্বাসন—পুরো প্রক্রিয়াকে সমন্বিতভাবে দেখতে হয়।

এই জায়গায় সংসদীয় ককাসটি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা সংসদীয় আলোচনায় তুলে ধরতে পারে। পাশাপাশি অভিবাসন ব্যয় কমানো, মধ্যস্বত্বভোগী ও অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ, কর্মীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রবাসীদের অভিযোগ ও অধিকার সুরক্ষার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার বিষয়ে নীতিগত সুপারিশ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি পুনর্গঠিত সংসদীয় ককাস নিয়ে আলোচনায় এমপিরা নিয়োগকারী সংস্থার অনিয়ম, বিদেশ যেতে অতিরিক্ত ব্যয়, মানবপাচার, ভুয়া ভিসা এবং অনিয়মিত অভিবাসনসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেছেন। 

এ বি এম মোশাররফ হোসাইনের নেতৃত্বে নতুন প্রত্যাশা

ককাসের চেয়ারম্যান হিসেবে এ বি এম মোশাররফ হোসাইনের সামনে তাই দায়িত্বটি কেবল একটি সংসদীয় পদে সীমাবদ্ধ নয়। বরং অভিবাসন খাতের বিভিন্ন অংশীজনের বক্তব্য সংসদীয় পর্যায়ে তুলে ধরা, সদস্যদের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সুপারিশ প্রণয়নে নেতৃত্ব দেওয়াই হবে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

ককাসে বিএনপির পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্যও রয়েছেন। নোটিশে চেয়ারম্যান হিসেবে এ বি এম মোশাররফ হোসাইন এবং সদস্য হিসেবে আরও নয়জন সংসদ সদস্যের নাম উল্লেখ রয়েছে। এর ফলে অভিবাসন ইস্যুকে দলীয় রাজনীতির বাইরে একটি জাতীয় স্বার্থের বিষয় হিসেবে আলোচনার একটি সংসদীয় কাঠামো তৈরি হয়েছে।

এখন এই ককাসের কার্যক্রম কতটা সক্রিয় হয়, মাঠপর্যায়ের অভিবাসন সমস্যাগুলো কতটা সংসদীয় আলোচনায় আসে এবং সেসব আলোচনার ভিত্তিতে বাস্তব নীতিগত পরিবর্তন কতটা হয়—তার ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করবে নতুন এই উদ্যোগের কার্যকারিতা।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার, নিরাপদ অভিবাসন এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার ক্ষেত্রে এ বি এম মোশাররফ হোসাইনের নেতৃত্বাধীন এই সংসদীয় ককাস এখন নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সামনে এসেছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর