ইরান নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের পথে ট্রাম্প, বাড়ছে যুদ্ধের উত্তেজনা
ইরান যুদ্ধ ঘিরে নতুন সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত ট্রাম্পের; একদিকে সামরিক উত্তেজনা, অন্যদিকে কাতারের মাধ্যমে আলোচনার বার্তা—কোন পথে যাবে পরিস্থিতি?
ইরান নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের পথে ট্রাম্প, বাড়ছে যুদ্ধের উত্তেজনা
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ আরও উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছেছে। এর মধ্যেই ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে তেহরান কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কয়েকটি শর্ত পাঠিয়েছে। ফলে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনাও নতুন করে সামনে এসেছে।
আল জাজিরার ১৯ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই জানিয়েছেন, কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধ শেষ করার শর্ত পাঠানো হয়েছে। তেহরানের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা, বিদেশে আটকে থাকা ইরানের অর্থ ছাড় করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া। এসব বিষয়ে এখন ওয়াশিংটনের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।
ইরানের পক্ষ থেকে একই সঙ্গে সামরিক সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক হামলা চালালে ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত। ফলে একদিকে আলোচনার সম্ভাবনা থাকলেও অন্যদিকে সামরিক সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কাও পুরোপুরি কাটেনি।
২০ সেপ্টেম্বরের রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সামরিক কমান্ড যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সম্ভাব্য নতুন হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছে। তেহরানের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন করে বড় ধরনের হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও সংশ্লিষ্ট স্বার্থের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালানো হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র নতুন হামলা চালাতেই যাচ্ছে—এমন কোনো নিশ্চিত ঘোষণা এখনো পাওয়া যায়নি।
এদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সৌদি আরব জানিয়েছে, ইয়েমেনের হুথিরা রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করেছে। এতে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠক সামনে থাকায় কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিসহ দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য ভিসা অনুমোদন করেছে। যুদ্ধ চলার মধ্যেও এই সিদ্ধান্ত দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য যোগাযোগ নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঠিক কী ধরনের নতুন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন, তা এখনো প্রকাশ্যে নির্দিষ্ট করা হয়নি। তাই তাঁর কথিত ‘খুব বড় কিছু’ মন্তব্যকে কোনো নির্দিষ্ট সামরিক অভিযান বা নতুন হামলার নিশ্চিত ঘোষণা হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক চাপ অব্যাহত থাকলেও কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তেহরানের পাঠানো শর্তের জবাবে ওয়াশিংটন কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং জাতিসংঘের বৈঠককে ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে কোনো সরাসরি যোগাযোগ হয় কি না, এখন সেদিকেই আন্তর্জাতিক মহলের নজর।