মৃত্যুদণ্ডের রায়ের তিন দিন পর ঢাকাজুড়ে ধারাবাহিক ককটেল বিস্ফোরণ

মালিবাগ থেকে যাত্রাবাড়ী—একদিনে একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণে আতঙ্ক, নেপথ্যে কারা?

মৃত্যুদণ্ডের রায়ের তিন দিন পর ঢাকাজুড়ে ধারাবাহিক ককটেল বিস্ফোরণ

মৃত্যুদণ্ডের রায়ের তিন দিন পর ঢাকাজুড়ে ধারাবাহিক ককটেল বিস্ফোরণ


রাজধানীতে শুক্রবার একদিনে একাধিক এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মালিবাগ, আগারগাঁও, মহাখালী ও যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় পৃথক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে রাজধানীর আরও কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের খবর আসায় ঘটনাগুলো নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বেড়েছে।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর মালিবাগ রেলগেটসংলগ্ন এলাকায় দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, সোহাগ পরিবহনের কাউন্টারের পাশে প্রধান সড়কে বিস্ফোরণ দুটি ঘটে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

এরপর সন্ধ্যার দিকে আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ বেতার ভবনসংলগ্ন এলাকায় একটি এবং মহাখালী এলাকায় পরপর দুটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। একই সময়ে যাত্রাবাড়ী থানার প্রধান ফটকের সামনেও একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এবং বিস্ফোরণের উৎস ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু করে।

যাত্রাবাড়ীর ঘটনায় একজন রিকশাচালক আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একই সময়ে ঘটে যাওয়া এসব বিস্ফোরণের সবগুলোর সঙ্গে একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জড়িত কি না, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি।

এর মাত্র তিন দিন আগে, ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগের সাত নেতার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ও বিচারপতিদের প্রবেশপথের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছিল, মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি বিস্ফোরক ছুড়ে পালিয়ে যায়। পরে তাদের শনাক্ত করার কথা জানানো হয়।

সুপ্রিম কোর্টের ওই বিস্ফোরণের সঙ্গে শুক্রবারের ঘটনাগুলোর কোনো সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো তদন্তে পরিষ্কার হয়নি। একইভাবে শুক্রবারের বিস্ফোরণগুলো সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, সেটিও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকায় অল্প সময়ের ব্যবধানে বিস্ফোরণের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মালিবাগ, আগারগাঁও, মহাখালী ও যাত্রাবাড়ীর মতো জনবহুল এলাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে এসব ঘটনার পেছনে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। কোনো পক্ষ দায় স্বীকার করেছে—এমন তথ্যও পাওয়া যায়নি। ফলে বিস্ফোরণগুলো রাজনৈতিক কোনো ঘটনার প্রতিক্রিয়া, পরিকল্পিতভাবে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা, নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ঘটানো হয়েছে—তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

শুক্রবার রাজধানীর একাধিক এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে এবং যাত্রাবাড়ীতে একজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো সমন্বিত পরিকল্পনা ছিল কি না এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত—সেটিই এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের মূল বিষয়।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর