জাপানে শতবর্ষীর সংখ্যা প্রথমবার ছাড়াল এক লাখ
জাপানে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রথমবার ১ লাখ ছাড়িয়েছে; সরকারি হিসাবে শতবর্ষীর সংখ্যা এখন ১ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ জন।
জাপানে শতবর্ষীর সংখ্যা প্রথমবার ছাড়াল এক লাখ
দীর্ঘায়ুর দিক থেকে বিশ্বে অন্যতম আলোচিত দেশ জাপানে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রথমবারের মতো ১ লাখ ছাড়িয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাপানে এমন মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ জন।
সরকারি তথ্য বলছে, এক বছরের ব্যবধানে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা বেড়েছে ৭ হাজার ৯১৪ জন। ১৯৬৩ সালে এই পরিসংখ্যান সংগ্রহ শুরু হওয়ার পর থেকে টানা ৫৬তম বছর জাপানে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। সে সময় দেশটিতে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষ ছিলেন মাত্র ১৫৩ জন।
এই বিশাল সংখ্যার মধ্যে নারীর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। মোট ১ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ জনের মধ্যে নারী ৯৪ হাজার ২৯৮ জন এবং পুরুষ ১৩ হাজার ৩৭৯ জন। অর্থাৎ শতবর্ষী মানুষের প্রায় ৮৮ শতাংশই নারী।
জাপানে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ১৯৮১ সালে ১ হাজার ছাড়ায় এবং ১৯৯৮ সালে ১০ হাজার অতিক্রম করে। এরপর কয়েক দশকে এই সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়ে এবার প্রথমবারের মতো ১ লাখের সীমা পেরিয়েছে।
জাপানের এই দীর্ঘায়ুর প্রবণতা দেশটির দ্রুত বয়স্ক হয়ে ওঠা জনসংখ্যার চিত্রও তুলে ধরছে। একই সময়ে দেশটির মোট জনসংখ্যা কমছে এবং বয়স্ক মানুষের অনুপাত বাড়ছে। ফলে দীর্ঘায়ু যেমন একটি উল্লেখযোগ্য সামাজিক অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে, তেমনি বয়স্ক জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা ও অন্যান্য সহায়তার প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে।
সরকারি হিসাবে, প্রতি ১ লাখ মানুষের বিপরীতে জাপানে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ৮৭ দশমিক ৫১ জন। প্রিফেকচারভিত্তিক হিসাবে শিমানে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে, যেখানে প্রতি ১ লাখ মানুষের বিপরীতে শতবর্ষীর সংখ্যা ১৮৬ দশমিক ৬৫ জন।
জাপানের শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা এভাবে ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকা দেশটির মানুষের দীর্ঘ জীবনযাপন এবং পরিবর্তিত জনমিতিক বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরছে।