হঠাৎ বিকট শব্দ, সুপ্রিম কোর্টের মূল ফটকে ককটেল বিস্ফোরণ

সুপ্রিম কোর্টের মূল ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, বিকট শব্দে কেঁপে উঠল আদালতপাড়া, নিরাপত্তা জোরদার করে তৎপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

হঠাৎ বিকট শব্দ, সুপ্রিম কোর্টের মূল ফটকে ককটেল বিস্ফোরণ

হঠাৎ বিকট শব্দ, সুপ্রিম কোর্টের মূল ফটকে ককটেল বিস্ফোরণ


রাজধানীর সুপ্রিম কোর্টের মূল ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে আদালতপাড়া ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

ঘটনার পর সুপ্রিম কোর্ট ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে কে বা কারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, কী উদ্দেশ্যে এটি ঘটানো হয়েছে এবং ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না—এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি ও বিচার বিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

একদিন আগেই, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর), সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা কমিয়ে দেওয়া একটি সরকারি পরিপত্রের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই আদেশ দেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আগের নিরাপত্তাব্যবস্থা বহাল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

গত ২৭ আগস্ট জারি করা ওই সরকারি পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১০ জন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও আইনের শিক্ষার্থীর পক্ষে রিট আবেদন করা হয়েছিল। আদালত পরিপত্রটি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করেন।

এই নিরাপত্তা বিতর্কের মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের মূল ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের খবর আদালত এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এর আগে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানেও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শান্তিনগর, মৌচাক ও মিরপুরে পৃথক ঘটনায় চারটি ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। এসব ঘটনার একটিতে মিরপুরে ফুটপাতের এক দোকানি আহত হন।

সুপ্রিম কোর্টের মতো দেশের সর্বোচ্চ বিচারালয়ের প্রবেশপথের সামনে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলে স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়। আদালতে প্রতিদিন বিচারপতি, আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী, সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিকসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ যাতায়াত করেন।

ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহের মাধ্যমে কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে বিস্ফোরকটি কোথা থেকে এসেছে এবং এর পেছনে কোনো পরিকল্পিত উদ্দেশ্য ছিল কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না পাওয়া পর্যন্ত ঘটনার সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক সংগঠনকে জড়ানো সমীচীন নয়।

ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা সম্পর্কে পুলিশ বা সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং হতাহত বা আটকের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেলে এ সংবাদে তা যুক্ত করা হবে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর