‘আমাদের জন্য কাজ করলে ট্যারিফের পক্ষে, ক্ষতি করলে বিপক্ষে’ ট্রাম্পের শুল্কনীতি নিয়ে মাইক রজার্স
মিশিগানের রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্স প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ট্যারিফ বা আমদানি শুল্কনীতি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেছেন, যে ট্যারিফ মিশিগান ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কাজ করবে, তিনি সেটিকে সমর্থন করবেন; আর কোনো ট্যারিফ যদি ক্ষতি করে, তাহলে তিনি তার বিরোধিতা করবেন।
‘আমাদের জন্য কাজ করলে ট্যারিফের পক্ষে, ক্ষতি করলে বিপক্ষে’ ট্রাম্পের শুল্কনীতি নিয়ে মাইক রজার্স
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিশিগানের রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্স প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ট্যারিফ নীতির বিষয়ে তার অবস্থান তুলে ধরেছেন।
রজার্স বলেন, “যদি কোনো ট্যারিফ আমাদের বিরুদ্ধে কাজ করে, আমি তার বিরুদ্ধে থাকব। যদি কোনো ট্যারিফ আমাদের পক্ষে কাজ করে, আমি তার পক্ষে থাকব।”
তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, তিনি ট্যারিফকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অবস্থানের ভিত্তিতে নয়, বরং মিশিগান ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে মূল্যায়ন করতে চান।
মিশিগান যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও উৎপাদনকেন্দ্র। বিশেষ করে অটোমোবাইল শিল্পের সঙ্গে রাজ্যটির অর্থনীতি গভীরভাবে যুক্ত। ফলে ট্যারিফের কারণে উৎপাদন খরচ, ব্যবসা, কর্মসংস্থান ও ভোক্তা পর্যায়ে কী ধরনের প্রভাব পড়ছে—তা মিশিগানের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
রজার্সের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো শুল্ক যদি মিশিগানের ব্যবসা ও কর্মীদের জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠে, তাহলে তিনি প্রশাসনের সঙ্গে সেই বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত।
রজার্স বলেন, মিশিগানের এমন একজন প্রতিনিধি প্রয়োজন, যিনি প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করে সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারবেন।
তার ভাষায়, রাজ্যের এমন একজন দরকার যিনি “প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করে বিষয়গুলো ঠিক করতে পারেন।”
অর্থাৎ, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে যাওয়ার পরিবর্তে নীতির নেতিবাচক প্রভাব থাকলে তা নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন রজার্স।
রজার্সের মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, তিনি ট্যারিফ নীতিকে ‘সবসময় সমর্থন’ বা ‘সবসময় বিরোধিতা’—এই দুই চরম অবস্থানের কোনোটিই গ্রহণ করছেন না। বরং তার বক্তব্য হলো, ট্যারিফ যদি আমেরিকান শিল্প, শ্রমিক ও অর্থনীতির জন্য সুবিধা তৈরি করে, তাহলে সেটিকে সমর্থন করা উচিত। বিপরীতে, যদি কোনো ট্যারিফ মিশিগানের অর্থনীতি বা ব্যবসার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তাহলে সেটি পরিবর্তনের জন্য প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করে।
মিশিগানে আসন্ন সিনেট প্রতিযোগিতায় অর্থনীতি, উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং বাণিজ্যনীতি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। সেই প্রেক্ষাপটে রজার্সের ট্যারিফবিষয়ক বক্তব্য তার অর্থনৈতিক নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তুলে ধরেছে।তিনি একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতার বার্তা এবং মিশিগানের স্বার্থ রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।