ট্রাম্পের তদন্তে বড় ধাক্কা, সাবেক সিআইএ প্রধানকে তলব

ট্রাম্পকে ঘিরে তদন্তে এবার বড় চমক! সাবেক সিআইএ প্রধান জন ব্রেনানকে গ্র্যান্ড জুরিতে তলব করা হয়েছে। ১৫ অক্টোবর তাঁর সাক্ষ্যে নতুন কোনো তথ্য সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর।

ট্রাম্পের তদন্তে বড় ধাক্কা, সাবেক সিআইএ প্রধানকে তলব

ট্রাম্পের তদন্তে বড় ধাক্কা, সাবেক সিআইএ প্রধানকে তলব


সাবেক সিআইএ পরিচালক জন ব্রেনানকে আগামী ১৫ অক্টোবর ফ্লোরিডার ফোর্ট পিয়ার্সে একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরির সামনে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য সমন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। ব্রেনানের আইনজীবী কেন ওয়েইনস্টেইন জানিয়েছেন, তাঁকে এই গ্র্যান্ড জুরির সামনে হাজির হয়ে তদন্ত-সংক্রান্ত বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে বলা হয়েছে।

ট্রাম্পকে ঘিরে অতীতের বিভিন্ন সরকারি তদন্তে কোনো বেআইনি সমন্বয় বা ষড়যন্ত্র হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিচার বিভাগের চলমান একটি বিস্তৃত তদন্তের অংশ হিসেবে। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, সাবেক আইনপ্রয়োগকারী ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কেউ ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছিলেন কি না এবং তাঁর নাগরিক অধিকার থেকে তাঁকে বঞ্চিত করার কোনো বেআইনি পরিকল্পনা ছিল কি না।

তদন্তের আওতায় রয়েছে ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কার্যক্রম এবং পরবর্তী সময়ে ট্রাম্পের ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো বাসভবনে শ্রেণিবদ্ধ নথি উদ্ধারের তদন্তসহ বিভিন্ন সরকারি পদক্ষেপ। তদন্তকারীরা এসব ঘটনায় কর্মকর্তাদের ভূমিকা এবং তাঁদের মধ্যে সম্ভাব্য যোগাযোগ বা সমন্বয়ও খতিয়ে দেখছেন।

এই তদন্তে জন ব্রেনানের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ২০১৬ সালের নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন তৈরির সময় তিনি সিআইএর পরিচালক ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে তদন্তকারীরা ওই সময়ের সঙ্গে যুক্ত বর্তমান ও সাবেক সিআইএ কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

ব্রেনানকে গ্র্যান্ড জুরিতে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য সমন দেওয়ার অর্থ এই নয় যে তিনি কোনো অপরাধ করেছেন। গ্র্যান্ড জুরি সম্ভাব্য অপরাধের বিষয়ে সাক্ষ্য ও প্রমাণ পর্যালোচনা করে। এখন পর্যন্ত এই তদন্ত থেকে ব্রেনানের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ বা অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়নি।

ব্রেনান তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অন্যায় করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর আইনজীবীরা বিচার বিভাগের তদন্ত নিয়ে আইনি পদক্ষেপও নিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, ভবিষ্যতে ব্রেনানের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হলে তদন্তটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা প্রতিহিংসামূলক ছিল কি না, তা যাচাই করার জন্য সংশ্লিষ্ট নথি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

এই তদন্তের রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে তদন্তটির নেতৃত্বে থাকা প্রসিকিউটর জো ডি জেনোভার পদত্যাগের কারণে। ব্রেনানকে সমন দেওয়ার সময়ের কাছাকাছি তিনি পদত্যাগ করেন। ডি জেনোভা গত এপ্রিল থেকে ফ্লোরিডাভিত্তিক তদন্তটির নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। তাঁর পদত্যাগের ফলে তদন্তটি সামনে কীভাবে এগোবে, তা নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তদন্তকারীরা ট্রাম্পকে ঘিরে অতীতের বিভিন্ন তদন্তে যুক্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করছেন। এর মধ্যে ২০২২ সালে ট্রাম্পের মার-এ-লাগো বাসভবনে এফবিআইয়ের তল্লাশির সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের বিষয়ও রয়েছে। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, এসব সরকারি পদক্ষেপের পেছনে কোনো বেআইনি উদ্দেশ্য বা সমন্বয় ছিল কি না।

ব্রেনানকে ঘিরে ওয়াশিংটনে আরেকটি পৃথক তদন্তও চলছে। সেখানে ২০২৩ সালে কংগ্রেসের কাছে তিনি মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ব্রেনান এই অভিযোগও অস্বীকার করেছেন।

২০১৬ সালের রাশিয়া-সংক্রান্ত তদন্তের বিষয়টিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন সরকারি তদন্তে রাশিয়ার নির্বাচনী হস্তক্ষেপের প্রমাণ পাওয়া গেলেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারণা ও রাশিয়ার মধ্যে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র প্রমাণিত হয়নি। ফলে বর্তমান তদন্তে অতীতের সরকারি কর্মকাণ্ডের কোনো অংশ বেআইনিভাবে পরিচালিত হয়েছিল কি না, সেটিই নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জন ব্রেনানের ১৫ অক্টোবরের গ্র্যান্ড জুরি সাক্ষ্য তাই তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হতে পারে। তবে তাঁর সাক্ষ্য নিজেই কোনো অপরাধের প্রমাণ নয়। এখন নজর থাকবে, তিনি তদন্তকারীদের কী তথ্য দেন এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে বিচার বিভাগ ভবিষ্যতে কোনো ফৌজদারি পদক্ষেপ নেয় কি না।

এই ঘটনাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন বিতর্ক তৈরি হতে পারে। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি তদন্তগুলো রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল। অন্যদিকে তদন্তসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো এখনো বিচারাধীন ও অনুসন্ধানের পর্যায়ে রয়েছে। তাই চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এসব অভিযোগকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর