এআই নিয়ন্ত্রণে ভ্যান্সের আপত্তি, চীনের সঙ্গে লড়াইয়ে এগিয়ে থাকতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

এআই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর দাবিকে ‘ট্রোজান হর্স’ বললেন ভ্যান্স। তাঁর আশঙ্কা, অতিরিক্ত বিধিনিষেধে চীনের সঙ্গে প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্র।

এআই নিয়ন্ত্রণে ভ্যান্সের আপত্তি, চীনের সঙ্গে লড়াইয়ে এগিয়ে থাকতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

এআই নিয়ন্ত্রণে ভ্যান্সের আপত্তি, চীনের সঙ্গে লড়াইয়ে এগিয়ে থাকতে চায় যুক্তরাষ্ট্র


যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বড় প্রযুক্তি ও এআই কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে সরকারি নিয়ন্ত্রণের আহ্বান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেন, এমন উদ্যোগ কোনো কোনো ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ‘ট্রোজান হর্স’ হতে পারে। তাঁর আশঙ্কা, নিরাপত্তার কথা বলে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হলে তা শেষ পর্যন্ত নতুন প্রতিযোগীদের বাজারে প্রবেশ কঠিন করে দিতে পারে।

ভ্যান্স অবশ্য এআইয়ের ঝুঁকি অস্বীকার করেননি। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় হলো, প্রযুক্তির সম্ভাব্য ক্ষতি মোকাবিলা করতে হবে, কিন্তু এমনভাবে নয় যাতে যুক্তরাষ্ট্রের এআই উদ্ভাবন ও বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব দুর্বল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে এআই প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র যেন পিছিয়ে না যায়, সেটিকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন।

ভ্যান্সের এই মন্তব্যের সঙ্গে একই দিনের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানেরও মিল রয়েছে। ট্রাম্প এআই খাতের জন্য আরও কঠোর সরকারি নিয়ন্ত্রণের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে চীনের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এআই প্রতিযোগিতায় যে দেশ এগিয়ে থাকবে, ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত ক্ষমতার ক্ষেত্রেও তার বড় সুবিধা থাকবে।

এই বিতর্কের পেছনে রয়েছে এআই নিরাপত্তা নিয়ে প্রযুক্তি খাতের ভেতর থেকেই বাড়তে থাকা উদ্বেগ। অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী ড্যারিও অ্যামোডেইসহ কয়েকজন প্রযুক্তি নেতা দ্রুতগতিতে উন্নত এআই তৈরির ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, শক্তিশালী এআই ব্যবস্থা যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি হওয়ার আগেই অত্যন্ত সক্ষম হয়ে উঠতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের মধ্যেও এআই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা চলছে। মার্কিন সিনেটে এমন একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যেখানে এআই নির্মাতাদের বড় ধরনের ঝুঁকি কমানোর জন্য নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এমন এআই মডেল নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকা বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রযুক্তি প্রতিযোগিতাও বিতর্কটিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে মার্কিন গোয়েন্দা ও সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো কয়েকটি চীনা এআই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মার্কিন উন্নত এআই মডেলের সক্ষমতা নিজেদের প্রযুক্তিতে স্থানান্তরের জন্য ‘ডিস্টিলেশন’ পদ্ধতি ব্যবহারের অভিযোগ তোলে। চীনা পক্ষ অবশ্য এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে এআই নিয়ে বিতর্ক এখন শুধু প্রযুক্তির নিরাপত্তা বা ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং চীনের সঙ্গে বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার প্রশ্নও। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে এআই নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার প্রস্তুতিও চলছে।

ভ্যান্সের বক্তব্যের মূল বার্তা হলো, এআইয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, কিন্তু এমন কোনো নিয়ন্ত্রণ তিনি চান না যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি থামিয়ে দেয় বা চীনের জন্য প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে। এআই নিয়ন্ত্রণের সীমা কোথায় হবে এবং নিরাপত্তা ও উদ্ভাবনের মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য রাখা হবে, এখন সেটিই ওয়াশিংটনের বড় বিতর্ক।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর