ট্রাম্প সুদ কমাতে চান, ফেডে রেট বাড়ানোর সম্ভাবনায় বাড়ছে উত্তেজনা

ট্রাম্প সুদের হার কমানোর পক্ষে থাকলেও বাজারের পূর্বাভাসে বুধবার ফেডের সুদ বাড়ানোর সম্ভাবনা প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে।

ট্রাম্প সুদ কমাতে চান, ফেডে রেট বাড়ানোর সম্ভাবনায় বাড়ছে উত্তেজনা
ট্রাম্প সুদ কমাতে চান, ফেডে রেট বাড়ানোর সম্ভাবনায় বাড়ছে উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান এবং দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের মধ্যে নতুন করে মতপার্থক্যের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প যেখানে সুদের হার আরও কমানোর পক্ষে জোর দিচ্ছেন, সেখানে আর্থিক বাজারের সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে আগামী ফেড বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত উঠে এসেছে।

সাম্প্রতিক বাজার পূর্বাভাস ও অর্থনীতিবিদদের জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় ফেডারেল রিজার্ভ আবারও কঠোর আর্থিক নীতির পথে যেতে পারে। ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত রয়টার্সের অর্থনীতিবিদদের জরিপে ৮৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী এক-চতুর্থাংশ শতাংশ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ পয়েন্ট সুদের হার বাড়ানোর পূর্বাভাস দিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ফেডকে সুদের হার কমানোর আহ্বান জানিয়ে আসছেন। সম্প্রতি তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বের সবচেয়ে কম সুদের হার থাকা উচিত। ট্রাম্পের যুক্তি হলো, কম সুদের হার থাকলে ঋণের খরচ কমবে এবং ব্যবসা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

ফেডারেল রিজার্ভের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে মূল্যস্ফীতি। যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির হার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে রয়েছে। ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফেডের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে তুলনামূলক কঠোর অবস্থান নেওয়ার চাপ বাড়ছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত সুদের হার ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। বুধবার যদি ০ দশমিক ২৫ শতাংশ পয়েন্ট সুদ বাড়ানো হয়, তাহলে ২০২৩ সালের পর এটিই হবে ফেডের প্রথম সুদের হার বৃদ্ধি।

এ ধরনের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও আর্থিক বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। সুদের হার বাড়লে ঋণ নেওয়ার খরচ বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ ভোক্তাদের ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কমতে পারে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ, আবাসন বাজার এবং শেয়ারবাজারেও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ফেডের সুদের হার নির্ধারণের সিদ্ধান্ত কেবল রাজনৈতিক চাপের ওপর নির্ভর করে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাধারণত মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সামগ্রিক আর্থিক পরিস্থিতির তথ্য বিশ্লেষণ করেই নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়।

ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ফেডের নীতিগত পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। ট্রাম্প অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানো এবং ঋণের খরচ কমানোর জন্য কম সুদের হারকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। অন্যদিকে ফেডের প্রধান লক্ষ্য হলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।

বুধবারের সিদ্ধান্ত তাই বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফেড সুদের হার বাড়ালে বিনিয়োগকারীরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভবিষ্যৎ নীতির দিকনির্দেশনা বোঝার চেষ্টা করবেন। বিশেষ করে পরবর্তী বৈঠকগুলোতে আরও সুদ বাড়ানো হবে কি না, নাকি এটি একবারের সিদ্ধান্ত—সেদিকেও নজর থাকবে।

সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ইতোমধ্যেই মার্কিন সরকারি বন্ডের বাজার, ডলারের মূল্য এবং শেয়ারবাজারের প্রত্যাশায় প্রভাব ফেলছে। বিনিয়োগকারীরা শুধু সুদের সিদ্ধান্তের দিকে নয়, ফেডের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য নীতিনির্ধারকের বক্তব্যের দিকেও গভীর নজর রাখবেন।

ট্রাম্পের পক্ষ থেকে সুদের হার কমানোর চাপ অব্যাহত থাকলে ফেডের স্বাধীনতা নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক আইন অনুযায়ী স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয় এবং এর নীতিনির্ধারকদের রাজনৈতিক নির্দেশের পরিবর্তে অর্থনৈতিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা।

বুধবারের ফেডের সিদ্ধান্ত এখন ওয়াশিংটন ও আর্থিক বাজার—দুই জায়গাতেই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চাইছেন কম সুদের হার, আর বাজারের সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে মূল্যস্ফীতির কারণে উল্টো সুদ বাড়ানোর সম্ভাবনাই জোরালো হয়ে উঠেছে।

ফেড কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং ভবিষ্যৎ সুদের হার সম্পর্কে কী সংকেত দেয়, তার ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও বৈশ্বিক আর্থিক বাজারের পরবর্তী গতিপথ।

প্রতিবেদক

CSB News USA

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…