মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার আগে ইরানের হাতে চীনা স্যাটেলাইট ছবি, উঠছে গুরুতর প্রশ্ন

মার্কিন ঘাঁটিতে প্রাণঘাতী হামলার আগে ইরানের হাতে পৌঁছেছিল চীনা স্যাটেলাইট ছবি—এমন অভিযোগ ঘিরে তীব্র হচ্ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ।

মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার আগে ইরানের হাতে চীনা স্যাটেলাইট ছবি, উঠছে গুরুতর প্রশ্ন

মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার আগে ইরানের হাতে চীনা স্যাটেলাইট ছবি, উঠছে গুরুতর প্রশ্ন


জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগে ইরানের হাতে চীনা প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ করা উচ্চ-রেজোলিউশনের স্যাটেলাইট ছবি পৌঁছেছিল বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগটি সামনে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানকে ঘিরে চীনা প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য সহায়তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা প্রশ্ন।

জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটির হামলার আগে ও পরে তোলা উচ্চমানের স্যাটেলাইট ছবি ইরানের হাতে পৌঁছেছিল। ওই ঘাঁটিতে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছিলেন। ১৭ জুলাইয়ের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হন বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এসব স্যাটেলাইট ছবির উৎস চীনের কিছু প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে এমন কোনো প্রমাণ সামনে আসেনি যে চীন সরকার সরাসরি ওই হামলায় জড়িত ছিল বা হামলার নির্দেশ দিয়েছিল।

উচ্চ-রেজোলিউশনের স্যাটেলাইট ছবি সামরিক অভিযানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে। এসব ছবির মাধ্যমে সামরিক ঘাঁটির অবস্থান, অবকাঠামো, যানবাহন কিংবা অন্যান্য কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব। তবে ওই নির্দিষ্ট ছবিগুলো ইরানের হামলার পরিকল্পনা বা লক্ষ্য নির্ধারণে ঠিক কতটা ভূমিকা রেখেছিল, সে বিষয়ে এখনো পরিষ্কার তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

এখানেই তৈরি হয়েছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। কোনো বেসরকারি চীনা প্রতিষ্ঠান যদি জেনেশুনে সামরিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ইরানের কাছে সরবরাহ করে থাকে, তাহলে তা মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে স্যাটেলাইট ছবি সরবরাহ করা এবং সেই ছবির ভিত্তিতে হামলা চালানো—দুটি আলাদা বিষয়। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য থেকে সরাসরি বলা যাচ্ছে না যে ওই ছবিই হামলার সাফল্যের কারণ ছিল।

বিষয়টি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যও আলোচনায় এসেছে। চীনের গোয়েন্দা তৎপরতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি বেইজিংকে হামলার জন্য দায়ী করেননি। বরং ট্রাম্পের বক্তব্যের সারকথা ছিল, চীন যেমন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নজরদারি করে, যুক্তরাষ্ট্রও চীনের ওপর নজরদারি চালায়।

এর ফলে আপাতত ঘটনাটি চীনা সরকারের সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততার প্রমাণ হিসেবে নয়, বরং একটি গুরুতর গোয়েন্দা-সংক্রান্ত অভিযোগ হিসেবেই সামনে রয়েছে। চীনের কোনো প্রতিষ্ঠান কীভাবে এবং কেন এমন তথ্য ইরানের কাছে পৌঁছে থাকতে পারে, সেটিই এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, সামরিক প্রতিযোগিতা ও ভূরাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে আগে থেকেই টানাপোড়েন চলছে। এর সঙ্গে ইরানের কাছে মার্কিন সামরিক স্থাপনার সংবেদনশীল তথ্য পৌঁছানোর অভিযোগ যুক্ত হলে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন—কোন প্রতিষ্ঠান ছবিগুলো সরবরাহ করেছিল, কীভাবে সেগুলো ইরানের হাতে পৌঁছেছিল এবং ইরান সেগুলো সামরিক পরিকল্পনায় ব্যবহার করেছিল কি না। এসব প্রশ্নের উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

মার্কিন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে গুরুতর একটি অভিযোগ উঠেছে এবং বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে চীনা সরকার সরাসরি হামলায় জড়িত ছিল কিংবা স্যাটেলাইট ছবিই হামলার মূল কারণ এমন নিশ্চিত প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে নেই। আরও তদন্ত ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণের ওপরই নির্ভর করবে এই অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর