আমেরিকার ইবি-তিন ভিসার নামে এজেন্সির ভুয়া সনদ দেখিয়ে শত কোটি টাকার প্রতারণা

জনশক্তি অফিসের সনদ দেখিয়ে আমেরিকায় স্থায়ী ইমিগ্রেশনের মিথ্যা প্রলোভন দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র

আমেরিকার ইবি-তিন ভিসার নামে এজেন্সির ভুয়া সনদ দেখিয়ে শত কোটি টাকার প্রতারণা

আমেরিকার ইবি-তিন ভিসার নামে এজেন্সির ভুয়া সনদ দেখিয়ে শত কোটি টাকার প্রতারণা


আমেরিকার স্থায়ী নাগরিকত্ব বা ইবি-তিন গ্রিন কার্ড ভিসার স্বপ্ন দেখিয়ে প্রবাসী হতে চাওয়া বাংলাদেশিদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একশ্রেণীর অসাধু ইমিগ্রেশন এজেন্সি। এসব ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার প্রধান হাতিয়ার হলো দেয়ালজুড়ে টাঙিয়ে রাখা জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো বা বিএমইটির রিক্রুটিং এজেন্ট লাইসেন্স। সাধারণ মানুষ এই সরকারি সনদ দেখে ভাবেন প্রতিষ্ঠানটি বোধহয় যুক্তরাষ্ট্র পাঠানোর সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। প্রকৃতপক্ষে মধ্যপ্রাচ্য বা চুক্তিভিত্তিক শ্রমবাজারের জন্য প্রযোজ্য এই অনুমোদনকে আমেরিকান ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার সাথে গুলিয়ে দিয়ে চরম বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে। মার্কিন অভিবাসন আইনে বাংলাদেশি কোনো এজেন্সির এই লাইসেন্সের আইনি কোনো মূল্যই নেই।


বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন ২০১৩ অনুযায়ী বিএমইটি লাইসেন্স প্রদান করা হয় প্রধানত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো যেমন সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা মালয়েশিয়ায় চুক্তিভিত্তিক কর্মী পাঠানোর জন্য। বিএমইটির প্রচলিত আইনে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চমানের বা স্থায়ী অভিবাসন যেমন ইবি-তিন ভিসা প্রক্রিয়াকরণের কোনো স্পষ্ট রূপরেখা বা অনুমোদন নেই। তাসত্ত্বেও এজেন্সিগুলো এই আইনি সীমাবদ্ধতার কথা গোপন রেখে সাধারণ গ্রাহকের মানসিক দুর্বলতাকে কাজে লাগায়। চোখে ধুলো দেওয়ার উদ্দেশ্যে অফিসের মূল দরজায় বা ফ্রেমবন্দী করে সরকারি লাইসেন্স প্রদর্শন করা হয়, যাতে সেটিকে সর্বজনীন অনুমতিপত্র বলে মনে হয়।


গ্রাহকদের সাথে আর্থিক লেনদেনের সময় এসব এজেন্সি অত্যন্ত চালাকির আশ্রয় নেয়। মুখে তারা মার্কিন গ্রিন কার্ড পাওয়ার শতভাগ নিশ্চয়তা দেয়, কিন্তু লিখিত নথিপত্র বা রসিদে চালাকি করে পরামর্শ ফি বা নির্দেশনা সংক্রান্ত সেবা হিসেবে টাকা গ্রহণের কথা উল্লেখ করে। ফলে দীর্ঘ দিন পার হওয়ার পর কাজ না হলে ভুক্তভোগীরা যখন বিএমইটিতে গিয়ে অভিযোগ জানাতে যান, তখন দেখা যায় মূল চুক্তির সাথে মার্কিন ভিসার কোনো আইনি মিল নেই। কারণ বিএমইটি কখনোই আমেরিকার ইমিগ্রেশনের জন্য অর্থ লেনদেনের মধ্যস্থতা অনুমোদন করে না।
প্রকৃতপক্ষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন বিভাগ বা ডিপার্টমেন্ট অব লেবারের নিকট বাংলাদেশের কোনো এজেন্সির লাইসেন্সের মান একেবারেই শূন্য। মার্কিন আইন অনুযায়ী কোনো প্রাইভেট মধ্যস্থতাকারী সংস্থা সরাসরি স্পন্সরশিপ বিক্রি করতে পারে না। সে দেশের আইনে ইবি-তিন ক্যাটাগরির ফাইল পরিচালনার দায়িত্ব কেবল মার্কিন সরকার স্বীকৃত নথিভুক্ত অভিবাসন আইনজীবী অথবা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তার ওপর ন্যস্ত থাকে।


এমন পরিস্থিতিতে যেকোনো এজেন্সির সাথে চুক্তি করার আগে আবেদনকারীদের সচেতন হওয়া জরুরি। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বিএমইটি লাইসেন্স দেখিয়ে আমেরিকায় স্থায়ী বসবাসের প্রতিশ্রুতি দেয়, তবে তাদের নিকট তাৎক্ষণিকভাবে নিয়োগকর্তার অনুমোদন নম্বর এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত মার্কিন আইনজীবীর নিবন্ধন নম্বর দেখতে চাওয়া উচিত। সঠিক তথ্য যাচাই না করে প্রতারকদের ফাদে পা দিলে অর্থ ও সময় উভয়েই হারিয়ে যাওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি থেকে যায়।


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর