মেটসকে হারিয়ে সাই ইয়ংয়ের দৌড়ে শীর্ষে শ্লিটলার, ইয়াঙ্কিদের দুর্দান্ত জয় নিউইয়র্কের মাঠে
ছয় ইনিংসে এক রানও না দিয়ে আট উইকেট তুলে মেটসকে থামিয়ে ইয়াঙ্কিদের জয় এনে দিলেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা শ্লিটলার ক্যাম।
মেটসকে হারিয়ে সাই ইয়ংয়ের দৌড়ে শীর্ষে শ্লিটলার, ইয়াঙ্কিদের দুর্দান্ত জয় নিউইয়র্কের মাঠে
নিউইয়র্কে মেটসের বিপক্ষে দারুণ এক জয়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে ইয়াঙ্কিরা। রোববারের ম্যাচে মাত্র দুই রানে প্রতিপক্ষকে হারিয়েছে তারা। জয়ের সবচেয়ে বড় নায়ক ছিলেন তরুণ ডানহাতি বোলার ক্যাম শ্লিটলার। ছয় ইনিংস বল করে মাত্র একটি আঘাতের সুযোগ দিয়েছেন, কোনো রান হতে দেননি এবং আটজন ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়েছেন। তাঁর দুর্দান্ত বোলিংয়ের ওপর ভর করে মেটসকে শূন্য রানে আটকে রাখে ইয়াঙ্কিরা। ম্যাচটি শেষ হয় ২-০ ব্যবধানে।
এই জয়ের মাধ্যমে শুধু নগর প্রতিদ্বন্দ্বী মেটসকে হারানো নয়, শ্লিটলার নিজের মৌসুমের সেরা বোলিং ধারাবাহিকতারও আরও একটি প্রমাণ দিয়েছেন। ম্যাচের আগে তাঁর রান গড় ছিল ২-এর সামান্য ওপরে। মেটসের বিপক্ষে ছয় ইনিংসে কোনো রান না দেওয়ার পর সেটি নেমে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৯৫-এ। এর ফলে চলতি মৌসুমে মেজর লিগ বেসবলের সব নিয়মিত শুরুর বোলারের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে কম রান গড় নিয়ে শীর্ষে উঠে এসেছেন।
ম্যাচে শ্লিটলার মোট ৯৪টি বল করেছেন। এর মধ্যে তাঁর দ্রুতগতির প্রধান বল ছিল সবচেয়ে কার্যকর। ঘণ্টায় গড়ে প্রায় ৯৮ দশমিক ২ মাইল গতিতে করা সেই বল থেকে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের অনেকবার ব্যাট চালিয়েও বল ছোঁয়া সম্ভব হয়নি। তাঁর বাঁকানো বল থেকেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাট মিস হয়েছে। পুরো ম্যাচজুড়ে মেটসের ব্যাটসম্যানদের ওপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ এতটাই শক্ত ছিল যে পঞ্চম ইনিংসের দুই আউট হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি কোনো আঘাতের সুযোগই দেননি।
পঞ্চম ইনিংসে মেটসের ব্রেট বেটি অবশেষে শ্লিটলারের বলে একটি দ্বিগুণ আঘাত করেন। সেটিই ছিল ম্যাচে শ্লিটলারের দেওয়া একমাত্র আঘাত। এরপরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কোনো সমস্যা হয়নি। তিনি আরও দুই ব্যাটসম্যানকে বিনা আঘাতে ফিরিয়ে দিয়ে ষষ্ঠ ইনিংস শেষ করেন। ছয় ইনিংসে তাঁর পরিসংখ্যান দাঁড়ায় এক আঘাত, দুইবার ঘাঁটি নেওয়ার সুযোগ এবং আটটি আউট।
তবে ম্যাচের শেষভাগে শ্লিটলারকে ঘিরে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়। ষষ্ঠ ইনিংসের শেষ দিকে মেটসের বোয় বিচেটের জোরালো আঘাত সরাসরি তাঁর পায়ের দিকে চলে আসে। বলটির গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১১১ দশমিক ৫ মাইল। বলটি তাঁর শরীরে লাগার পর তিনি মাঠ থেকে বের হয়ে যান। তবে প্রাথমিকভাবে তাঁকে গুরুতর আহত বলে মনে হয়নি এবং দলীয় সূত্র ও ম্যাচ-পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুতর চোটের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়নি।
শ্লিটলার মাঠ ছাড়ার পর ইয়াঙ্কিদের বাকি তিন ইনিংস সামলান দলের ত্রাণকারী বোলাররা। ব্রেন্ট হেডরিক, পল ব্ল্যাকবার্ন ও ডেভিড বেডনার মিলে শেষ তিন ইনিংসে মেটসকে কোনো রান করতে দেননি। শেষ ইনিংসে বেডনার গুরুত্বপূর্ণভাবে মেটসের জুয়ান সোটোকে আউট করে ম্যাচের জয় নিশ্চিত করেন। বেডনারের জন্য এটি ছিল চলতি মৌসুমের ৩৪তম সফল সমাপ্তি।
ইয়াঙ্কিদের দুই রানের দুটিই আসে দুটি একক দূরপাল্লার আঘাত থেকে। প্রথম ইনিংসের শুরুতেই বেন রাইস বলকে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন। সেটি ছিল চলতি মৌসুমে তাঁর ৩৮তম এমন আঘাত। তৃতীয় ইনিংসে অস্টিন ওয়েলসও একইভাবে বল মাঠের বাইরে পাঠান। তাঁর আঘাতটি ছিল মৌসুমের ১১তম। ফলে মাত্র তিনটি দলীয় আঘাত নিয়েও ইয়াঙ্কিরা প্রয়োজনীয় দুই রান সংগ্রহ করে।
মেটসের হয়ে শুরুতে বল করা ক্রিশ্চিয়ান স্কটও খারাপ ছিলেন না। তিনি ছয় ইনিংস বল করে তিনটি আঘাতের সুযোগ দেন এবং সাতজনকে আউট করেন। কিন্তু বেন রাইস ও অস্টিন ওয়েলসের দুটি একক দূরপাল্লার আঘাতই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেয়। ইয়াঙ্কিদের শক্তিশালী ব্যাটিংয়ের বিপরীতে স্কট বেশির ভাগ সময় নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দুটি ভুলের মূল্য দিতে হয়েছে তাঁকে।
এই ম্যাচের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, শ্লিটলারের দুর্দান্ত মৌসুম এখন তাঁকে আমেরিকান লিগের সেরা বোলারের পুরস্কারের অন্যতম প্রধান দাবিদারে পরিণত করেছে। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত তিনি ৩১টি ম্যাচে শুরু থেকে বোলিং করেছেন। মোট ১৮৪ দশমিক ২ ইনিংসে ২২৮ জন ব্যাটসম্যানকে আউট করেছেন এবং মাত্র ৪৪টি ঘাঁটি নেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। তাঁর রান গড় ১ দশমিক ৯৫। সরকারি পরিসংখ্যানেও এই সংখ্যাগুলো নিশ্চিত হয়েছে।
শ্লিটলারের ধারাবাহিকতার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তিনি নিয়মিতভাবে প্রতিপক্ষকে এক রানের বেশি করতে দিচ্ছেন না। রকি দলের বিপক্ষে ৯ সেপ্টেম্বরের ম্যাচেও তিনি সাত ইনিংস বল করে মাত্র এক রান দিয়েছিলেন এবং ১০ জনকে আউট করেছিলেন। ওই ম্যাচের পরও তাঁর সেরা বোলারের পুরস্কারের দাবিটি আরও শক্ত হয়েছিল। মেজর লিগের সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ওই ম্যাচে এক রান বা তার কম দেওয়ার এটি ছিল তাঁর মৌসুমের ২০তম শুরু, যা দলের নতুন রেকর্ডও তৈরি করেছিল।
মেটসের বিপক্ষে রোববারের ম্যাচের আগে শ্লিটলারের রান গড় ছিল ২ দশমিক ০১। ছয় ইনিংসে কোনো রান না দেওয়ার ফলে সেটি কমে ১ দশমিক ৯৫ হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী একই সময়ে তাঁর মোট ইনিংস দাঁড়িয়েছে ১৮৪ দশমিক ২ এবং আউটের সংখ্যা ২২৮। অর্থাৎ শুধু এক ম্যাচের পারফরম্যান্স নয়, পুরো মৌসুমজুড়েই তিনি অসাধারণ ধারাবাহিকতা দেখিয়ে চলেছেন।
ইয়াঙ্কিদের জন্য এই জয় আরও গুরুত্বপূর্ণ কারণ দলটি এখন মৌসুমের শেষ পর্যায়ে এসে চূড়ান্ত পর্বে জায়গা নিশ্চিত করার খুব কাছে পৌঁছে গেছে। মেটসকে হারানোর পর ইয়াঙ্কিদের জয়-পরাজয়ের হিসাব দাঁড়িয়েছে ৮৬ জয় ও ৬৩ হার। শেষ কয়েকটি ম্যাচে দলের পারফরম্যান্সও শক্তিশালী। মেটসের বিপক্ষে জয়ের ফলে চূড়ান্ত পর্বে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় জয়ের সংখ্যা আরও কমে এসেছে।
অন্যদিকে মেটসের অবস্থা বেশ কঠিন। এই পরাজয়ের পর তাদের হিসাব দাঁড়িয়েছে ৬৯ জয় ও ৮০ হার। ম্যাচটিতে তারা মাত্র তিনটি আঘাত করতে পেরেছে এবং কোনো রান সংগ্রহ করতে পারেনি। বিশেষ করে ফ্রান্সিসকো লিন্ডর ও জুয়ান সোটোকে ইয়াঙ্কিদের বোলাররা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখেন। দুজন মিলে সাতবার ব্যাট করার সুযোগ পেলেও কোনো আঘাত করতে পারেননি এবং চারবার আউট হয়েছেন।
দুই নিউইয়র্ক দলের মধ্যকার এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহও ছিল ব্যাপক। ইয়াঙ্কি স্টেডিয়ামে ম্যাচটি দেখতে উপস্থিত ছিলেন ৪৫ হাজার ৫০৮ জন দর্শক। মাঠের পরিবেশ ছিল উৎসবমুখর। কিন্তু শুরু থেকেই শ্লিটলারের বোলিং মেটসের ব্যাটসম্যানদের চাপে রাখে। একদিকে ইয়াঙ্কিদের বোলিং ছিল নিয়ন্ত্রিত, অন্যদিকে বেন রাইস ও অস্টিন ওয়েলসের দুটি দূরপাল্লার আঘাত দলকে প্রয়োজনীয় রান এনে দেয়।
সব মিলিয়ে মেটসের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানের এই জয় ইয়াঙ্কিদের জন্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ, আর শ্লিটলারের জন্য ছিল ব্যক্তিগতভাবে স্মরণীয়। এক আঘাত দিয়ে ছয় ইনিংস শেষ করা, আটজনকে আউট করা, কোনো রান না দেওয়া এবং মৌসুমের রান গড় ১ দশমিক ৯৫-এ নামিয়ে আনা—সবকিছু মিলিয়ে সেরা বোলারের পুরস্কারের দৌড়ে তাঁর অবস্থান এখন আরও শক্ত। মৌসুমের শেষ দিকে এমন পারফরম্যান্স অব্যাহত রাখতে পারলে তরুণ এই বোলার ইয়াঙ্কিদের চূড়ান্ত পর্বের অভিযানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হয়ে উঠতে পারেন।