মণিপুরে ভোরে সশস্ত্র হামলায় একই পরিবারের দুজন নিহত ও শিশু আহত

ভারতের মণিপুরে এক মর্মান্তিক সশস্ত্র হামলায় গৃহিণী নিহত এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার স্বামী শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

মণিপুরে ভোরে সশস্ত্র হামলায় একই পরিবারের দুজন নিহত ও শিশু আহত

মণিপুরে ভোরে সশস্ত্র হামলায় একই পরিবারের দুজন নিহত ও শিশু আহত


ভারতের মণিপুর রাজ্যে এক নৃশংস সশস্ত্র হামলায় একই পরিবারের দুজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় নিহত নারীর নাম লহিংনাই সিংসিট এবং তার স্বামীর নাম সেইনেহ সিংসিট। হামলায় তাদের ছয় বছর বয়সী শিশুপুত্র গুরুতর আহত হয়েছে। গত তেরো সেপ্টেম্বর ভোরে তামেংলং জেলার দুর্গম এল তোলেন গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ওই দিনটি স্থানীয় কুকি জনগোষ্ঠীর কাছে বিশেষ শোক দিবস বা কালা দিবস হিসেবে পরিচিত ছিল।
ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, সেদিন ভোররাত আনুমানিক চারটার দিকে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত এল তোলেন গ্রামের ওই কৃষকের বাড়িতে অতর্কিত ঢুকে নির্বিচারে গুলি বর্ষণ করে। গুলির শব্দে পুরো এলাকা স্তব্ধ হয়ে যায়। হামলা শুরু হলে গৃহিণী লহিংনাই নিজ সন্তানকে রক্ষা করার জন্য নিজের শরীর দিয়ে ঢাল তৈরি করেন। ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান ওই নারী। তার কারণে তার সন্তান অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও শরীরে গুলির আঘাত পায়। তার স্বামী সেইনেহ সিংসিট পরিবারকে রক্ষা করতে গিয়ে গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে সকাল সাতটার দিকে তিনিও মৃত্যুবরণ করেন। তাদের পরিবারের আরও দুই সন্তান অক্ষত অবস্থায় পালিয়ে বাঁচতে সক্ষম হয়।


স্থানীয় প্রশাসন ও গ্রাম কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায়, সশস্ত্র দলটির এই হামলা ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত। হামলার পর নিকটস্থ আসাম রাইফেলসের কেন্দ্রীয় সামরিক বাহিনীর জোয়ানরা আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে দুর্গম পাহাড়িয়া পথ এবং বাজে যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সময়মতো চিকিৎসা সেবা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছিল।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় সামাজিক ও গ্রামভিত্তিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয় যে, এই হামলায় নাগাল্যান্ডের একটি নির্দিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী ও তাদের সহযোগী ক্যাডাররা জড়িত ছিল। তারা এই ঘটনাকে ওই এলাকার কুকি-জো জনগোষ্ঠীর ওপর ভয়াবহ আতঙ্ক সৃষ্টি ও উচ্ছেদ চেষ্টার একটি অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে এখন পর্যন্ত রাজ্য পুলিশ বা কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর দায় নিশ্চিত করা হয়নি। কোনো সংগঠন সরাসরি এই ঘটনার দায় স্বীকার করে বক্তব্য দেয়নি।
প্রতিবেশী নাগা জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি দল ও স্থানীয় গ্রাম কর্তৃপক্ষ আলাদা বার্তায় এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা জানায়, কোনো নিরীহ পরিবারের ওপর এমন হামলা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং তারা এলাকায় শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান। অন্যদিকে কুকি সামাজিক সংগঠনগুলো এই ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্য সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে এবং অর্থনৈতিক অবরোধ ও ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। তারা এই ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের জন্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে বিচার প্রক্রিয়া হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছে।
বর্তমানে এল তোলেন গ্রামসহ সংলগ্ন এলাকাগুলোতে চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত সামরিক ও আধা-সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান ও জড়িতদের সনাক্ত করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর