ট্রাম্পের আয়ারল্যান্ড সফরে ডাবলিনে রাস্তায় নামলেন হাজারো বিক্ষোভকারী
ট্রাম্পের আয়ারল্যান্ড সফর ঘিরে ডাবলিনে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ। গাজা ও মার্কিন নীতির প্রতিবাদের পাশাপাশি ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যেও তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক আলোচনা।
ট্রাম্পের আয়ারল্যান্ড সফরে ডাবলিনে রাস্তায় নামলেন হাজারো বিক্ষোভকারী
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়ারল্যান্ড সফর ঘিরে রাজধানী ডাবলিনে হাজারো মানুষ বিক্ষোভে নেমেছেন। শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প আয়ারল্যান্ডে পৌঁছানোর পর তাঁর সফরের প্রতিবাদে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রাস্তায় জড়ো হন। বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্পের নীতি, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে তাঁর অবস্থানের সমালোচনা করেন।
ডাবলিনের গার্ডেন অব রিমেমব্রেন্স এলাকা থেকে বিক্ষোভকারীদের একটি বড় অংশ মিছিল শুরু করেন। তাদের হাতে বিভিন্ন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। গাজা ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান, যুদ্ধ এবং সামরিক নীতির বিরুদ্ধেও অনেকে প্রতিবাদ জানান। ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেও বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন।
ট্রাম্পের আয়ারল্যান্ড সফর অবশ্য শুধু বিক্ষোভের কারণে আলোচনায় আসেনি। সফরের সময় তিনি আয়ারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ক্যাথরিন কনোলি ও প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক, মার্কিন বিনিয়োগ এবং আয়ারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
তবে সফরের সবচেয়ে আলোচিত রাজনৈতিক বিষয় হয়ে ওঠে আয়ারল্যান্ডের একত্রীকরণ নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য। তিনি প্রকাশ্যে বলেন, তিনি একটি ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড দেখতে চান। তাঁর এই বক্তব্য উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিতর্ককে আবারও সামনে নিয়ে আসে। উত্তর আয়ারল্যান্ড বর্তমানে যুক্তরাজ্যের অংশ, আর আয়ারল্যান্ড একটি স্বাধীন রাষ্ট্র।
আয়ারল্যান্ডের একত্রীকরণের প্রশ্নটি দেশটির ইতিহাস ও রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। উত্তর আয়ারল্যান্ডের একাংশ আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পক্ষে থাকলেও ইউনিয়নপন্থীরা যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বর্তমান সম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষে। ১৯৯৮ সালের গুড ফ্রাইডে চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সংঘাত অনেকটাই শেষ হয় এবং অঞ্চলটির সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে জনগণের সম্মতিকে গুরুত্বপূর্ণ করা হয়।
এ কারণে ট্রাম্পের মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইউনিয়নপন্থী নেতারা তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেছেন, উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার সেখানকার জনগণের। অন্যদিকে আইরিশ জাতীয়তাবাদীদের মধ্যে কেউ কেউ ট্রাম্পের বক্তব্যকে স্বাগত জানালেও এর রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ট্রাম্পের সফরের সময় আয়ারল্যান্ডের অন্য স্থানেও তাঁর বিরোধিতায় প্রতিবাদ হয়েছে। ফলে একদিকে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেছেন, অন্যদিকে ডাবলিনের রাস্তায় হাজারো মানুষের বিক্ষোভ তাঁর সফরকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।
ট্রাম্পের আয়ারল্যান্ড সফর কেবল দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক বা অর্থনৈতিক আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। ডাবলিনে হাজারো মানুষের প্রতিবাদ এবং ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য—দুই ঘটনাই সফরটিকে আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত করে তুলেছে এবং আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।