টেক্সাস গভর্নর নির্বাচনে জমজমাট লড়াইয়ে মুখোমুখি শীর্ষ দুই প্রার্থী

টেক্সাস গভর্নর নির্বাচনে বর্তমান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট এবং ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনোহোসার মধ্যে তীব্র হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে

টেক্সাস গভর্নর নির্বাচনে জমজমাট লড়াইয়ে মুখোমুখি শীর্ষ দুই প্রার্থী

টেক্সাস গভর্নর নির্বাচনে জমজমাট লড়াইয়ে মুখোমুখি শীর্ষ দুই প্রার্থী


যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচন ঘিরে দেশটির রাজনীতি এখন বেশ উত্তপ্ত। টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছেন রিপাবলিকান দলের প্রবীণ নেতা এবং বর্তমান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট। অন্যদিকে তাকে শক্ত চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন ডেমোক্র্যাটিক দলের অস্টিনের প্রতিনিধি জিনা হিনোহোসা। নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, দুই প্রার্থীর প্রচার এবং জনমত জরিপের ফল রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। জনমত সমীক্ষায় দেখা গেছে যে দুই প্রার্থীর অবস্থান বেশ কাছাকাছি। সাম্প্রতিক এন প্লাস ও ইউনিভিশনের এক জরিপে দেখা যায়, দুই প্রার্থীই ৪৭ শতাংশ ভোটারের সমর্থন পেয়ে একেবারে সমানে সমান অবস্থানে রয়েছেন। বাকি ৫ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্ত নেননি। অন্য দিকে টেক্সাস পলিটিক্স প্রজেক্টের আরেক সমীক্ষায় অ্যাবট হিনোহোসার চেয়ে মাত্র ৫ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন। এই লড়াই শুধু টেক্সাসের জন্য নয়, বরং পুরো মার্কিন জাতীয় রাজনীতির ওপর বড় প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।  

গ্রেগ অ্যাবট ২০১৫ সাল থেকে টেক্সাসের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এবার জয়ী হলে তিনি এই অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী গভর্নর হিসেবে ইতিহাস গড়বেন। প্রাথমিক বাছাই পর্বে নিজের দলের প্রায় ৮২ শতাংশ ভোট পেয়ে তিনি রিপাবলিকান মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন। অ্যাবটের প্রচারের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে টেক্সাসের শক্তিশালী অর্থনীতি বজায় রাখা, সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করা এবং কর কমানো। তবে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকার কারণে কিছু ভোটারের মধ্যে পরিবর্তন আনার ইচ্ছেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অ্যাবটের তহবিল সংগ্রহ অত্যন্ত শক্তিশালী; গত জুলাইয়ের হিসাব অনুযায়ী তার প্রচার তহবিলে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ সাড়ে ছ কোটি ডলারের বেশি। রিপাবলিকানদের প্রধান অস্ত্র হলো অঙ্গরাজ্যের ধারাবাহিক অর্থনৈতিক সাফল্য এবং শক্ত রাজনৈতিক ভিত্তি।  

অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনোহোসা পেশায় একজন মানবাধিকার ও শ্রম আইনজীবী। ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে প্রায় ৬০ শতাংশ ভোট পেয়ে সাবেক কংগ্রেস সদস্য ক্রিস বেলকে হারিয়ে দলীয় প্রার্থিতা নিশ্চিত করেন তিনি। হিনোহোসার মূল রাজনৈতিক লড়াই জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, সাধারণ পরিবারের আর্থিক সুরক্ষা প্রদান, পাবলিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বৃদ্ধির ওপর কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের পকেটে সরাসরি অর্থ পৌঁছে দিতে তিনি গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই করদাতাদের এক হাজার ৫০০ ডলার অর্থ ফেরতের ঘোষণা দিয়েছেন। তার সমর্থকরা তাকে একজন বলিষ্ঠ ও সংস্কারবাদী নেতা মনে করছেন, যিনি টেক্সাসের শিক্ষা বাজেট ও জনসেবা খাতের আমূল পরিবর্তন আনতে সক্ষম। বিশেষ করে লাতিনো ভোটারদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা বেশ উল্লেখযোগ্য।  

নির্বাচনী লড়াইয়ের ক্ষেত্রে দুই দলের দৃষ্টিভঙ্গি পুরোপুরি ভিন্ন। রিপাবলিকান দল জাতীয় রাজনীতি এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অর্থনৈতিক বার্তা সামনে এনে ভোটারদের টানার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা স্থানীয় সমস্যা, যেমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রক্ষা করা, সম্পত্তি কর নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি সেবার মান উন্নয়নের ওপর জোর দিচ্ছে। লাতিনো ও তরুণ ভোটারদের সমর্থন এই নির্বাচনে বিশাল ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বাস রাজনীতি গবেষকদের। প্রাথমিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, লাতিনোদের মধ্যে হিনোহোসা প্রায় ১২ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। তা সত্ত্বেও তহবিলের দিক দিয়ে অ্যাবটের আধিপত্য হিনোহোসার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। তবে ভোটারদের সমর্থনের সাম্প্রতিক পরিবর্তন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে টেক্সাসে এবার লড়াই
আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হবে।  
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নির্বাচন নিয়ে একটি পোল তৈরি করে সাধারণ জনমত যাচাইয়ের চেষ্টা করা হয়েছে। পোলে ভোটারদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, আজ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তারা কাকে ভোট দেবেন। এই জরিপের তথ্যগুলো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পরিসংখ্যান নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ মানুষের একটি সাময়িক ভাবাবেগের বহিঃপ্রকাশ মাত্র।
তথ্য যাচাই বা ফ্যাক্ট চেক অনুযায়ী, এই নির্বাচনের কোনো নিশ্চিত বিজয়ী এখনো নির্ধারিত হয়নি। বিভিন্ন জরিপ জানাচ্ছে যে লড়াই অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং চূড়ান্ত ফলাফল ভোটের দিনই পাওয়া যাবে। টেক্সাস ঐতিহাসিকভাবে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হলেও এবার হাড্ডাহাড্ডি প্রতিযোগিতা হতে যাচ্ছে। প্রতিটি সিদ্ধান্ত এবং প্রচারণা শেষ মুহূর্তের জয়-পরাজয় নির্ধারণ করতে পারে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর