সৌদি তেল পাইপলাইনে হামলায় ইরান জড়িত বলে ট্রাম্পের মন্তব্য

সৌদি আরবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র উদ্বেগ। ডাবলিনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই নজিরবিহীন ধ্বংসাত্মক হামলার পেছনে সম্ভবত ইরানের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ হাত রয়েছে।

সৌদি তেল পাইপলাইনে হামলায় ইরান জড়িত বলে ট্রাম্পের মন্তব্য

সৌদি তেল পাইপলাইনে হামলায় ইরান জড়িত বলে ট্রাম্পের মন্তব্য


আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়—সৌদি আরবের প্রাণকেন্দ্রের তেল পাইপলাইনে হামলার পেছনে ইরান রয়েছে কি না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, "আমার মনে হয় তারা জড়িত, সম্ভবত তারাই এটা করেছে"।  


হামলার প্রকৃতি ও উৎস: রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলের সংযোগকারী কৌশলগত পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনটিতে একাধিক সশস্ত্র ড্রোন দিয়ে আঘাত হানা হয়। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইপলাইনের সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং এতে বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন। পরবর্তীতে ইরাক সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে যে, তাদের ভূখণ্ডের মাইসান প্রদেশ থেকে এই ড্রোন হামলাগুলো চালানো হয়েছিল। এই ঘটনার জেরে সংশ্লিষ্ট সামরিক কমান্ডারকে বরখাস্ত করেছে বাগদাদ।  


বাস্তব প্রভাব ও বিশ্ব বাজারের ঝুঁকি: পারস্য উপসাগরের প্রণালী এড়িয়ে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল পরিবহনের জন্য এই পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনটি সৌদি আরবের সবচেয়ে বিকল্প ও নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফেই ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইতিমধ্যেই জ্বালানি তেলের দাম আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আসন্ন মার্কিন নির্বাচনের আগে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উদ্বেগ তৈরি করেছে।  


সৌদি আরবের অবস্থান ও ট্রাম্পের দাবি: হামলার পর সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে একাধিকবার টেলিফোনে কথা বলেছেন ট্রাম্প। তবে ইরাক সরকারের অনুরোধের প্রেক্ষিতে রিয়াদ এখনই কোনো পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে বাগদাদ নিজেদের ভূমি থেকে পরিচালিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সময় পায়। অন্যদিকে, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে সরাসরি সংঘাত এড়ানোর বার্তা দিয়েছে বলেও দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।  


মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মাঝে বিশ্ব অর্থনীতি এখন বড় ধরণের জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে আন্তর্জাতিক নৌপথ সচল রাখতে তারা পর্যবেক্ষণ জোরদার করছেন, তবে জ্বালানি তেলের বর্তমান ঊর্ধ্বমুখী দাম সাধারণ ভোক্তাদের পকেটে বড় ধাক্কা দিতে যাচ্ছে।


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর