ইউক্রেন যুদ্ধে পাঁচ লাখের বেশি রুশ সেনা নিহত ব্রিটিশ গোয়েন্দা তথ্যে চাঞ্চল্য

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার বিশাল সামরিক ক্ষয়ক্ষতি ও পাঁচ লাখের বেশি সেনা নিহতের দাবি ঘিরে নতুন উত্তেজনা।

ইউক্রেন যুদ্ধে পাঁচ লাখের বেশি রুশ সেনা নিহত ব্রিটিশ গোয়েন্দা তথ্যে চাঞ্চল্য

ইউক্রেন যুদ্ধে পাঁচ লাখের বেশি রুশ সেনা নিহত ব্রিটিশ গোয়েন্দা তথ্যে চাঞ্চল্য


ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক হামলা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত পাঁচ লাখেরও বেশি রুশ সৈন্য প্রাণ হারিয়েছেন বলে দাবি করেছেন যুক্তরাজ্যের সামরিক বাহিনীর প্রধান। ব্রিটিশ ডিফেন্স স্টাফের প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল স্যার রিচার্ড নাইটনের উদ্ধৃতি দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই তথ্য সামনে এনেছে। তার দেওয়া সাম্প্রতিক এই সামরিক পর্যালোচনায় উঠে এসেছে যুদ্ধের এক ভয়াবহ চিত্র। এতে বলা হয়েছে, প্রাণহানি ও আহত সৈন্যের সংখ্যা হিসাব করলে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার মোট হতাহতের সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ ছুঁয়েছে। এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতি রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ সমাজব্যবস্থা ও সামরিক শক্তিতে এক বিশাল ধাক্কা দিয়েছে। এর পাশাপাশি সামরিক সরঞ্জামের ক্ষেত্রেও মস্কোকে চরম চড়া মূল্য দিতে হয়েছে।  যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা এবং ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর দেওয়া তথ্যের মধ্যে এক অবিশ্বাস্য মিল লক্ষ্য করা গেছে। ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ থেকেও সম্প্রতি দাবি করা হয়েছে যে যুদ্ধে রাশিয়ার মোট সেনা ক্ষয়ক্ষতি ১৫ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। তবে এই তথ্যের বিপরীতে রাশিয়ার সরকারি অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন। মস্কো সাধারণত তাদের যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি সংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখে এবং নিয়মিত কোনো তালিকা প্রকাশ করে না। ফলে যুক্তরাজ্য বা ইউক্রেন কর্তৃক ঘোষিত এই সংখ্যাটি নিরপেক্ষভাবে শতভাগ নিশ্চিত করা কঠিন হলেও পশ্চিমা সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, রণাঙ্গনে রাশিয়ার আক্রমণাত্মক কৌশল এবং দীর্ঘদিনের তীব্র রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি বিবেচনা করলে এই পরিসংখ্যানের বাস্তবভিত্তি অত্যন্ত জোরালো।  


ব্রিটিশ গোয়েন্দা প্রধান সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছেন, পাঁচ লাখ সেনা নিহতের মানে হলো রাশিয়ার বিভিন্ন প্রান্তের আধা মিলিয়ন পরিবারে আজ কেবলই প্রিয়জনকে হারানোর নীরব হাহাকার। দেশটির অসংখ্য ঘরে এখন ঝুলে আছে নিহত বাবা, ভাই, স্বামী বা সন্তানের ছবি। তিনি আরো উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসের পর থেকেই এই প্রাণহানির সিংহভাগ ঘটেছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এত বড় মূল্য চুকিয়েও মস্কো ইউক্রেনের মাত্র ২ শতাংশের মতো ভূখণ্ড নতুন করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পেরেছে। খুব সামান্য ভূখণ্ডগত অর্জনের জন্য এই পরিমাণ মানবেতর প্রাণহানিকে তিনি এক চরম ও অর্থহীন মানবিক বিপর্যয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।  


শুধু সেনাবহর বা মানবসম্পদ নয়, সরঞ্জাম ধ্বংসের দিক থেকেও রাশিয়া অভূতপূর্ব সংকটে পড়েছে। ইউক্রেনের আকাশসীমা ও রণক্ষেত্রে রাশিয়ার ১০ হাজারেরও বেশি সাজোয়া যান পুরোপুরি ধ্বংস বা অকেজো হয়ে গেছে। প্রায় তিন হাজার কামান ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৩৭০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার হারিয়েছে মস্কো। বিশাল এই ক্ষতির প্রভাব পড়ছে সরাসরি যুদ্ধের গতিপথে। রুশ বাহিনীর আকার বড় হলেও তাদের অগ্রযাত্রার গতি আগের চেয়ে অনেক কমে এসেছে বলে পশ্চিমের সামরিক বিশ্লেষকরা একমত হয়েছেন।  


যুদ্ধের প্রভাব এখন কেবল রণক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নেই, তা আছড়ে পড়েছে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক নানা নিষেধাজ্ঞা এবং সেনা সমন্বয় নিশ্চিত করতে গিয়ে রাশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মারাত্মক ধীরগতির হয়ে পড়েছে। বাজারে মুদ্রাস্ফীতি আশঙ্কাজনকভাবে উর্ধ্বমুখী। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন রাসায়নিক ও জ জ্বালানি খাতে তৈরি হয়েছে তীব্র অস্থিরতা।


অন্যদিকে ইউক্রেন তাদের নিজস্ব কৌশলে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। রুশ ভূখণ্ডের বহু গভীরে থাকা তেল শোধনাগার এবং পরিবহন কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে রাশিয়ার মূল অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি পঙ্গু করে দেওয়ার চেষ্টা করছে কিয়েভ। রাশিয়ার ভেতরে তিন হাজার কিলোমিটার দূরের এলাকাতেও ইউক্রেনীয় ড্রোন সফলভাবে আঘাত হেনেছে। এর জবাবে রাশিয়াও ইউক্রেনের বেসামরিক এলাকা ও জ্বালানি কেন্দ্রে ড্রোন ও রকেট হামলা অব্যাহত রেখেছে। দুই পক্ষেরই এই লাগাতার ড্রোন যুদ্ধে সংঘাতের নতুন এক মাত্রা যোগ হয়েছে, যার প্রভাব পুরো বিশ্বের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে অনাকাঙ্ক্ষিত অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর