হুথি অগ্রযাত্রা ও ইরানের চাপ, নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে সৌদি আরবের
হুথি বিদ্রোহীদের দ্রুত অগ্রযাত্রা লোহিত সাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের জন্য হুমকি তৈরি করেছে। ইরানপন্থী ইরাকি মিলিশিয়াদের ওপর দায়ী করা ড্রোন হামলার কারণে সৌদি আরবকে একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন বন্ধ করতে হয়েছে। একই সময়ে ইরান হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত করে যাচ্ছে
হুথি অগ্রযাত্রা ও ইরানের চাপ, নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে সৌদি আরবের
হুথি বিদ্রোহীদের দ্রুত অগ্রযাত্রা লোহিত সাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের জন্য হুমকি তৈরি করেছে। ইরানপন্থী ইরাকি মিলিশিয়াদের ওপর দায়ী করা ড্রোন হামলার কারণে সৌদি আরবকে একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন বন্ধ করতে হয়েছে। একই সময়ে ইরান হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত করে যাচ্ছে।
সৌদি আরবের জন্য এটি একটি দুঃস্বপ্নের পরিস্থিতি। এর প্রভাব বৈশ্বিক বাজারেও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সৌদি আরবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে অজনপ্রিয় ও অচলাবস্থায় থাকা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আরও বিস্তৃত করতে অনিচ্ছুক বলে মনে হচ্ছে, বিশেষ করে কংগ্রেস নির্বাচন সামনে রেখে।
অন্যদিকে, হুথিদের অগ্রগতি এবং পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়া ইরানের ওপর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণও আগের তুলনায় কিছুটা শিথিল হয়েছে।
সৌদি আরবে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল র্যাটনি বলেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সৌদি সরকারের জন্য “অত্যন্ত হতাশাজনক”।
তিনি বলেন, ইরানকে সৌদি আরব অপছন্দ করলেও এই যুদ্ধ তারা কখনো চায়নি এবং এ নিয়ে তাদের গভীর উদ্বেগ ছিল। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তাদের আশঙ্কা করা প্রায় সব ধরনের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিই বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে।
সৌদি সরকার এ বিষয়ে মন্তব্য করার অনুরোধের জবাব দেয়নি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সৌদি কর্মকর্তা বলেন, সৌদি আরব নিজেদের রক্ষা করবে এবং লোহিত সাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রসহ অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করবে।
নতুন মধ্যপ্রাচ্যের জন্য সৌদি আরবের আশা ভেস্তে যাচ্ছে
সৌদি আরবের যুবরাজ ও কার্যত শাসক মোহাম্মদ বিন সালমান বহু বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যকে একটি ভিন্ন পথে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের মাধ্যমে রক্ষণশীল রাজতন্ত্রকে একটি বৈশ্বিক ব্যবসাকেন্দ্রে পরিণত করা এবং আরও সমৃদ্ধ ও আন্তঃসংযুক্ত একটি আঞ্চলিক পরিবেশ তৈরি করাই ছিল তাঁর পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।
কিন্তু ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর সেই প্রচেষ্টায় বড় ধরনের ধাক্কা লাগে। ওই হামলার পর একের পর এক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে মধ্যপ্রাচ্যে।
এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালালে তেহরান সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাস রপ্তানি আটকে পড়ে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়।
সৌদি আরব অবশ্য কিছুটা ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সক্ষম হয়েছিল। দেশটি আরব উপদ্বীপের ভেতর দিয়ে লোহিত সাগর পর্যন্ত তেল পরিবহন করতে পারে। সেখান থেকে তেল ইউরোপে পাঠানো সম্ভব মিসরের সুয়েজ খাল ও সুয়েজ-মেডিটেরেনিয়ান (সুমেদ) পাইপলাইন দিয়ে। এশিয়ার বাজারে পাঠানোর জন্য বাব আল-মান্দেব প্রণালি হয়ে ভারত মহাসাগরের দিকেও তেল পরিবহনের সুযোগ রয়েছে।
কিন্তু হুথিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি এবং লোহিত সাগরকেন্দ্রিক নতুন হুমকি সৌদি আরবের এই বিকল্প পথগুলোকেও অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।
ফলে ইরান ও তার মিত্রদের সঙ্গে চলমান সংঘাতে সৌদি আরব ক্রমেই এমন এক পরিস্থিতিতে পড়ছে, যেখানে নিজেদের নিরাপত্তা ও জ্বালানি রপ্তানি সুরক্ষার জন্য তাদের হাতে কার্যকর বিকল্পের সংখ্যা কমে আসছে।
সূত্র: অ্যাসোসিয়েট প্রেস