ধর্ষণ-নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে এবার মাঠে নামবে মহিলা দল: রিজভী

ধর্ষণ ও নারী-শিশু নির্যাতন বন্ধে কঠোর সামাজিক প্রতিরোধ গড়তে মহিলা দলকে মাঠে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানালেন বিএনপির রিজভী।

ধর্ষণ-নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে এবার মাঠে নামবে মহিলা দল: রিজভী

ধর্ষণ-নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে এবার মাঠে নামবে মহিলা দল: রিজভী


বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, সমাজ থেকে ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ দূর করতে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলকে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে।

শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচির আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় রিজভী এসব কথা বলেন। তার বক্তব্যের বিষয়টি একই দিনে একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

রিজভীর বক্তব্যে নারী নির্যাতন প্রতিরোধের পাশাপাশি নারীর শিক্ষা, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক অংশগ্রহণের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি মনে করেন, নারীর অধিকার নিশ্চিত করার জন্য শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়; একই সঙ্গে শিক্ষা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোও জরুরি।

জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে সংগঠনটির রাজনৈতিক ও সামাজিক ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন তিনি। রিজভীর ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময়ের ত্যাগ ও রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সংগঠনটি গড়ে উঠেছে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় নারীদেরও সমান সক্ষমতা রয়েছে।

নারী ও শিশু নির্যাতনের বিষয়টি বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত একটি সমস্যা। ধর্ষণ, যৌন সহিংসতা, পারিবারিক নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, যৌতুকজনিত নির্যাতন এবং শিশুদের ওপর সহিংসতার মতো ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এসব অপরাধের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা, অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত, বিচার এবং অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

এই প্রেক্ষাপটে রিজভীর বক্তব্যের মূল রাজনৈতিক বার্তা হলো—নারী নির্যাতন প্রতিরোধে রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকেও সামাজিক পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের মতো নারীভিত্তিক সংগঠন স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা, নারীর অধিকার এবং সামাজিক প্রতিরোধ তৈরিতে কাজ করতে পারে—এমন প্রত্যাশাই তার বক্তব্যে উঠে এসেছে।

রিজভী আরও বলেন, নারীদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করা এবং তাদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা প্রয়োজন। অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল নারীরা অনেক সময় পারিবারিক বা সামাজিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে সহজে অবস্থান নিতে পারেন না—এমন বাস্তবতার কারণে নারীর কর্মসংস্থান ও আর্থিক সক্ষমতাকে নারী নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তার বক্তব্যে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের রাজনৈতিক সক্ষমতার বিষয়টিও উঠে আসে। রিজভী দাবি করেন, মহিলা দলের নেতারা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে অযোগ্য নন; বরং তারা রাষ্ট্র পরিচালনায় সমানভাবে দক্ষ। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর কথাও তিনি তুলে ধরেন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীতে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল। সংগঠনটির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে নয়াপল্টনে কর্মসূচির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে রিজভীর বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি মূলত একটি রাজনৈতিক দলের নেতার বক্তব্য এবং ভবিষ্যৎ কর্মকৌশল বা প্রত্যয়ের কথা। ফলে ‘ধর্ষণ ও নারী-শিশু নির্যাতন মুছে দেওয়া হবে’—এই কথাটিকে তাৎক্ষণিক বাস্তব ফলাফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের পক্ষ থেকে এমন অপরাধের বিরুদ্ধে কাজ করার রাজনৈতিক অঙ্গীকার হিসেবেই উপস্থাপন করা উচিত।

নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হলে রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্রুত পদক্ষেপ, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা, আইনি সহায়তা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সচেতনতাও প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়ে আসছে, তার মধ্যে রয়েছে নারীর শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান তৈরি, সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা এবং অপরাধের ক্ষেত্রে দায়মুক্তির সংস্কৃতি বন্ধ করা। রাজনৈতিক দলগুলোর নারী সংগঠনগুলো এসব ক্ষেত্রে বাস্তব কর্মসূচি নিলে তার সামাজিক প্রভাব তৈরি হতে পারে।

রিজভীর বক্তব্যের আরেকটি দিক হলো নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নারীরা কেবল রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে নয়, রাষ্ট্র পরিচালনা ও নীতিনির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। এই অবস্থান বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নির্বাচনী রাজনীতি, স্থানীয় সরকার এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর