এইচ-১বি কর্মীদের জন্য বড় সতর্কবার্তা, চাকরি গেলেই যুক্তরাষ্ট্রে থাকার ৬০ দিনের সুযোগ বাতিলের প্রস্তাব

চাকরি হারানো এইচ-১বি কর্মীদের জন্য বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব, কার্যকর হলে নতুন চাকরি খোঁজার ৬০ দিনের সুযোগ আর থাকবে না।

এইচ-১বি কর্মীদের জন্য বড় সতর্কবার্তা, চাকরি গেলেই যুক্তরাষ্ট্রে থাকার ৬০ দিনের সুযোগ বাতিলের প্রস্তাব

এইচ-১বি কর্মীদের জন্য বড় সতর্কবার্তা, চাকরি গেলেই যুক্তরাষ্ট্রে থাকার ৬০ দিনের সুযোগ বাতিলের প্রস্তাব


যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। নতুন প্রস্তাবটি কার্যকর হলে এইচ-১বি ভিসাধারীরা চাকরি হারানোর পর বর্তমানে যে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের সময় পান, সেই সুযোগ আর নাও থাকতে পারে। শুধু এইচ-১বি নয়, আরও কয়েকটি অস্থায়ী কর্মভিসার ক্ষেত্রেও একই পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ ১১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রস্তাবিত নিয়মে অস্থায়ী কর্মভিসাধারীদের চাকরি বা অনুমোদিত কাজ বন্ধ হয়ে গেলে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের বিবেচনাধীন অবকাশের বিধান তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। সরকারি নথিতে বলা হয়েছে, বর্তমান নিয়মে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কর্মসংস্থান বন্ধ হওয়ার পর কর্মী ও তার নির্ভরশীলরা সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থেকে নতুন চাকরি বা অন্য বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থার চেষ্টা করতে পারেন। 

বর্তমান ব্যবস্থাটি বিশেষ করে উচ্চ দক্ষতার বিদেশি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করা এইচ-১বি কর্মী হঠাৎ চাকরি হারালে তিনি এই সময়ের মধ্যে নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজে নিতে পারেন। নতুন নিয়োগকর্তা প্রয়োজনীয় আবেদন করলে কর্মী বৈধভাবে নতুন চাকরিতে যাওয়ার প্রক্রিয়া চালাতে পারেন। একই সময়ে কেউ চাইলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অন্য বৈধ অভিবাসন অবস্থায় যাওয়ার আবেদনও করতে পারেন। 

কিন্তু প্রস্তাবিত পরিবর্তন কার্যকর হলে এই সুযোগ অনেকটাই সীমিত হয়ে যাবে। স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ বলছে, কর্মভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে ৬০ দিনের এই বিবেচনাধীন অবকাশ সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে তারা মনে করছে। বিভাগের যুক্তি হলো, কোনো ব্যক্তিকে যে নির্দিষ্ট কাজের ভিত্তিতে অস্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, সেই কাজ বা কর্মসংস্থান শেষ হয়ে গেলে তার যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের ভিত্তিও শেষ হওয়া উচিত। 

সরকারি প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, বর্তমান ৬০ দিনের ব্যবস্থা পরিচালনার ক্ষেত্রে অভিবাসন কর্মকর্তাদের বিভিন্ন বিষয় যাচাই করতে হয়। কোনো কর্মীর ক্ষেত্রে অবকাশটি প্রযোজ্য কি না, সেটি কমানো বা পুরোপুরি বাতিল করা হবে কি না এবং চাকরি ঠিক কোন তারিখে শেষ হয়েছে—এসব বিষয় নির্ধারণ করতে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়। এই জটিলতা কমাতেও নিয়ম পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। 

রয়টার্স জানিয়েছে, প্রস্তাবিত পরিবর্তনটি শুধু এইচ-১বি কর্মীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ই-১, ই-২, এল-১, ও-১, টি-এন, এইচ-১বি-১ এবং ই-৩ শ্রেণির কিছু কর্মভিসাধারীর ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। এসব ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করা বিদেশি কর্মীরা চাকরি হারালে নতুন নিয়ম তাদের জন্য দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এটি এখনো চূড়ান্ত আইন বা কার্যকর নিয়ম নয়। এটি একটি প্রস্তাবিত নিয়ম। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জনসাধারণ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত নেওয়ার প্রক্রিয়া রয়েছে। তাই বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করা এইচ-১বি কর্মীদের জন্য বিদ্যমান ৬০ দিনের ব্যবস্থা এখনই বাতিল হয়ে গেছে—এমন দাবি সঠিক নয়। 

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রস্তাব বিদেশি দক্ষ কর্মীদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ অনেক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বিদেশি দক্ষ কর্মীদের ওপর নির্ভর করে। চাকরি হারানোর পর কর্মীদের হাতে নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজার সময় কমে গেলে প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মী নিয়োগ ও কর্মী ধরে রাখার পরিকল্পনাতেও পরিবর্তন আসতে পারে। 

বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি, প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি, চিকিৎসা, গবেষণা ও বিভিন্ন পেশায় বাংলাদেশি নাগরিকরা কর্মভিসায় কাজ করছেন। তাদের মধ্যে যারা এইচ-১বি ব্যবস্থার আওতায় রয়েছেন, তাদের চাকরি চলে গেলে নতুন চাকরি পাওয়া এবং বৈধ অভিবাসন অবস্থান বজায় রাখার জন্য বর্তমানে যে সময় পাওয়া যায়, প্রস্তাবটি কার্যকর হলে সেই সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

বিশেষ করে যেসব কর্মীর পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে, তাদের জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মূল কর্মীর চাকরি ও ভিসার অবস্থানের সঙ্গে নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের অবস্থানও সম্পর্কিত হতে পারে। ফলে হঠাৎ চাকরি হারানোর পরিস্থিতিতে শুধু কর্মীকেই নয়, পুরো পরিবারকেই দ্রুত অভিবাসনসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।

এর আগে ২০২৪ সালের চূড়ান্ত নিয়মে যুক্তরাষ্ট্র সরকার এই ৬০ দিনের অবকাশ ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে চাকরি পরিবর্তনের সুযোগ আরও স্পষ্ট করেছিল। সেই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য ছিল চাকরি হারানো দক্ষ কর্মীকে নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজা এবং প্রয়োজনীয় আবেদন করার জন্য কিছুটা সময় দেওয়া। নতুন প্রস্তাবটি সেই ব্যবস্থার মূল সুবিধাটিই সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ। 

তবে নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলেও প্রতিটি পরিস্থিতির ফল একই হবে—এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কারও অনুমোদিত থাকার মেয়াদ, নতুন আবেদন, অন্য কোনো বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট মামলার পরিস্থিতির ওপর ফলাফল নির্ভর করতে পারে। তাই চাকরি হারানোর আশঙ্কায় থাকা কর্মীদের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী অভিবাসন আইনজীবী বা অনুমোদিত অভিবাসন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর