ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর পুনরাগমনে কঠোর অবস্থানের তাগিদ হিলারি ক্লিনটনের
হিলারি ক্লিনটন নেতানিয়াহু সরকারের তীব্র সমালোচনা করে আসন্ন নির্বাচনে নতুন নেতৃত্ব এলে কাজ করা সহজ হবে বলে মত দিয়েছেন
ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর পুনরাগমনে কঠোর অবস্থানের তাগিদ হিলারি ক্লিনটনের
ইসরায়েলের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার সরকারের বিতর্কিত নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন।
হিলারি ক্লিনটনের বিশ্লেষণে, ইসরায়েলের বর্তমান অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও উগ্র নীতি কেবল মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যতের জন্যই ঝুঁকি তৈরি করছে না, বরং এটি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ ও পররাষ্ট্রনীতির জন্যও বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নেতানিয়াহু সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর নেতিবাচক প্রভাব সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করছে বলে তিনি মনে করেন।
আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহু আবার জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল কী হওয়া উচিত, সে বিষয়ে আলোকপাত করে হিলারি বলেন, এই পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের উচিত হবে কূটনৈতিক নীতিতে অনেক বেশি কঠোর হওয়া।
এদিকে ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে আগামী সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন তুমুল উত্তেজনা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিরাজ করছে। দেশটির বিভিন্ন জরিপে ক্ষমতাসীন নেতানিয়াহুর জোটের তুলনায় বিরোধী দলগুলো জনপ্রিয়তায় কিছুটা এগিয়ে থাকার সংকেত দেখা গেলেও কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত একা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন সংখ্যার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেনি।
নেতানিয়াহু সপ্তমবারের মতো ইসরায়েলের শীর্ষ ক্ষমতায় বসার লক্ষ্য নিয়ে রাজনৈতিক মাঠ চষে বেড়ালেও জোটের ভঙ্গুর অবস্থা এবং বহুমুখী চ্যালেঞ্জ তাকে প্রবল সংকটের মুখে ফেলেছে। নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে তাকে এখন উগ্র ডানপন্থী রাজনৈতিক মিত্রদের সমর্থনের ওপর অনেকটাই নির্ভর করতে হচ্ছে। ফলে এই নির্বাচন কেবল নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্যই চরম পরীক্ষা নয়, বরং ইসরায়েলের বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার স্থায়িত্ব নির্ধারণেও এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হয়ে উঠেছে।