মেক্সিকো সীমান্তঘেঁষা টেক্সাসে নতুন পরজীবী শনাক্ত, পশু চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ জারি
মেক্সিকো সীমান্তের কাছে টেক্সাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ঘোড়ায় নতুন পরজীবী শনাক্ত, সংক্রমণ ঠেকাতে পশু চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ জারি হয়েছে।
মেক্সিকো সীমান্তঘেঁষা টেক্সাসে নতুন পরজীবী শনাক্ত, পশু চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ জারি
মেক্সিকো সীমান্তের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে একটি ঘোড়ার শরীরে নিউ ওয়ার্ল্ড স্ক্রুওয়ার্ম নামের বিপজ্জনক পরজীবীর সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এটি চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে ঘোড়ার শরীরে শনাক্ত হওয়া প্রথম নিশ্চিত সংক্রমণ। ঘটনাটি ঘটেছে মেক্সিকো সীমান্তবর্তী প্রেসিডিও কাউন্টিতে।
স্ক্রুওয়ার্ম এমন একটি পরজীবী, যার লার্ভা জীবন্ত প্রাণীর ক্ষতস্থানে প্রবেশ করে মাংস খেতে পারে। এতে আক্রান্ত প্রাণীর গুরুতর ক্ষতি এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে অতীতে এই পরজীবীর কারণে পশুসম্পদে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ১৯৬০-এর দশকে দেশটি থেকে রোগটি নির্মূল করা হয়েছিল।
নতুন সংক্রমণের খবর প্রকাশের পর টেক্সাস কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। টেক্সাস প্রাণী স্বাস্থ্য কমিশন প্রেসিডিও ও জেফ ডেভিস কাউন্টির নির্দিষ্ট সংক্রমিত অঞ্চলের বাইরে উষ্ণ রক্তের প্রাণী সরানোর ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ফলে ওই অঞ্চলের ঘোড়া ও অন্যান্য প্রাণী স্থানান্তরের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম মেনে চলতে হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আক্রান্ত ঘোড়াটি একটি খামারে কাজ করত এবং তার পেছনের পায়ের অংশে সংক্রমণ পাওয়া যায়। তবে ঘোড়াটি কীভাবে আক্রান্ত হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট উৎস এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। কর্তৃপক্ষও এখন পর্যন্ত সংক্রমণের উৎস সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
বিষয়টি শুধু পশুস্বাস্থ্যের জন্য নয়, টেক্সাসের কৃষি ও অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে প্রায় ১৮০ কোটি ডলার পর্যন্ত ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে গবাদিপশু, ঘোড়া এবং অন্যান্য প্রাণীসম্পদ খাত বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারে।
টেক্সাসে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে কারণ অঙ্গরাজ্যটির দক্ষিণাঞ্চল সরাসরি মেক্সিকো সীমান্তের সঙ্গে যুক্ত। এর আগে চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রে গবাদিপশুর মধ্যেও স্ক্রুওয়ার্ম নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। এখন ঘোড়ায় সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রাণী চলাচল ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ঘোড়ার মালিকদের নিয়মিত প্রাণীর শরীর পরীক্ষা করা, ক্ষত পরিষ্কার রাখা এবং মাছি নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অশ্বারোহী ফেডারেশনও ঘোড়ার ক্ষত দ্রুত শনাক্ত ও পরিচর্যা করার পাশাপাশি জীবাণু ও পরজীবী নিয়ন্ত্রণে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য এই খবরের সরাসরি প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত হলেও টেক্সাসে বসবাসকারী যারা খামার, কৃষি, পশুপালন, ঘোড়ার খামার বা প্রাণী পরিবহন-সংশ্লিষ্ট কাজে যুক্ত, তাদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় কাজ করা শ্রমিকদের স্থানীয় প্রাণী চলাচল সংক্রান্ত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
এখানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া রোগের খবর নয়। বর্তমানে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সংক্রমণটি প্রাণীর মধ্যে শনাক্ত হয়েছে। তাই সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর মতো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। খবরটির মূল উদ্বেগ হলো পশুসম্পদ রক্ষা এবং সংক্রমণ যেন আরও এলাকায় ছড়িয়ে না পড়ে তা নিশ্চিত করা।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে অভিবাসন পরিস্থিতিও সাম্প্রতিক সময়ে বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মেক্সিকোর উত্তর সীমান্তের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অভিবাসীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে অনেক অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা বাদ দিয়ে মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী শহরগুলোতেই থেকে যাচ্ছেন।
সিউদাদ হুয়ারেজের মতো সীমান্ত শহরের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে জায়গা খালি পড়ে থাকার কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অভিবাসন প্রবাহ কমে যাওয়ায় কিছু আশ্রয়কেন্দ্র বন্ধও হয়ে গেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা করা অভিবাসীদের জন্য সীমান্ত পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেক কঠিন হয়েছে।
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য এই বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার উদ্দেশ্যে অনিয়মিত সীমান্তপথ ব্যবহার করার চেষ্টা করলে আটক, বহিষ্কার এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে গুরুতর আইনি সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দালাল বা অবৈধ পথে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রলোভনমূলক তথ্য দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।