যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ আদালতে প্রথম মামলার আফগান নারীকে বহিষ্কার
বিশেষ আদালতে প্রথম মামলার আফগান নারী বহিষ্কার, আইএস-ঘনিষ্ঠ ষড়যন্ত্রের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঠানো হলো দেশে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ আদালতে প্রথম মামলার আফগান নারীকে বহিষ্কার
যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা একটি বিশেষ আদালতে প্রথম মামলা হওয়ার পর আফগান নারী নাজিরা হাজি জাদাকে আফগানিস্তানে বহিষ্কার করা হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগ শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, তাঁর বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
৪৭ বছর বয়সী হাজি জাদা টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থে বসবাস করতেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। গত জুলাইয়ে তাঁকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে এলিয়েন টেররিস্ট রিমুভাল কোর্টে বহিষ্কার কার্যক্রম শুরু হয়। আদালতটি ১৯৯৬ সালে গঠিত হলেও এর আগে কোনো মামলায় সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করা হয়নি। ফলে হাজি জাদার মামলাটিই আদালতটির প্রথম মামলা হিসেবে ইতিহাস তৈরি করে।
মার্কিন বিচার বিভাগের অভিযোগ ছিল, হাজি জাদা ইসলামিক স্টেট বা আইএস-অনুপ্রাণিত একটি ষড়যন্ত্রকে সমর্থন করেছিলেন। কর্তৃপক্ষ তাঁকে আফগানিস্তানের দুই ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত বলেও উল্লেখ করেছে। তাঁদের একজন ছিলেন হাজি জাদার ছেলে আবদুল্লাহ হাজি জাদা এবং অন্যজন তাঁর জামাতা নাসির আহমাদ তাওহেদি। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, তাঁরা ২০২৪ সালের নির্বাচনের দিন যুক্তরাষ্ট্রে হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের আগেই তা নস্যাৎ করা হয়।
হাজি জাদার আইনজীবীরা অবশ্য আদালতের কার্যক্রম ও মামলার প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, সরকার যেসব প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁকে বহিষ্কার করতে চাইছে, সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ তথ্য তাঁকে বা তাঁর আইনজীবীদের দেওয়া হয়নি। আইনজীবীরা মনে করেন, এতে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং আদালতটির সাংবিধানিক বৈধতা ভবিষ্যতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হাজি জাদা শেষ পর্যন্ত আটক ও বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করার অধিকার ছেড়ে দিয়ে আফগানিস্তানে ফেরত যেতে সম্মত হন। ২০ আগস্ট তাঁর বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি আফগানিস্তানে পৌঁছানোর পর আদালতের নথি প্রকাশ করা হয়।
মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চে এই ঘটনাকে জাতীয় নিরাপত্তা ও আইনের শাসনের জন্য সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একই সঙ্গে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিনও বলেছেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ দেওয়া হবে না এবং তাঁদের অপসারণে আইনসম্মত সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তির কারণে আদালতটির সাংবিধানিক ক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে যে বড় আইনি লড়াই হতে পারত, সেটি আপাতত হয়নি। হাজি জাদার মামলাকে কেন্দ্র করে এখন মূল প্রশ্ন হচ্ছে—সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে অভিবাসীদের বহিষ্কারের ক্ষেত্রে এই বিশেষ আদালত ভবিষ্যতে কতটা কার্যকর ও সাংবিধানিকভাবে টেকসই হয়।