ডালাসে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, ‘সমাজতন্ত্র পেরিয়ে কমিউনিজমের দিকে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা’
ডালাসে ট্রাম্পের বিস্ফোরক বার্তা, ‘সমাজতন্ত্র পেরিয়ে কমিউনিজমের দিকে ডেমোক্র্যাটরা’, মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে উত্তাপ বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রে।
ডালাসে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, ‘সমাজতন্ত্র পেরিয়ে কমিউনিজমের দিকে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা’
যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে অনুষ্ঠিত রিপাবলিকান দলের প্রথম মধ্যবর্তী নির্বাচনী সম্মেলনে ২০২৬ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে তীব্র রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি বারবার সমাজতন্ত্র ও কমিউনিজমের প্রসঙ্গ সামনে আনেন এবং রিপাবলিকান ভোটারদের নভেম্বরের নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
ডালাসের আমেরিকান এয়ারলাইনস সেন্টারে ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয় রিপাবলিকান দলের মধ্যবর্তী নির্বাচনী সম্মেলন। এটি ছিল জাতীয় পর্যায়ে রিপাবলিকান দলের প্রথম এমন মধ্যবর্তী নির্বাচনী সম্মেলন। আগামী ৩ নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটির প্রার্থী ও সমর্থকদের সংগঠিত করাই ছিল সম্মেলনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তীব্র আক্রমণ করেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল ডেমোক্র্যাটদের একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রকে বামপন্থী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার দিকে নিয়ে যেতে চাইছে। ট্রাম্পের দাবি, তিনি আগে সতর্ক করেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হবে না, কিন্তু তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী ডেমোক্র্যাটরা সমাজতন্ত্রের ধাপও অতিক্রম করে কমিউনিজমের দিকে এগিয়ে গেছে।
এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সম্মেলনে ‘কমিউনিজম’ ও ‘সমাজতন্ত্র’ রিপাবলিকান প্রচারের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক বার্তায় পরিণত হয়। রিপাবলিকান নেতারাও ডেমোক্র্যাটদের প্রগতিশীল ও বামঘেঁষা রাজনীতির সমালোচনা করেন। হাউসের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা স্টিভ স্ক্যালিস ডেমোক্র্যাটিক পার্টির একটি অংশকে ‘কমিউনিস্ট’ বলে আক্রমণ করেন বলে রোল কলের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রাম্পের বক্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়ানোর আহ্বান। তিনি সমর্থকদের এমনভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে বলেন যেন তিনিই ব্যালটে প্রার্থী। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের লক্ষ্য ছিল তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য ভোটারদের উৎসাহিত করা।
ডালাসের সম্মেলনে ট্রাম্প শুধু ডেমোক্র্যাটদের আক্রমণই করেননি, রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়ার একটি বড় প্রতিশ্রুতিও দেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্কদের প্রত্যেককে ৫ হাজার ডলারের ‘ডিভিডেন্ড’ দেওয়ার প্রস্তাবের কথা বলেন। তবে এই অর্থ কীভাবে দেওয়া হবে, এর আইনগত ভিত্তি কী এবং অর্থের উৎস কী হবে এসব প্রশ্ন এখনো স্পষ্ট নয়। প্রায় ২৭ কোটি প্রাপ্তবয়স্ককে ৫ হাজার ডলার করে দিলে ব্যয়ের পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে।
সম্মেলনে আরেকটি চমক আসে পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যানের একটি ভিডিও বার্তায়। তিনি রিপাবলিকান সিনেটর ডেভ ম্যাককরমিককে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় নিজেকে ‘কমন-সেন্স ডেমোক্র্যাট’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সমাজতন্ত্র ও চরমপন্থার বিরোধিতা করার কথা বলেন। তবে ফেটারম্যান দল পরিবর্তন করছেন—এমন কোনো ঘোষণা দেননি এবং নিজেকে ডেমোক্র্যাট হিসেবেই উল্লেখ করেছেন।
সম্মেলনটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন রিপাবলিকানরা ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে। ফলে নির্বাচনকে ঘিরে দুই দলের রাজনৈতিক ভাষা ক্রমেই আরও তীব্র হয়ে উঠছে।
রিপাবলিকান সম্মেলনে ট্রাম্পের বক্তব্য থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে তিনি শুধু কংগ্রেসের আসন নিয়ে সাধারণ নির্বাচন হিসেবে দেখছেন না; বরং এটিকে তাঁর প্রশাসনের নীতি ও রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ওপর গণভোট হিসেবেও তুলে ধরতে চাইছেন। ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে ‘সমাজতন্ত্র’ ও ‘কমিউনিজম’-এর অভিযোগ তাঁর নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
তবে ট্রাম্পের কমিউনিজম-সংক্রান্ত বক্তব্য একটি রাজনৈতিক দাবি। ডেমোক্র্যাটিক পার্টি যুক্তরাষ্ট্রকে কমিউনিস্ট রাষ্ট্রে পরিণত করতে চাইছে এমন দাবির পক্ষে এখানে কোনো স্বাধীন প্রমাণ উপস্থাপিত হয়নি। তাই সংবাদে এটি ট্রাম্পের রাজনৈতিক বক্তব্য ও অভিযোগ হিসেবেই উপস্থাপন করা গুরুত্বপূর্ণ।