গ্রিজলি ভালুকের ভয়াবহ হামলায় জীবন বদলে গেল হাইকার নারীর

কুকুর নিয়ে হাঁটতে বেরিয়ে হঠাৎ গ্রিজলি ভালুকের আক্রমণের শিকার এক নারী। গুরুতর আঘাতে বদলে গেছে তাঁর জীবন, শুরু হয়েছে দীর্ঘ চিকিৎসা ও সুস্থতার কঠিন লড়াই।

গ্রিজলি ভালুকের ভয়াবহ হামলায় জীবন বদলে গেল হাইকার নারীর

গ্রিজলি ভালুকের ভয়াবহ হামলায় জীবন বদলে গেল হাইকার নারীর


যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা অঙ্গরাজ্যে কুকুর নিয়ে হাঁটতে বের হয়ে ভয়াবহ গ্রিজলি ভালুকের হামলার শিকার হয়েছেন এক নারী। আকস্মিক ওই হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে তাঁর জন্য তৈরি অনলাইন তহবিল সংগ্রহের পেজে জানানো হয়েছে, তাঁর আঘাত এতটাই গুরুতর যে সেগুলো তাঁর জীবনে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনতে পারে। বর্তমানে তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য সিয়াটেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


ঘটনাটি ঘটে গত ৩১ আগস্ট সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে। মন্টানার কলাম্বিয়া ফলস শহরের উত্তরে সিডার ফ্ল্যাটস ট্রেইল এলাকায় নিজের কুকুরকে নিয়ে হাঁটার সময় ওই নারী হঠাৎ একটি ভালুকের মুখোমুখি হন। ঘটনার পর তিনি জরুরি সহায়তার জন্য যোগাযোগ করেন এবং গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে কর্মকর্তারা ভালুকটির প্রজাতি নিশ্চিত করতে তদন্ত শুরু করেন।


পরবর্তী তদন্তে মন্টানা ফিশ, ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড পার্কসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ভালুকের পায়ের ছাপসহ বিভিন্ন আলামত পরীক্ষা করেন। এসব তথ্য বিশ্লেষণের পর তারা নিশ্চিত হন, হামলাটি একটি মাদি গ্রিজলি ভালুকের। ওই ভালুকের সঙ্গে অন্তত একটি শাবকও ছিল। ঘটনাস্থলের কাছাকাছি প্রায় ১০০ গজ দূরে একটি হরিণের মৃতদেহও পাওয়া যায়, যা ভালুকটি খাবারের জন্য সেখানে জমিয়ে রেখেছিল বলে ধারণা করা হয়।

বন্যপ্রাণী কর্মকর্তাদের মতে, শাবকটির উপস্থিতি এবং কাছাকাছি থাকা খাবারের উৎস—দুই বিষয়ই ভালুকটির আচরণে ভূমিকা রাখতে পারে। এসব পরিস্থিতি বিবেচনা করে মন্টানা ফিশ, ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড পার্কস ঘটনাটিকে একটি আকস্মিক ও আত্মরক্ষামূলক হামলা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অর্থাৎ, কর্মকর্তাদের ধারণা অনুযায়ী ভালুকটি মানুষকে শিকার করার উদ্দেশ্যে হামলা করেনি; বরং হঠাৎ মুখোমুখি হওয়ার পর নিজের শাবক ও খাবারের উৎস রক্ষার প্রতিক্রিয়ায় আক্রমণ করেছে।

হামলার শিকার নারীর পরিচয় সরকারি কর্মকর্তারা প্রকাশ করেননি। এমনকি তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্যও মন্টানা ফিশ, ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড পার্কস প্রকাশ করেনি। তবে তাঁর চিকিৎসা ও পুনরুদ্ধারে সহায়তার জন্য তৈরি একটি অনলাইন তহবিল সংগ্রহের পেজে তাঁকে অব্রে নামে পরিচয় করানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, হামলার সময় তাঁর সঙ্গে থাকা কুকুরটির নাম ফ্র্যাঙ্কি এবং কুকুরটি হামলায় আহত হয়নি। পরে তাকে পরিবারের সদস্য ও পরিচিতদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তহবিল সংগ্রহের পেজে আরও বলা হয়েছে, অব্রেকে উত্তর-পশ্চিম মন্টানা থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিয়াটেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁর আঘাতকে সেখানে ব্যাপক ও জীবন বদলে দেওয়ার মতো হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সামনে তাঁর দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনরুদ্ধারের প্রয়োজন হতে পারে। চিকিৎসা, যাতায়াত এবং জীবনযাপনের ব্যয় সামলাতে তাঁর পরিবার ও স্বজনদের সহায়তার জন্য তহবিল সংগ্রহ করা হচ্ছে।


অব্রেকে ওই তহবিল সংগ্রহের পেজে একজন অভিজ্ঞ প্রকৃতিপ্রেমী ও দীর্ঘদিনের ট্রেইল ব্যবহারকারী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, মন্টানা ছাড়াও ওয়াইওমিং ও কলোরাডোর বিভিন্ন এলাকায় তিনি সামনের সারির ও দুর্গম ট্রেইলে হাঁটার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। হামলার পর তাঁর পরিবার জানিয়েছে, এখন তাদের সামনে সুস্থ হয়ে ওঠার একটি দীর্ঘ ও অনিশ্চিত পথ রয়েছে।


ঘটনার পর মানুষের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সিডার ফ্ল্যাটস ট্রেইল এলাকার পুরো অংশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জনসাধারণের নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকাটি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তবে তদন্তে হামলাটিকে আত্মরক্ষামূলক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করার পর ওই ভালুকটিকে খুঁজে বের করে ধরে ফেলা বা অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি কর্তৃপক্ষ।


মন্টানা ফিশ, ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড পার্কসের পরিচালক ক্রিস্টি ক্লার্ক ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও অপ্রত্যাশিত আত্মরক্ষামূলক সংঘর্ষ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি আহত নারী ও তাঁর স্বজনদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ঘটনাটি আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলের কাছাকাছি জনপ্রিয় হাঁটার পথেও মানুষের সঙ্গে ভালুকের হঠাৎ মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

মন্টানায় সেপ্টেম্বর মাসকে ‘ভালুক সম্পর্কে সচেতনতা মাস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে। রাজ্যের বন্যপ্রাণী কর্তৃপক্ষ এ সময় মানুষকে ভালুকের উপস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক থাকার এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলে নিরাপত্তা মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। কলাম্বিয়া ফলসের এই ঘটনা সেই সতর্কতার প্রয়োজনীয়তাকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।


ভয়াবহ এই হামলার পর এখন অব্রের সামনে দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পথ। তাঁর পরিবার ও স্বজনেরা আশা করছেন, গুরুতর আঘাতের ধাক্কা সামলে তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠবেন এবং একদিন আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর