জরুরি স্লাইড খুলে যাওয়ার পরও বিমানে উঠলেন ট্রাম্প, বললেন নিরাপদ না হলে উঠতাম না
কাতারের উপহার দেওয়া প্রেসিডেন্টের বিমানে জরুরি স্লাইড খুলে যাওয়ায় যাত্রা বিলম্বিত হয়, পরে ট্রাম্প নিরাপদ বলেই বিমানে ওঠেন।
জরুরি স্লাইড খুলে যাওয়ার পরও বিমানে উঠলেন ট্রাম্প, বললেন নিরাপদ না হলে উঠতাম না
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বহনকারী নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান উড্ডয়নের ঠিক আগে হঠাৎ জরুরি নির্গমন স্লাইড খুলে যাওয়াকে ঘিরে সাময়িক উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে ঘটনাটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ট্রাম্প নিজেই বিমানটির নিরাপত্তা নিয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে বিমানে ওঠেন। সাংবাদিকরা যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, বিমানটি উড্ডয়নের জন্য নিরাপদ কি না, ট্রাম্প জবাব দেন, “হ্যাঁ, আমি নিশ্চিত—নিরাপদ না হলে আমি এই বিমানে উঠতাম না।”
ঘটনাটি ঘটে ৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে। ট্রাম্প সেখান থেকে টেক্সাসের ডালাসে রিপাবলিকান পার্টির মধ্যবর্তী নির্বাচনী সম্মেলনে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। বিমানে ওঠার আগে হঠাৎ বিমানের এক পাশের জরুরি স্লাইড বেরিয়ে আসে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছু সময়ের জন্য ট্রাম্পকে তাঁর হেলিকপ্টার মেরিন ওয়ানেই অপেক্ষা করতে হয়।
ট্রাম্পের প্রায় ২০ মিনিট হেলিকপ্টারে অপেক্ষা করেন। এ সময় সামরিক কর্মীরা বিমানটির জরুরি স্লাইড নিয়ে কাজ করেন। পরে স্লাইডটি খুলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং বিমানটি আবার উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুত করা হয়।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, তাঁরা বিমানের জরুরি স্লাইড পরীক্ষা করছিলেন এবং সবকিছু ঠিকঠাক কাজ করছে কি না, সেটি নিশ্চিত করাই ছিল উদ্দেশ্য। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে একজন বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত ব্যক্তির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, জরুরি স্লাইডটি দুর্ঘটনাবশত সক্রিয় হয়েছিল।
এই ঘটনার সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত আসে যখন একজন সাংবাদিক সরাসরি ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন—তিনি কি নিশ্চিত যে বিমানটি উড্ডয়নের জন্য নিরাপদ? ট্রাম্প তখন বলেন, “হ্যাঁ, আমি নিশ্চিত—নিরাপদ না হলে আমি এই বিমানে উঠতাম না।” তাঁর এই মন্তব্য দ্রুত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর ট্রাম্প ওই বিমানেই ওঠেন এবং ডালাসের উদ্দেশে রওনা দেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী জানায়, জরুরি স্লাইড সক্রিয় হওয়ার পরও বিমানটি নিরাপদভাবে নির্ধারিত পথে যাত্রা অব্যাহত রাখে। ডালাসে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করে।
বিমানটি বিশেষভাবে আলোচনায় আসার আরেকটি কারণ হলো—এটি কাতার সরকারের কাছ থেকে পাওয়া একটি বোয়িং ৭৪৭-৮। ট্রাম্প গত ১ জুলাই থেকে এই বিমান ব্যবহার শুরু করেন। বিমানটি প্রেসিডেন্টের ব্যবহারের উপযোগী করে দ্রুত সংস্কার ও পরিবর্তন করা হয়েছিল।
বিমানের নিরাপত্তা নিয়ে অবশ্য আগেও আলোচনা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, বিমানটিতে আরও কিছু নিরাপত্তা উন্নয়নের কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, অক্টোবরে বিমানটিকে প্রায় ৬০ দিনের জন্য পরিষেবার বাইরে নেওয়া হতে পারে এবং ওই সময়ে নির্দিষ্ট কিছু নিরাপত্তা সংযোজন করা হবে। তবে কী ধরনের নিরাপত্তা উন্নয়ন করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
বোয়িং ৭৪৭-৮ ধরনের বিমানে সাধারণত একাধিক জরুরি স্ফীতিযোগ্য স্লাইড থাকে। এগুলো জরুরি পরিস্থিতিতে যাত্রীদের দ্রুত বিমান থেকে মাটিতে নামানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। প্রায় ৩০ ফুট উচ্চতা থেকে যাত্রীদের নিরাপদে নামতে সহায়তা করাই এসব স্লাইডের অন্যতম উদ্দেশ্য।
ঘটনার সময় বিমানের সামনের ডান পাশের একটি জরুরি স্লাইড বেরিয়ে আসে। ট্রাম্প সাধারণত যে দরজা দিয়ে বিমানে ওঠেন, সেটি এর বিপরীত পাশে। ফলে সরাসরি ট্রাম্পের ওঠার দরজায় সমস্যা দেখা দেয়নি। তারপরও নিরাপত্তার কারণে উড্ডয়নের আগে বিষয়টি পরীক্ষা করা হয়।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জরুরি স্লাইড বেরিয়ে আসা মানেই বিমানটি উড্ডয়নের জন্য অনিরাপদ—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়া ঠিক নয়। বিমান চলাচলে যেকোনো নিরাপত্তা সরঞ্জামের অস্বাভাবিক সক্রিয়তা পরীক্ষা করা হয় এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ সরিয়ে বা পুনরায় পরীক্ষা করে বিমানকে প্রস্তুত করা হয়। এই ঘটনাতেও সেটিই করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ রয়েছে।
তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ নিয়ে শুরুতে কিছুটা অস্পষ্টতা ছিল। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, স্লাইড পরীক্ষা করা হচ্ছিল এবং সবকিছু ঠিকমতো কাজ করছে কি না, তা নিশ্চিত করা হচ্ছিল। অন্যদিকে রয়টার্স একজন বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত ব্যক্তির বরাত দিয়ে জানায়, সামরিক কর্মীদের কারণে স্লাইডটি দুর্ঘটনাবশত সক্রিয় হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীও তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনার বিস্তারিত কারণ প্রকাশ করেনি।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও পরে বলা হয়, বিমানের স্লাইড পরীক্ষা করা হয়েছিল এবং বিমানটি ডালাসের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি বিমানটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন না।
ঘটনাটি আরও আলোচনায় আসে কারণ ট্রাম্পের নতুন বিমানটি কাতার সরকারের উপহার হিসেবে পাওয়া। বিমানটি নিয়ে এর আগেও রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত আলোচনা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য বিমানটির নিরাপত্তা ও ব্যবহারের বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
জরুরি স্লাইডের ঘটনায় সাময়িক বিলম্ব হলেও ট্রাম্প বিমানটিতে ওঠেন এবং ডালাসে পৌঁছান। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যাত্রাপথে বড় কোনো সমস্যা দেখা দেয়নি এবং বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করেছে।